জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নিয়োগ পরীক্ষা কাল হচ্ছে না

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ৯৬টি পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা আগামীকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ায় সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনো চলমান। তবে কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

যাচাই-বাছাই চলছে, কাল পরীক্ষা নয়

নিয়োগ পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি প্রসঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব দাবি করেছেন, কোনো আবেদনকারীকে এখনো পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি। তিনি বলেন, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনো শেষ হয়নি, এটি চলমান। অনেক সংবাদমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়েছে যে আবেদনকারীদের ডাকা হয়েছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়েছে, ১০ হাজারের অধিক আবেদন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা শেষে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌখিক ও দক্ষতা পরীক্ষণের জন্য ডাকা হবে। প্রাথমিক বাছাই এখনো শেষ না হওয়ায় কোনো প্রার্থীকে এসএমএস কিংবা ফোনকলের মাধ্যমে ডাকার তথ্যটি ভিত্তিহীন।

মহাপরিচালকের তথ্যমতে, গত ২৯ জানুয়ারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু করার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি মৌখিক ও দক্ষতা পরীক্ষণের প্রক্রিয়াটি ‘প্রমার্জন’ (শিথিল) করেছেন।

বিধিমালা বনাম ‘প্রমার্জন’

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা ২০২৫’ অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর পরীক্ষা নিয়ে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার শর্ত রয়েছে। তবে প্রবিধানমালার একটি ধারায় বলা হয়েছে, বিশেষায়িত জাদুঘর হওয়ায় বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ যেকোনো শর্ত শিথিল করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই ধারার সুযোগ নিয়েই লিখিত পরীক্ষা এড়াতে চাইছে কর্তৃপক্ষ।

গত ৫০ বছরের সরকারি নিয়োগের ইতিহাস ঘেঁটে দেখেন, বিজ্ঞপ্তির পর অন্তত ২১ দিন সময় দেওয়া একটি প্রচলিত রীতি। এখানে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ দিন।
এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সাবেক রেক্টর

এদিকে লিখিত পরীক্ষা না রাখা এবং মাত্র সাত দিন আবেদনের সময় দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন চাকরিপ্রার্থীরা। নিজেকে চাকরিপ্রার্থী দাবি করে একজন লিখেছেন, ‘লিখিত পরীক্ষা না নিয়ে কীভাবে শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেবেন? জুলাই আন্দোলন কেন হয়েছে? সেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘরেই কি এভাবে নিয়ম ভেঙে নিয়োগ হবে?’

আরও পড়ুন

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের এই নিয়োগপ্রক্রিয়াকে নজিরবিহীন বলে অভিহিত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ৫০ বছরের সরকারি নিয়োগের ইতিহাস ঘেঁটে দেখেন, বিজ্ঞপ্তির পর অন্তত ২১ দিন সময় দেওয়া একটি প্রচলিত রীতি। এখানে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৭ দিন। আবার সরকারি চাকরিতে পিওন পদের জন্য যেখানে লিখিত পরীক্ষা হয়, সেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য পরীক্ষা না রাখা নিয়োগকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেই।’

এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার নির্বাচন কমিশনের নিয়োগের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগের দায়ে নির্বাচন কমিশনের ৮৬ জন কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছিলেন। ১৫ বছর মামলার পর তাঁরা জয়ী হলেও ওই সময়ের সব বেতন-ভাতা রাষ্ট্রকে পরিশোধ করতে হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার যদি এই নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা করে, তবে এই তরুণদের ভবিষ্যৎ কী হবে? বর্তমানে যাঁরা দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তো তখন থাকবেন না।’

প্রাথমিক বাছাই এখনো শেষ না হওয়ায় কোনো প্রার্থীকে এসএমএস কিংবা ফোনকলের মাধ্যমে ডাকার তথ্যটি ভিত্তিহীন।
আরও পড়ুন