বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

● নিয়ম করে প্রতিদিনের পত্রিকা, কয়েকটা সাময়িকী বা বিবিধ প্রকাশনা পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নৈমিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বিশ্লেষণে চোখ রাখুন। প্রয়োজনীয় তথ্য টুকে রাখতে পারেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদেশ ও কূটনীতি, উন্নয়ন ও অর্থনীতি এবং সাহিত্য পাতা নিয়মিত পড়তে পারলে নিজের চিন্তার জগৎ প্রসারিত হবে; প্রতিযোগিতামূলক যেকোনো পরীক্ষায় বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এগুলো কাজে দেবে। এ ছাড়া বিভিন্ন উপলক্ষ যেমন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিব শতবর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষসহ লালন স্মরণোৎসব, মধুমেলা, রবীন্দ্র বা নজরুল জন্মজয়ন্তীতে প্রকাশিত ক্রোড়পত্র সংগ্রহে রেখে সময় করে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।

● সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সৃজনশীল উদ্যোগ, পড়াশোনা ও চাকরি প্রস্তুতিসংক্রান্ত বিভিন্ন গ্রুপ রয়েছে, সেগুলোতে যুক্ত থেকে সদস্যদের প্রস্তুতিমূলক পোস্ট, প্রশ্নোত্তর বা প্রয়োজনীয় লিংক ঘেটে ঝালিয়ে নিতে পারেন নিজের প্রস্তুতি-পরিধি। যেসব তথ্য-সংবাদ চোখে পড়ে তা অনুশীলন করার মাধ্যমে নিজেকে শাণিত করার সুযোগ এখানে। ভার্চ্যুয়াল ‘গ্রুপ স্টাডি’ বা অনলাইনে পড়াশোনা চাকরির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর। তবে নেতিবাচক, বিভ্রান্তিমূলক ভুল তথ্যের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন, না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

● চলতি পথেও প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। আপনি যে যানবাহনেই উঠেন না কেন, শহরের রাস্তায় ছোটখাট যানজটে পড়তেই হবে। মুঠোফোনে চোখ না ঘষে জানালায় চোখ রাখুন, অনেক কিছুই দেখা ও শেখা হয়ে যাবে। যেমন বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, ব্যানার এমনকি প্রতিষ্ঠানের নামফলক পড়ে অনেক কিছু জানা যায়। কোনো বিলবোর্ড বা ব্যানারে হয়তো বিনিযোগ, নতুন শিল্প স্থাপন, ভর্তুকি, উৎপাদনসহ নানা তথ্যের হালনাগাদ পাবেন আবার কোনটিতে সিমেন্টের উপাদান, টুথপেস্টের উপকরণ বা শ্যাম্পুর কার্যকারিতা চোখে পড়বে। দেখে শেখার অভ্যাসটা রপ্ত করে ফেলুন, চাকরির পরীক্ষা এমনকি বাস্তব ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবেন। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় তাৎক্ষণিকভাবে বহুনির্বাচনী প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া বা লিখিত অংশের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে এগুলো পরোক্ষভাবে কাজে আসে। একইভাবে ঐতিহাসিক নিদর্শন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠান ভ্রমণ করলে সেগুলোর আদ্যপান্ত জেনে নিন। নাম, লোগো, স্লোগান ও ভৌগোলিক অবস্থান ইত্যাদি বিষয় জেনে নেওয়ার চেষ্টা করলে সহজে মনে থাকে। পরীক্ষার আগে স্বল্প সময়ে অনেক কিছু পড়ার চাপ কমে যাবে।

● সময় করে বেসিক কম্পিউটার দক্ষতা রপ্ত করে নিন। অন্তত মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, পাওয়ার পয়েন্ট, এক্সেল। সম্ভব হলে আরও বেশি কিছু যেমন ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর, ভিডিও সম্পাদনা, অ্যানিমেশন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি শিখে নিতে পারেন। পছন্দসই বিষয়ে পারদর্শী হতে পারলে ভালো। ছাত্রাবস্থায় এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। মোটকথা আপনি যে বিষয়েই পড়াশোনা করেন না কেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অংশের উত্তর দিতে এ অংশে ন্যূনতম দক্ষতা থাকতেই হবে। এগুলো আউটসোর্সিং বা খণ্ডকালীন কাজের ক্ষেত্রেও সহায়ক।

● ‘ফ্রি হ্যান্ডে’ শুদ্ধভাবে ইংরেজি লেখা শিখতে হবে। বলার অভ্যাস থাকাটাও জরুরি। চাকরির প্রস্তুতি কিংবা কর্মক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা আপনাকে অনেকখানি এগিয়ে রাখবে, বাড়তি সুবিধা দেবে। তাই পারতে হবে, পড়তে হবে। ভালো বই, তা সে ব্যাকরণ বা ভোকাবুলারি হোক পড়ে ফেলুন। ইংরেজি পত্রিকা, সাময়িকী পড়ে বা ইংরেজি খবর, সিনেমা দেখেও শব্দ সঞ্চয় বাড়াতে পারেন। ইংরেজি কথোপকথনের ক্ষেত্রে ইউটিউব থেকে ছোট ছোট ভিডিও দেখতে পারেন। বন্ধু বা সহকর্মী কয়েকজন মিলে গ্রুপ করে কথোপকথন চালিয়ে গেলেও উপকার পাবেন। নিজের কথা মুঠোফোনে রেকর্ড করে শুনলেও নিজের অবস্থা ও করণীয় বুঝতে পারবেন।

● আর কিছুটা সময় মানুষকে দিন, নিজের জন্য। মানুষের উপকার বা প্রকৃতি ও পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করে এমন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত হতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক, আবৃত্তি বা বিজ্ঞান ক্লাবেও কাজ করতে পারেন। এরকম বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত থেকে অন্যদের সঙ্গে মিশে বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি, উন্নত জীবনবোধ জাগ্রত হয়, চিন্তার জগৎ প্রসারিত করা যায়; আত্মবিশ্বাস বাড়ে, প্রতিকূল পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে সহায়ক হয়। তাই পড়াশোনার বাইরে যতটুকু সময়ই পান না কেন, গঠনমূলক সাংগঠনিক কাজে ব্যয় করুন, ভবিষ্যতে চাকরির প্রস্তুতি বা কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাবেন।

চাকরি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন