প্রথম আলো: নন-ক্যাডার বিধি তো প্রধানমন্ত্রী পাস করেছেন। এখন প্রজ্ঞাপনও হয়ে গেছে। এটি হওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীদের কী লাভ হলো?
সোহরাব হোসাইন: নন-ক্যাডার বিধি প্রধানমন্ত্রী পাস করেছেন, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এটি পাস হওয়ার মাধ্যমে নন-ক্যাডার নিয়োগবিধির আওতায় এল। এখন একটি করে বিসিএস শেষ হবে আর ক্যাডারদের নিয়োগের সুপারিশ করার এক মাসের মধ্যেই সেই বিসিএসের নন-ক্যাডার তালিকায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ করা যাবে। বিধি না হওয়ার কারণে আমরা এটি করতে পারছিলাম না। এ জন্য ৪০তম বিসিএসেও নন-ক্যাডারে নিয়োগ দীর্ঘায়িত হয়েছে।
প্রথম আলো: নন-ক্যাডারের আগের বিধিতে কী ছিল আর সংশোধিত বিধির মাধ্যমে কী হবে?
সোহরাব হোসাইন: আগের যে বিধি ছিল, তাতে ৩৪তম বিসিএস পর্যন্ত নন-ক্যাডার নিয়োগের বৈধতা দেওয়া হয়েছিল। পরে বিধি সংশোধন না করা অবস্থাতেই ৩৮তম বিসিএস পর্যন্ত নন-ক্যাডার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল; যেটি বিধিসম্মত ছিল না। কেউ যদি এই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করত, তাহলে সমস্যা হতো। এখন নতুন বিধির মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস থেকে ৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডার নিয়োগ কার্যক্রমের বৈধতা দেওয়া হলো। এখন আর নিয়োগ নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ থাকল না। ৪৫তম বিসিএস থেকে যেহেতু বিধি মেনেই ক্যাডারের সঙ্গে নন-ক্যাডারের শূন্য পদের বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তাতে আর কোনো আলাদা কার্যক্রম নিতে হবে না। বিসিএসের সঙ্গেই নন-ক্যাডার ফল প্রকাশ করা হবে।
প্রথম আলো: নন-ক্যাডার বিধির জন্য আপনি কেন উদ্যোগী হয়েছিলেন?
সোহরাব হোসাইন: এটা কেবল আমার একার সিদ্ধান্ত ছিল না। পুরো কমিশন একমত হয়েছে যে বিদ্যমান বিধির সংশোধন বা নতুন বিধি ছাড়া নন-ক্যাডার নিয়োগ দেওয়া যাবে না। কেন না, সেটি আইনসম্মত ছিল না। এ কারণেই আমরা সরকারকে বিধি সংশোধন বা নতুন বিধি করার কথা জানিয়েছিলাম। সরকার সেটি আমলে নিয়েছে ও বিধি প্রণয়ন করেছে। আমি বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়েছি, কেননা আমি চেয়েছি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে অনেকেই আমার সমালোচনা করেছেন বা নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু আমরা চেয়েছি বিধি সংশোধন হলে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন উঠবে না এবং নন-ক্যাডারে যাঁরা সুপারিশ পাবেন, ভবিষ্যতে তাঁরা কখনো সংকটে পড়বেন না। সবকিছু আইনের আওতায় থাকবে। সরকার বিষয়টি অনুধাবন করেছে ও বিধি সংশোধন করার মাধ্যমে পিএসসি সম্পর্কে কোনো প্রশ্নের সুযোগ রাখেনি। যার সুফল এখন সবাই ভোগ করবেন।
প্রথম আলো: ৪০তম বিসিএসে যাঁরা নন-ক্যাডারে আছেন, তাঁদের অনেক দিন অপেক্ষা করতে হলো। তাঁরা টানা আন্দোলনও করেছেন। নিয়োগ কার্যক্রম আরও কত দিন লাগবে?
সোহরাব হোসাইন: ৪০তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে পারলে আমি খুব খুশি হব। তাঁরা যেভাবে সুপারিশ চেয়ে আন্দোলন করেছেন, সেভাবে সে সময়ে সুপারিশ করলে তা বৈধ হতো না। ভবিষ্যতে তাঁরাই সমস্যায় পড়তে পারতেন। নতুন বিধি পাস হওয়ার আগে যদি তাঁদের সুপারিশ করা হতো, তাহলে এখন যতজন নিয়োগ পাচ্ছেন, তার অর্ধেকও নিয়োগ পেতেন না। এরই মধ্যে বেশ কিছু পদ যুক্ত হয়েছে। সাড়ে চার হাজারের ওপরে পদ ফাঁকা আছে। নতুন বিধি পাস হওয়ার পর এখন সব পদে তাঁরা নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। প্রজ্ঞাপন হলে আমরা ১০ দিনের মতো সময় দেব তাঁদের। তাঁরা তাঁদের পছন্দের পদ নির্বাচন করতে পারবেন। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা নিয়োগের সুপারিশ করব। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ আমরা এগিয়ে রেখেছি। আমরা তাঁদের নিয়োগের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক ও তৎপর। শেষ সময় পর্যন্ত চেষ্টা থাকবে সবাই যেন ভালো কিছু পান। আনন্দের বিষয় হচ্ছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বিপিএসসি ৩৫তম থেকে ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষার মধ্যে ৩৫ থেকে ৩৮ পর্যন্ত সে সুপারিশ করেছে, যাঁরা এখন কর্মরত তাঁদের সুপারিশ বিধির আওতায় এসেছে। এ বিধি প্রণয়নের ফলে এরপর থেকে ৪৪তম বিসিএস পর্যন্ত
বিধির আওতায় প্রতিটি ব্যাচে সুপারিশ করতে পারবে। একসময় কোনো বিপত্তি পাওয়ার আগেই সরকার এই বিধি প্রণয়ন করে সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানের শুভ উদ্দেশ্যে করা অতীত সুপারিশ বিধির আওতায় এনে দিয়েছে। ইতিমধ্যে বিধির আওতার বাইরে যাঁরা সুপারিশ পেয়ে চাকরি করছেন, তাঁরাও ভবিষ্যতে আর কোনো সমস্যায় পড়বেন না। ৪৪তম বিসিএস পর্যন্ত যাঁরা সুপারিশ পাবেন, তাঁরাও বিধির আওতায় আসবেন এবং সুপারিশ পাওয়ার জন্য ফলাফল প্রকাশের পর এক মাসের অধিক অপেক্ষা করতে হবে না। পিএসসির কার্যক্রম এখন সর্বোপরি বিধির আওতায় এল—এ জন্য আমি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।