রওজাতুন জান্নাত প্রথম আলোকে বলেন, একেকজনের গড়ে ১০ মিনিট করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বোর্ডে চারজন সদস্য ছিলেন। চারজনই প্রশ্ন করেছেন। স্নাতকের বিষয় নিয়ে বেশি প্রশ্ন করা হয়েছে।

ওএমআর ফরমের সঙ্গে হাতের লেখার মিল আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হয়। রওজাতুন জান্নাত ওএমআর ফরমে বাংলা ও ইংরেজিতে যে তিনটি বাক্য লিখেছিলেন, মৌখিক পরীক্ষায়ও তাঁকে সেই তিনটি বাক্য লিখতে বলা হয়। এ ছাড়া প্রবেশপত্রে যে স্বাক্ষর ছিল, সেই স্বাক্ষর করতে বলা হয়।

অনুমতি নিয়ে মৌখিক পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করে ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের সালাম দেন রওজাতুন জান্নাত।

পরীক্ষক-১: ফাইলটা দিন। আপনি ওএমআর ফরমে যে বাক্য লিখেছেন, তা লিখুন এবং কাগজে স্বাক্ষর করুন।

রওজাতুন জান্নাত: সব সনদ ও অন্যান্য কাগজ দিলাম এবং স্বাক্ষর করলাম।

পরীক্ষক-২: আপনার নাম রওজাতুন জান্নাত।

রওজাতুন জান্নাত: জি, স্যার।

পরীক্ষক-২: আপনি কোন বিষয়ে এবং কোন কলেজ থেকে পড়াশোনা করেছেন?

রওজাতুন জান্নাত: আমি দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে স্নাতক এবং মৎস্যবিদ্যা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছি।

পরীক্ষক-২: এই বিষয়ে পড়ার পর
আপনি কীভাবে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান
হতে পারেন?

রওজাতুন জান্নাত: আমি আমার বাসার পুকুরে মাছ চাষ করতে পারি। এতে আমার পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ হবে। এ ছাড়া অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হতে পারি।

পরীক্ষক-১: দিনাজপুরে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা সম্ভব কি না? কীভাবে?

রওজাতুন জান্নাত: জি, স্যার সম্ভব। যেসব নদী বা খালে মাছের প্রাচুর্যতা কম আমরা সেখানে সরকারি উদ্যোগে অভয়াশ্রম করতে পারি।

পরীক্ষক-২: পুকুরে ইলিশ মাছ চাষ করা সম্ভব কি না এবং কেন?

রওজাতুন জান্নাত: সম্ভব নয় স্যার। কারণ, পুকুর স্বাদু পানির হয় আর ইলিশ লবণাক্ত পানির মাছ। তাই পুকুরে ইলিশ মাছ চাষ করা সম্ভব নয়।

পরীক্ষক-১: ইলিশ কখন স্বাদু পানিতে আসে?

রওজাতুন জান্নাত: প্রজননের সময় ডিম পাড়ার জন্য তারা স্বাদু পানিতে আসে।

পরীক্ষক-২: তারা কি তারপর আর ফেরত যেতে পারে?

রওজাতুন জান্নাত: জি স্যার ফেরত যায়। কিন্তু ইদানীং জেলেরা ডিম পাড়ার সময় বা ডিম পাড়ার পর মাছ ধরে ফেলে।

পরীক্ষক-২: জাটকা নিধন রোধের জন্য সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে? করলে তা কী?

রওজাতুন জান্নাত: জি স্যার গ্রহণ করে। জাটকার মৌসুমে সরকার জেলেদের প্রশিক্ষণ দেয়, কারেন্ট জাল বিক্রি বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়। এ ছাড়া জেলেদের সেই সময় ভাতার ব্যবস্থা করা হয়, যেন তাঁরা মাছ না ধরেন।

পরীক্ষক-২: বাংলা বছরের এই মাসেই মৎস্য সপ্তাহ পালন করা হয়েছে, তা কি জানেন?

রওজাতুন জান্নাত: জি স্যার। আষাঢ় মাসের শেষ সপ্তাহে।

পরীক্ষক-১: বাংলাদেশে মৎস্যজীবীর সংখ্যা কত?

রওজাতুন জান্নাত: প্রায় ১০ লাখ।

পরীক্ষক: ধন্যবাদ, আপনাকে। আপনি এখন আসুন।

জান্নাত: ধন্যবাদ স্যার, আসসালামু আলাইকুম।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন