সে জন্য পরের তালিকায় থাকা নন-ক্যাডার প্রার্থীরাও মেধাতালিকায় এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের চেয়ে ভালো পদে নিয়োগ পান।’ এতে একধরনের বৈষম্য হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে পিএসসির কিছু করার থাকে না। এ কারণে বিধিমালা সংশোধন করে নন-ক্যাডারেও পছন্দের পদের তালিকা নির্বাচনের সুযোগ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নব নিয়োগ শাখা সূত্রে জানা গেছে, ৪৫তম বিসিএস সামনে রেখে সম্প্রতি পিএসসি নন-ক্যাডারের শূন্য পদের তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে পিএসসি নন-ক্যাডারের শূন্য পদের তালিকা দিতে জনপ্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে আহ্বান জানিয়েছে।

পিএসসি থেকে পাঠানো চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নব নিয়োগ শাখার একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন।

পিএসসি জানায়, ২৯তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে নিয়োগ শুরু হয়েছে। এত দিন বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর চাকরিপ্রার্থীরা ক্রমানুসারে তাঁদের পছন্দের ক্যাডার নির্বাচন করতে পারতেন। সে অনুসারেই মেধার ওপর নির্ভর করে তাঁরা ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ পেতেন। যাঁরা বিসিএসে পাস করেছেন, কিন্তু কোনো ক্যাডার পান না, তাঁদের নন-ক্যাডারের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়। পরে শূন্য পদ আসার ওপর নির্ভর করে এই নন-ক্যাডারের অপেক্ষমাণ প্রার্থীরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে নবম থেকে ১২ নম্বর গ্রেডের বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ পান।

৩৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগ পাওয়া প্রাথমিকের একজন প্রধান শিক্ষক নাম গোপন করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, মেধাতালিকায় তাঁর পরের অবস্থানে থাকা কয়েকজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, বন কর্মকর্তা বা খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

এটি হওয়ার কারণ ছিল, তাঁর নিয়োগের সময় পিএসসির হাতে কেবল প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ ছিল। কিন্তু তালিকায় যাঁরা পরে ছিলেন, তাঁদের নিয়োগের সময় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, বন কর্মকর্তা বা খাদ্য পরিদর্শকের শূন্য পদ পিএসসিতে আসে। এ কারণে তাঁরা ওই সব পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রাথমিকের এই প্রধান শিক্ষকের মতে, রাজস্ব কর্মকর্তা, বন কর্মকর্তা বা খাদ্য পরিদর্শকের পদগুলো প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকের থেকে বেশি আকর্ষণীয়। মেধাতালিকায় এগিয়ে থেকেও এমন কোনো পদে নিয়োগ না পাওয়ায় তাঁর মধ্যে একধরনের হতাশা কাজ করে বলে জানান তিনি।

নন-ক্যাডারে পছন্দের পদ নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হলে এ রকম বৈষম্য কমে আসবে বলে মনে করেন পিএসসির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা চাই শূন্য পদের তালিকা আগেই আসুক। তাহলে প্রার্থীরাই ঠিক করবেন ক্যাডারের পাশাপাশি তিনি নন-ক্যাডারের কোন পদে চাকরি পেতে চান। কেউ যদি নন-ক্যাডারের চাকরি করতে না চান, সে অপশনও রাখা হবে।’

পিএসসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘কোনো যোগ্য প্রার্থী মেধায় এগিয়ে থেকেও ভালো পদ পাবেন না, আবার কোনো প্রার্থী মেধাতালিকায় পিছিয়ে থেকেও আকর্ষণীয় পদ পাবেন, আমরা এই বৈষম্য রাখতে চাই না।’

পিএসসির এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিসিএস নন-ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মো. আতিকুল ইসলাম।

সার্বিক বিষয়ে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিসিএস যেহেতু ক্যাডার নিয়োগ পরীক্ষা, সেহেতু ক্যাডার নিয়োগের দিকেই বেশি মনোযোগী হতে হবে। তবে নন-ক্যাডারে পদ নির্বাচনের সুযোগ রাখা একটি ভালো উদ্যোগ।

চাকরি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন