বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সভার সিদ্ধান্তের ‘অমিল’
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) কাছ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হচ্ছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল—সংগঠনও বিবৃতিতে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ নিয়ে নানা বিতর্কের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত সরকার হয়নি। সোমবার (১০ আগস্ট ২০২৬) রাতে শিক্ষামন্ত্রীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে অ্যাডমিনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক পোস্টে মন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ২০০৫ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে। ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ প্রদান–সংক্রান্ত কোনোও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ রইল।’
তবে ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক সভার কার্যবিবরণীতে এ–সংক্রান্ত ভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ রয়েছে।
৩ আগস্টের সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়েছিল
৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, এখন থেকে এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না। এ সিদ্ধান্ত তারা বাস্তবায়ন করবে সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছিল ওই সভায়। প্রথম আলোর হাতে আসা ৩ আগস্ট ২০২৬-এর সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে এনটিআরসিএ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়ার কথাও সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএ এখন থেকে শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না।
১৮তম নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নিয়োগ
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ জন তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন সংশোধন বা জারি করার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনটিআরসিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘৩ তারিখের বৈঠকে সুপারিশের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে এনটিআরসিএতে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’