কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের অক্টোবরে ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডের (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। এর মাধ্যমে দেশে ৪৬ বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে যে কোটাব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে এখনো কোটাব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেলওয়ে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা এবং রেলের নিম্নপদস্থ চাকরিগুলোয় ৪০ শতাংশ পোষ্যদের জন্য সংরক্ষিত।

গত ১৪ ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ৩৭ হাজার ৫৭৪ প্রার্থীকে নির্বাচিত করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২০ শতাংশ প্রার্থী পোষ্য কোটায় নিয়োগ পান। এরপর প্রাথমিকে কোটা বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা চাকরিপ্রার্থী মাছুম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগ হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অথচ এখানে ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা রাখা হয়েছে। পোষ্য কোটার কারণে আমার মতো সাধারণ প্রার্থীরা ভালো পরীক্ষা দিয়েও চাকরি পান না। এই বৈষম্যমূলক পোষ্য কোটা দ্রুত বাতিল করা হোক।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরজনিত শূন্য পদে সংযুক্তি প্রদানের সুপারিশ করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক। এই প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে, অবসরের কারণে অনেক সময় শিক্ষক সংখ্যা তিন–এর কম হয়ে যায়। দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ে কমপক্ষে তিনজন ও এক শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক প্রয়োজন। অবসরজনিত শূন্য পদে সংযুক্তি প্রদানের সুযোগ না থাকায়, কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে।

দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগ হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অথচ এখানে ২০ শতাংশ পোষ্য কোটা রাখা হয়েছে। পোষ্য কোটার কারণে আমার মতো সাধারণ প্রার্থীরা ভালো পরীক্ষা দিয়েও চাকরি পান না। এই বৈষম্যমূলক পোষ্য কোটা দ্রুত বাতিল করা হোক।
মাছুম আহমেদ, চাকরিপ্রার্থী

জেলা প্রাথমিক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর শূন্য পদ পূরণের প্রস্তাব করেছেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক। এই প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তিতে বলা হয়েছে, নেত্রকোনা জেলায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমোদিত পদ সংখ্যা ৪৬টি, এর মধ্যে ২৫টি শূন্য পদ রয়েছে। কর্মচারীর অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৫৮টি, এর মধ্যে শূন্য পদ ২৭টি। গত ১০ বছরে নেত্রকোনা জেলার শূন্য পদের পরিস্থিতি একই রকম। ফলে বিদ্যালয় পরিদর্শন ও দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজে বিঘ্ন ঘটছে।

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নতুন পদ সৃষ্টি ও শূন্য পদ পূরণের প্রস্তাব করেছেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক। তিনি যুক্তি দেখান, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনেক পদ শূন্য রয়েছে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক প্রস্তাব করেছেন—স্বল্প শিক্ষার্থীবিশিষ্ট বিদ্যালয় বিলুপ্ত করে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয়ের সঙ্গে একীভূত করতে হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকের যৌক্তিক অনুপাত বজায় থাকবে, যার ফলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তিনি।

গত ১৪ ডিসেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ৩৭ হাজার ৫৭৪ প্রার্থীকে নির্বাচিত করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ২০ শতাংশ প্রার্থী পোষ্য কোটায় নিয়োগ পান।

নরসিংদী জেলার চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় মিড-ডে মিল চালুর প্রস্তাব করেছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক। তাঁর প্রস্তাবের সপক্ষে যুক্তিতে বলেছেন, চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। তাঁদের শিক্ষা সম্পর্কে সচেতনতাও কম। তাই তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ কম। মিড-ডে মিল চালু হলে অনেক পিতামাতার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূর হবে।

উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব করেছেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক। তিনি যুক্তি দেখান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিতকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখত পারবেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক হাওর অঞ্চলের মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছেন। তাঁর প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন ছুটি ৩ থেকে ১৯ জুলাই এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি ২৮ জুন থেকে ১৬ জুলাই। কিন্তু ২৫ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত হাওরাঞ্চলে বর্ষা হয়। এ সময়ে নৌকা বা হেঁটে চলাচলের সুযোগ থাকে না। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে অসুবিধা হয়। তাই শুধু হাওর অঞ্চলের জন্য বিদ্যমান ছুটির সময় পরিবর্তন করে ২৫ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত করলে শিক্ষার্থীদের সুবিধা হবে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে।