খাতা দেখার পর মার্কস স্বাভাবিক না হলে তা তৃতীয় পরীক্ষকের কাছেও পাঠানোর নিয়ম আছে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞে সময় লাগার কারণে বিসিএসের সার্বিক ফলাফল দিতে অনেক সময় লাগে। সর্বশেষ ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। আর ফল ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। প্রায় এক বছর ধরে এই প্রক্রিয়া চলেছে। বর্তমানে ৪১তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখার কাজ চলছে।

লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখতে কিছু কিছু পরীক্ষক বেশি সময় নিচ্ছেন বলে পর্যবেক্ষণ করেছে পিএসসির কমিটি। ৪১তম বিসিএসের খাতা দেখা নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষক প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি সময় নিলে বিষয়টি আবার আলোচিত হয়েছে। এ জন্য খাতা দেখার সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার পাশাপাশি তা কঠোরভাবে মানার কথা জানিয়েছে পিএসসির কমিটি। ওই পরীক্ষক ৬ মাসে ১০০ খাতার মধ্যে মাত্র ৩০টি খাতা দেখেছেন।

ওই কমিটির একাধিক সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, খাতা দেখার জন্য এখন থেকে পরীক্ষকদের সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে পিএসসি। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাতা দেখতে না পারলে ওই পরীক্ষককে আর কোনো খাতা দেখতে দেওয়া হবে না বলে কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, খাতা দেখার টাকা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে খাতা দেখা শেষ করতে না পারলে পরীক্ষকের কাছে খাতা নিয়ে নেওয়া হবে এবং আর খাতা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। সর্বোপরি তাঁকে খাতা দেখার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

পিএসসির একজন সদস্য এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সর্বশেষ ৪০তম বিসিএসের ফল দেখতে এক বছর সময় লাগে। যার কারণে ওই বিসিএস শেষ করতেও সময় লেগেছে অনেক বেশি। এতে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, বয়স চলে যায়। এসব বিবেচনায় খাতা দেখার সময় কমিয়ে আনা হয়েছে ও সঠিক সময় খাতা দেখতে না পারলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান চালু করা হয়েছে।

এটি করা গেলে বিসিএসে দীর্ঘ সময় কমে আসবে। আরও কম সময়ে বিসিএসের চূড়ান্ত ফল দেওয়া যাবে। তবে এ জন্য পরীক্ষককে আরও বেশি আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান হতে হবে।

খবর থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন