শান্তা ও শাহিনারা পদায়নের তারিখ জেনে রাজপথ ছাড়লেন
গুমোট গরম। মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি। এর মধ্যেই শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শত শত প্রার্থী। দ্রুত পদায়নের দাবিতে তাঁদের অবস্থান কর্মসূচি।
বেলা ১১টার পর কর্মসূচি শুরু হলে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। এতে টিএসসি অভিমুখী সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে কর্মসূচির শুরুতেই ছিল ভিন্ন এক দৃশ্য। আন্দোলনকারীরা পুলিশ সদস্যদের হাতে ফুল তুলে দেন। এরপর জাতীয় সংগীত গেয়ে কর্মসূচি শুরু করেন। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ভিড় ছড়িয়ে পড়ে চারুকলা পর্যন্ত।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন মুন্সিগঞ্জের সুইটি আক্তার শান্তা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শাহিনা আক্তার। দুজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে চান। শিশুদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা থেকেই এই পেশা বেছে নিয়েছেন। কিন্তু চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পরও দীর্ঘদিন পদায়নের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে তাঁদের।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। মার্চের মধ্যেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সনদ যাচাই শেষ হয়। এরপর মাসের পর মাস কেটে গেলেও পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
প্রার্থীদের ভাষ্য, ফল প্রকাশের পর ১৭৫ দিন পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষায় অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ সময়ের মধ্যে দুজন নির্বাচিত প্রার্থী মারা গেছেন। আরও অন্তত ১৫ জন প্রার্থীর মা–বাবা সন্তানের চাকরিতে যোগদান দেখে যেতে পারেননি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় যদি কোথাও অনিয়ম হয়ে থাকে, তার দায় সাধারণ প্রার্থীদের নয়। সব যাচাই–বাছাই শেষ হওয়ার পরও পদায়ন আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
দুপুরে আসে প্রতীক্ষিত খবর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সব শেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, নির্বাচিত প্রার্থীরা আগামী ১ অক্টোবর যোগদান করবেন। ৪ অক্টোবর তাঁদের পদায়ন সম্পন্ন হবে।
খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই আন্দোলনকারীদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে। তবে রাজপথ ছাড়ার আগে তাঁরা আরেকটি বার্তা দেন। ঝাড়ু ও বস্তা হাতে নিয়ে নিজেরাই পরিষ্কার করেন শাহবাগের অবস্থানস্থল।
দীর্ঘ ১৭৫ দিনের অপেক্ষার পর হাতে মিলল যোগদান ও পদায়নের নির্দিষ্ট তারিখ। স্বস্তির সেই খবর নিয়েই শান্তা, শাহিনা আর তাঁদের মতো হাজারো নতুন শিক্ষক বাড়ি ফিরলেন।