এআই যুগে কি ছোট হচ্ছে কর্মসপ্তাহ

প্রথম আলো ফাইল ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিতে পাঁচ দিনের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা কাজের মডেল টিকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ২০২৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্ফোরক উন্নয়ন একদিকে চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, অন্যদিকে তেমনি জন্ম দিয়েছে এক আশাবাদী ধারণার—প্রযুক্তি যদি উৎপাদনশীলতাকে এতটাই বাড়িয়ে দেয়, তবে কি সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ করা আর প্রয়োজন হবে না?

বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাই এখন বলছেন, চার দিনের কর্মসপ্তাহ, এমনকি তার চেয়ে কম কাজের সময় ভবিষ্যতে অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

বিল গেটস

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস আরও এক ধাপ এগিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ভবিষ্যতে কি মানুষকে আদৌ অধিকাংশ কাজে প্রয়োজন হবে? তিনি বলেন, এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন কাজের ধরন বদলে দেবে এবং হয়তো সপ্তাহে দুই বা তিন দিন কাজই যথেষ্ট হবে। ২০২৩ সালেই তিনি তিন দিনের কর্মসপ্তাহের সম্ভাবনার কথা তুলেছিলেন।

আরও পড়ুন

জেনসেন হুয়াং

এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং স্বীকার করেন, এআই সবার কাজেই প্রভাব ফেলবে। চার দিনের কর্মসপ্তাহ ‘সম্ভবত’ আসতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রেই মানুষকে আরও ব্যস্ত করে তুলবে। উল্লেখ্য, হুয়াং নিজে সপ্তাহে সাত দিন ভোর চারটায় কাজ শুরু করেন।

আরও পড়ুন

ইলন মাস্ক

সবচেয়ে দূরদর্শী বা বিতর্কিত ভবিষ্যৎ চিত্র তুলে ধরেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি, ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এআই ও রোবোটিকস এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে কাজ করা ঐচ্ছিক হয়ে যাবে। মাস্কের মতে, দারিদ্র্য থাকবে না, আয় হবে সর্বজনীন, আর কাজের জন্য শহরে বসবাসেরও প্রয়োজন পড়বে না।

আরও পড়ুন

চলছে পরীক্ষা–নিরীক্ষা

এই ধারণা কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। টোকিও মহানগর সরকার ইতিমধ্যে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কোম্পানি শুক্রবারকে ‘ফ্লেক্সিবল ডে’ হিসেবে দেখছে। পারফরম্যান্স কোচিং প্রতিষ্ঠান এক্সোস জানাচ্ছে, এতে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে এবং কর্মীরা আরও উদ্যমী হয়ে কাজ শুরু করতে পারছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ও অটোমেশনের কারণে উৎপাদনশীলতা বাড়তে থাকলে চার দিনের কর্মসপ্তাহ নিয়ে পরীক্ষা–নিরীক্ষা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে, মানুষ কীভাবে এমন এক অর্থনীতিতে বিকশিত হবে, যেখানে মানবশ্রম আর অপরিহার্য নয়।

আরও পড়ুন