কম্পিটেন্সি বেজড বিসিএস ভাইভায় মানসিক বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ করবেন যেভাবে

প্রথম আলো ফাইল ছবি

আগের তিন পর্বে কম্পিটেন্সি বেজড ইন্টারভিউয়ের ধারণা, ‘স্টার’ (STAR) মেথডের ব্যবহার এবং ভাইভা বোর্ডের অনুপ্রশ্ন সামলানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ধারাবাহিক এই আলোচনার আজকের পর্বে নজর দেওয়া হচ্ছে ভাইভা বোর্ডে প্রার্থীর আচরণ, উপস্থাপন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—মানসিক বুদ্ধিমত্তা বা ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স প্রকাশের ওপর।

নতুন এই ভাইভা পদ্ধতিতে প্রার্থী কেবল মুখস্থ তথ্য কতটা বলতে পারলেন, তা মুখ্য নয়। মূল বিষয় হলো কঠিন পরিস্থিতিতে তিনি কতটা শান্ত, আত্মবিশ্বাসী এবং স্বাভাবিকভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে পারছেন।

মানসিক বুদ্ধিমত্তা ও সহনশীলতা পরখ

একজন ভালো সরকারি কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো চাপের মুখে শান্ত থাকা এবং জটিল পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। ভাইভা বোর্ডে কমিশন মূলত প্রার্থীর এই মানসিক স্বস্তি ও পরিপক্বতা যাচাই করে।

অনেক সময় বোর্ড ইচ্ছাকৃতভাবে প্রার্থীর যুক্তির বিরোধিতা করতে পারে। কিংবা প্রার্থীর বক্তব্য সংশোধনের চেষ্টা করতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কোনো অনড় অবস্থান বা তর্কের মনোভাব পরিহার করা জরুরি। বোর্ডের মতের সঙ্গে ভিন্নমত থাকলেও তা অত্যন্ত নমনীয়ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।

যেমন বলতে পারেন:

‘স্যার, আপনার এই পয়েন্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমার মাঠপর্যায়ের কাজের ছোট অভিজ্ঞতা থেকে বিষয়টি আমি এভাবে দেখেছিলাম...’

এই ধরনের উত্তর প্রার্থীর মানসিক বুদ্ধিমত্তা, সহনশীলতা ও পেশাদার আচরণ প্রমাণ করে।

আরও পড়ুন

ভাইভায় কৃত্রিমতা এড়ানোর নিয়ম

আমাদের দেশে ভাইভার প্রস্তুতির সময় কীভাবে বসতে হবে, হাত কীভাবে রাখতে হবে বা কতটুকু হাসতে হবে—তা নির্দিষ্ট করে শেখানোর চেষ্টা করা হয়। ফলে অনেক প্রার্থী ভাইভা বোর্ডে এসে কৃত্রিম একটি রূপ ধারণ করেন। কম্পিটেন্সি বেজড ইন্টারভিউতে এই বানানো বা কৃত্রিম আচরণ খুব সহজে ধরা পড়ে।

যখন আপনি নিজের জীবনের কোনো সত্যি অভিজ্ঞতার কথা বলবেন, তখন আপনার স্বাভাবিক আচার-ব্যবহার ও শারীরিক প্রকাশ স্বতঃস্ফূর্ত হতে বাধ্য। ভাইভা বোর্ড প্রার্থীর মধ্যে এই সহজ রূপটি দেখতে চায়।

আরও পড়ুন

ভাইভা বোর্ডে খেয়াল রাখার মতো কিছু সহজ বিষয়:

চোখে চোখ রেখে কথা বলা: বোর্ডের সবার দিকে সমানভাবে তাকিয়ে কথা বলুন। এটি আপনার সততার পরিচয় দেয়।

সহজ ভাষায় কথা বলা: তোতা পাখির মতো মুখস্থ না বলে সাধারণ আলোচনার মতো স্বাভাবিক কণ্ঠে কথা বলুন।

স্বাভাবিক বডি পজিশন: শরীর শক্ত না রেখে সাধারণ ভঙ্গিতে সোজা হয়ে বসুন।

কোচিংয়ের ছাঁচ নাকি নিজের অভিজ্ঞতা?

বিসিএস ভাইভার কথা শুনলেই গলির মোড়ে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শিটের কথা মনে পড়ে। সেখানে সবাইকে এক ছাঁচে ঢালা উত্তর শেখানো হয়। কম্পিটেন্সি বেজড ভাইভার যুগে এসে এই ধরনের কৃত্রিমনির্ভরতা প্রার্থীর জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

কারণ এই নতুন পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যই হলো একই ধাঁচের মুখস্থ উত্তর প্রদানকারীদের আলাদা করা এবং বাস্তবমুখী চিন্তার অধিকারী প্রার্থী নির্বাচন করা।

তাই তৈরি করা উত্তর মুখস্থ করার প্রয়োজন নেই। নিজের অভিজ্ঞতার ওপর বিশ্বাস রাখুন। বাস্তব জীবনের ঘটনাগুলোকে সততার সঙ্গে গুছিয়ে বলার চর্চা করুন।

আরও পড়ুন

প্রার্থীর জন্য গাইডলাইন

বিসিএস ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার আগে এই সহজ বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি:

স্বীকার করার মানসিকতা: কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে বা অভিজ্ঞতা না থাকলে বিনয়ের সঙ্গে বলুন, ‘স্যার, এই বিষয়ে আমার জানা নেই।’ উত্তর বানিয়ে বলার চেয়ে এটি অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।

নিজেকে প্রকাশ করা: এটি সাধারণ জ্ঞানের প্রতিযোগিতা নয়। এটি আপনার ব্যক্তিত্ব ও সক্ষমতা প্রমাণের জায়গা।

আগে ভাইভা বোর্ডে দেখার বিষয় ছিল ‘আপনি কতটুকু মুখস্থ করেছেন?’ আর নতুন এই যুগে আসল প্রশ্ন হচ্ছে, ‘বাস্তব জীবনে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনার মানসিক বুদ্ধিমত্তা কেমন?’

নিজের অভিজ্ঞতার প্রতি সৎ থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলাই বিসিএসের নতুন এই ভাইভা পদ্ধতিতে সফলতার আসল চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন