এক পেশার কর্মী করছেন অন্য পেশার কাজ, পেছনে এআই
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কর্মক্ষেত্রে শুধু মানুষের কাজ স্বয়ংক্রিয় করছে না, বরং কর্মীদের নিজ পেশার বাইরের কাজ করতে সক্ষম করে তুলছে। ফলে প্রচলিত চাকরির সীমানা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। ওপেনএআইয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
ওপেনএআই প্রকাশিত ‘Work at the Frontier: How AI is Expanding What People Do at Work’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার ক্রমেই এমন সব কাজে বাড়ছে, যেগুলো আগে অন্য পেশার দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হতো।
প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের ৮ লাখের বেশি নাম-পরিচয়বিহীন কর্মসংক্রান্ত চ্যাটজিপিটি কথোপকথনের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
ওপেনএআইয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কর্মীদের নিজ পেশার বাইরের কাজ করতে সক্ষম করছে।
টাস্ক ক্রসওভার-
গবেষণায় ‘টাস্ক ক্রসওভার’নামে একটি ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ, কোনো একটি পেশার জন্য স্বাভাবিকভাবে নির্ধারিত কাজ অন্য পেশার কর্মীরাও এআইয়ের সাহায্যে করতে পারছেন।
উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন মানবসম্পদ কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করছেন। কিংবা একজন গ্রাহকসেবা কর্মকর্তা আর্থিক হিসাব করছেন। আবার একজন বিপণনকর্মী সফটওয়্যার কোড নিয়ে কাজ করছেন। আগে এসব কাজের জন্য আলাদা বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হতো। এখন এআই সেই ব্যবধান কমিয়ে দিচ্ছে।
পেশার সীমানা ভেঙে দিচ্ছে এআই-
পেশাভিত্তিক এআই ব্যবহারের ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশই নিজ নিজ পেশার সীমানা ছাড়িয়ে অন্য ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, একজন কর্মী এখন এআইয়ের সহায়তায় এমন কাজও করছেন, যা আগে অন্য বিভাগের বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভর করত।
কোন খাতে পরিবর্তন বেশি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রাহকসেবা, নকশা, মানবসম্পদ, আইন ও বিপণন—এই পাঁচ খাতে পেশাগত সীমানা অতিক্রম করে এআই ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে গ্রাহকসেবা খাতে এ হার ৭৭ শতাংশ, নকশায় ৭, মানবসম্পদে ৬৯, আইনে ৫৬ এবং বিপণনে ৫৩ শতাংশ।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বিপণন ও সফটওয়্যার প্রকৌশল-সংক্রান্ত কাজ সবচেয়ে বেশি অন্যান্য পেশায় ছড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে আর্থিক হিসাব-নিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানের মতো কাজও এখন বিভিন্ন পেশার কর্মীরা এআইয়ের মাধ্যমে করছেন।
ছোট প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বেশি
প্রতিবেদনটি বলছে, ছোট প্রতিষ্ঠানে এই প্রবণতা বড় প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি। কারণ, ছোট প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় একজন কর্মীকেই একাধিক ধরনের কাজ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে এআই সেই ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখছে।
চাকরির ধরন বদলাচ্ছে
ওপেনএআইয়ের মতে, এআইকে কেবল চাকরি প্রতিস্থাপনের প্রযুক্তি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। বরং প্রযুক্তিটি কর্মীদের নতুন ধরনের কাজ করার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে বিভিন্ন পেশার কাজের ধরন ও দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করতে পারে।
প্রতিবেদনটির ভাষ্য, ভবিষ্যতে অনেক পেশার মূল দায়িত্ব পুনর্গঠিত হতে পারে। অর্থাৎ একই চাকরিতে কাজের পরিধি বাড়বে এবং বিভিন্ন বিভাগের কাজের মধ্যে প্রচলিত সীমারেখা আরও অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।