প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৬১ জেলায় বাদ ২ হাজারের বেশি, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পদক্ষেপ দাবি

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।ফাইল ছবি: প্রথম আলো

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভেরিফিকেশনের পরে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত অনেক প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫–এর ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েছেন ২ হাজারের বেশি প্রার্থী। ৬১ জেলার এসব প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছেন সুনামগঞ্জে, ১২০ জন। আর বিভাগ হিসেবে রংপুর বিভাগে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৫০৪ জন।

চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে প্রথম আলোকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

যদিও শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে।

আরও পড়ুন

৬১ জেলায় বাদ যত প্রার্থী

প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের নামে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনিক ভুল ও অসংগতির কারণে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও অনেকে নিয়োগপত্র পাননি।

প্রার্থীদের দাবি দেশের ৬১ জেলায় মোট ২ হাজারের বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জে ১২০ জন, দিনাজপুরে ১১৪ জন, যশোরে ১০৬ জন, কুমিল্লায় ১০২ জন এবং ভোলায় ৮৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েছেন রংপুর বিভাগে ৫০৪ জন। এরপর খুলনা বিভাগে ৪২০ জন, চট্টগ্রামে ৩১২ জন, ঢাকায় ২৬৮ জন, সিলেটে ২৬০ জন, রাজশাহীতে ২৫৫ জন, বরিশালে ২৫২ জন এবং ময়মনসিংহে ১১৪ জন।

আরও পড়ুন

নিয়োগপত্র নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য

ফেসবুক পোস্টে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫–এর নিয়োগপত্র প্রাপ্তি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সময়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।

পাঁচ দফা দাবি প্রার্থীদের

ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ভুল ও অসংগতি সংশোধন এবং চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ। এ ছাড়া নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং কীভাবে এতসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিক্ষোভ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রার্থীরা। খুলনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও যশোরে প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

খুলনায় ২৭৫ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ২৬৫ জন কাগজপত্র জমা দেন। এর মধ্যে ১৯৬ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন; ৬৯ জন পাননি।

সুনামগঞ্জে ৬১৭ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সুপারিশ পাঠানো হলেও সর্বশেষ যাচাইয়ে ১২০ জন বাদ পড়েছেন। মৌলভীবাজারে ৩৪৭ সুপারিশপ্রাপ্তের মধ্যে ৬৭ জন এবং যশোরে ২৯০ জনের মধ্যে ১০৬ জন নিয়োগপত্র পাননি।