শীর্ষ নির্বাহীদের স্বীকারোক্তি: এআই এখনো বদলাতে পারেনি চিত্র

ছবি: এআই/প্রথম আলো

বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার শেষ নেই। অনেকে একে জাদুর কাঠি মনে করলেও বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা (সিইও) এখন স্বীকার করছেন যে এআই এখনো কাজের গতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। এতে অর্থনীতিবিদরা ৪০ বছর আগের একটি পুরোনো ‘উৎপাদনশীলতা ধাঁধা’র কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

এআই ব্যবহারের বাস্তব চিত্র

সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের (এনবিইআর) এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ৪টি দেশের ৬ হাজার শীর্ষ কর্মকর্তার মতামত নেওয়া হয়। দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করলেও গড়ে সপ্তাহে মাত্র ১ দশমিক ৫ ঘণ্টা তা ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁদের কর্মক্ষেত্রে এআই একেবারেই ব্যবহৃত হয় না। ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মতে, গত তিন বছরে এআই কাজের ধরনে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেনি।

আরও পড়ুন

অর্থনীতির মূল হিসাবে নেই এআইয়ের ছাপ

অ্যাপোলোর প্রধান অর্থনীতিবিদ টরস্টেন স্লক বলেন, ‘এআই সব জায়গায় আছে ঠিকই, কিন্তু দেশের মূল অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে এর কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।’ তাঁর মতে, কর্মসংস্থান বা উৎপাদনশীলতার সরকারি হিসাবে এআইয়ের কোনো ছাপ এখনো পড়েনি। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ছাড়া সাধারণ প্রতিষ্ঠানের আয়ের ক্ষেত্রেও এআই তেমন কোনো অবদান রাখতে পারছে না।

অতিরিক্ত এআই ব্যবহারে বাড়ছে ক্লান্তি

বস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের এক জরিপে দেখা গেছে, তিনটির বেশি এআই টুল একসঙ্গে ব্যবহার করলে কর্মীদের কাজের গতি বাড়ার বদলে উল্টো কমতে শুরু করে। একে গবেষকরা বলছেন ‘এআই ব্রেইন ফ্রাই’। অনেক কর্মী জানিয়েছেন, অতিরিক্ত এআই ব্যবহারের ফলে তাঁদের মাথায় ঝিমঝিম করে বা মানসিক ক্লান্তি আসে, যার ফলে ছোটখাটো ভুল বেড়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ প্রযুক্তির অতি ব্যবহার অনেক সময় হিতে বিপরীত হচ্ছে।

তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, এটি সাময়িক। ১৯৭০-এর দশকেও কম্পিউটার আসার পর উৎপাদনশীলতা বাড়তে দীর্ঘ সময় নিয়েছিল। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড্যারন অ্যাসেমোগলু মনে করেন, এআই থেকে বড় সুফল পেতে আমাদের হয়তো আরও অপেক্ষা করতে হবে। তথ্যসূত্র: ফরচুন

আরও পড়ুন