বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কোন পদে কী চাকরি

সুপারশপ পরিচালনার জন্য কয়েক পদে জনবল প্রয়োজন হয়। এসব পদের মধ্যে রয়েছে বিক্রয় সহকারী, ডেলিভারিম্যান, ক্যাশিয়ার, ফ্লোর সুপারভাইজার, ফ্লোর ইনচার্জ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনচার্জ, ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজার ও নিরাপত্তাকর্মী। বেশির ভাগ পদে তরুণ-তরুণীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আর পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ঝামেলাহীন কাজ ও শিফটে ডিউটি হওয়ার কারণে অনেক তরুণ-তরুণী আগ্রহী হচ্ছেন এ পেশায়। কিছু সুপারশপে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে। তাই অনেকে স্নাতকে অধ্যয়ন অবস্থায় চাকরি করছেন। কেউ এক সেমিস্টার থেকে আরেক সেমিস্টারে ওঠার মধ্যে বিরতির সময়টুকু কাজে লাগিয়ে চাকরি করছেন। আবার অনেকে স্নাতক শেষে পূর্ণকালীন হিসেবে চাকরি করছেন।


যোগ্যতা যা লাগবে

কয়েকটি সুপারশপ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিক্রয় সহকারী ও ক্যাশিয়ার পদে সাধারণত এসএসসি বা এইচএসসি পাস প্রার্থী চাওয়া হয়। এসব পদে খণ্ডকালীন কাজ করারও সুযোগ রয়েছে। ফলে তরুণ-তরুণীরা বেশি আবেদন করেন। বিশেষ করে স্নাতকে অধ্যয়ন শিক্ষার্থীরা বেশি আবেদন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরা আবেদন করেন। তবে ম্যানেজারসহ বাকি পদগুলোতে স্নাতক পাস প্রার্থী চাওয়া হয়। সেসব পদে পূর্ণকালীন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিক্রয় সহকারী ও ক্যাশিয়ার পদে প্রতিষ্ঠানভেদে বেতন ৮-১৫ হাজার টাকা। বাকি পদগুলোতে বেতন যোগ্যতা অনুসারে ধরা হয়। যোগ্যতা অনুসারে এক লাখ টাকা বেতনেরও চাকরি আছে এতে।

default-image

বাড়ছে সুপারশপ

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ে চেইন সুপারশপ স্বপ্নর আউটলেট। এসব আউটলেটে কর্মরতদের বেশির ভাগই তরুণ-তরুণী। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং মো. মাহাদী ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে স্বপ্নের আউটলেটের সংখ্যা ১৯০টি। শুধু ঢাকা নয়, দেশের ৩৪ জেলায় রয়েছে আমাদের আউটলেট। এসব আউটলেটে প্রায় তিন হাজার কর্মী বিভিন্ন পদে কাজ করছেন। এর মধ্যে বিক্রয় সহকারী ও ক্যাশিয়ার পদে প্রতি মাসে এমনকি প্রতি সপ্তাহে নিয়োগ দেওয়া হয়। আউটলেটগুলোর কর্মপরিবেশ সুন্দর ও নিরাপদ হওয়ায় তরুণদের পাশাপাশি তরুণীরাও আগ্রহী হচ্ছেন এসব পেশায়। বর্তমানে আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী নারী।

তিনি বলেন, স্বপ্নতে চাকরির পাশাপাশি অনেকে এখানে পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছেন। কেউ সবজি সরবরাহ করেন, আবার কেউ মাংস সরবরাহ করেন। বিশেষ করে জেলা শহরগুলোতে অনেক তরুণ উদ্যোক্তা আমাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের ঢাকায় আসতে হয় না। গ্রামে থেকেই তাঁরা চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের তৈরি করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে স্বপ্ন শুধু বেকার সমস্যার সমাধান করছে না, উদ্যোক্তা তৈরিতেও সাহায্য করছে। আমাদের দেশের বেকার সমস্যার অন্যতম ভালো সমাধান হতে পারে সুপারশপের চাকরি।

স্বপ্নতে এক বছর ধরে বিক্রয় সহকারী হিসেবে কাজ করছেন আমেনা আক্তার মুক্তা। তিনি বলেন, বসে থাকার চেয়ে কোনো কিছু করা ভালো। কিছু টাকা আয় হয়, নিজের হাতখরচ চলে পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করা যায়। এইচএসসি পরীক্ষার পর স্বপ্নতে কাজ শুরু করি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিও নিতে থাকি। আট ঘণ্টা চাকরির পর বাকি সময় পড়াশোনা করি।

স্বপ্ন, আগোরা, মীনা বাজার ও ডেইলি শপিংয়ের মতো বড় বড় ব্র্যান্ড সুপারশপের পাশাপাশি এখন অলিগলিতে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট সুপারশপ। শুধু রাজধানীতেই নয়, রাজধানীর বাইরে বিভাগীয় ও জেলা শহরে জনপ্রিয় হচ্ছে সুপারশপ। পড়ালেখার পাশাপাশি যে চাকরি করা যায় সে ধারণাও পরিচিতি পাচ্ছে জেলা শহরগুলোতে সুপারশপের মাধ্যমে।

সুপারশপ মীনা বাজার থেকে জানানো হয়, ঢাকায় ১৬টি এবং ঢাকার বাইরে একটি শাখা রয়েছে তাদের। এসএসসি থেকে স্নাতক পাস প্রার্থীদের নেওয়া হয় বিভিন্ন পদে। সেলসম্যান ও ক্যাশিয়ার পদে আবেদনের বয়সসীমা ১৮-৩০ বছর। নারী-পুরুষ সবার জন্য রয়েছে সমান সুযোগ। প্রতিষ্ঠানটিতে ডিউটি টাইম ৯ ঘণ্টা। শুদ্ধভাবে বাংলা বলার পাশাপাশি ভালো ইংরেজি পারলে সেলসম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

চলে দিনরাত কাজ

সুপারশপগুলোতে চাল, ডাল, তেল, মসলা, ফল থেকে শুরু করে কাঁচাবাজার ও গৃহস্থালির সব পণ্যই পাওয়া যায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে। এসব পণ্যের গুণগতমান বজায় রেখে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে চলে বিশাল কর্মযজ্ঞ। এ বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল প্রথম আলোকে বলেন, আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চেইনশপ ‘ডেইলি শপিং’–এর ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মিলে ৬০টি আউটলেট রয়েছে। আউটলেটগুলোতে শিফটে কাজ করার সুযোগ আছে। এক শিফটে ডিউটি টাইম আট ঘণ্টা করে। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আউটলেট খোলা থাকলেও আগে-পরে অনেক কাজ চলে। যেমন প্রতিদিন মাছ, মাংস ও সবজি নিয়ে আসতে হয়। দেখা যায়, কেউ ভোর চারটা থেকে কাজ শুরু করেন। কারও ডিউটি আবার রাত দুইটায় শুরু হয়। সবজি আনতে যান। দিনে যেমন বিক্রির জন্য কর্মী লাগে তেমনি রাতে এসব পণ্য বিভিন্ন জায়গা থেকে সতেজ অবস্থায় আনতে প্রয়োজন হয় রাতের কর্মী। ফলে সুপারশপ ব্যবস্থাপনা ঘিরে দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই কাজ চলে।


ডেলিভারির চাকরিও আছে

সুপারশপে যেমন রয়েছে সব পণ্য পাওয়ার সুবিধা, তেমনি চাইলে তারা প্রয়োজনীয় পণ্যটি বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এ জন্য এখন অনেক সুপারশপ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ডেলিভারিম্যান নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কিছু সুপারশপ আবার হোম সার্ভিসের জন্য তৃতীয় কোনো ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের জন্য চুক্তি করে। ফলে ডেলিভারি পেশাতেও চাকরির বাজার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে সুপারশপগুলো।

মীনা বাজারে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করনে ফিরোজ আহমেদ। ঢাকা কলেজে স্নাতকে পড়ার পাশাপাশি এখানে চাকরি করছেন। তিনি বলেন, শিফট পরিবর্তন করে কাজ করার সুবিধা থাকায় পড়ালেখায় অসুবিধা হয় না। দুই শিফটে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এখানে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা এবং বিকেল ৩টা-রাত ১১টা পর্যন্ত। শিফট পরিবর্তন করার দরকার হলে আগে থেকে ইনচার্জকে বলতে হয়।

জরুরি যে যোগ্যতা

ফিরোজ আহমেদ বলেন, বিক্রয় সহকারী ও ক্যাশিয়ার পদের জন্য সহজ, সাবলীল ও সুন্দর উপস্থাপনা এবং শুদ্ধ বাংলা ও ইংরেজি বলতে পারার দক্ষতা অন্যতম বড় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া যাঁর আচার-ব্যবহার সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য এবং সহজেই ক্রেতার বন্ধু হয়ে যেতে পারেন, তাঁদের বেশি নিয়োগ দিতে চায় সুপারশপগুলো।

পড়া ও চাকরি একসঙ্গে

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন তানভীর হোসেন। পড়ার পাশাপাশি আগোরা সুপারশপে বিক্রয় সহকারী হিসেবে চাকরি করছেন। তিনি বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি চাকরি করতে তেমন কষ্ট হয় না। মাসে চারদিন ছুটি থাকে। এ ছাড়া পরীক্ষা থাকলে আগে থেকে সুপারভাইজারকে জানালে তিনি ছুটির ব্যবস্থা করে দেন।

তানভীর বলেন, শুধু আগোরা নয়, যেকোনো সুপারশপে কেউ বিক্রয় সহকারী হিসেবে চাকরি করতে চাইলে সুপারশপে রাখা বাক্স বা রিসিপশনে সিভি দিয়ে যেতে পারেন। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সুবিধামতো সময়ে ফোন করে ডেকে নেয়। এখন অনলাইনে অনেক প্রতিষ্ঠানের ই-মেইলে সিভি পাঠানো যায়। এ ছাড়া সুপারশপ চাকরি করে এমন পরিচিতজনদের আগে থেকে বলে রাখলে তাঁরাও চাকরি পেতে সহায়তা করেন।

চাকরি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন