চাকরি পেতে চান? কাগজের বদলে এবার তৈরি করুন ভিডিও সিভি

ভিডিও সিভি বা ভিডিও রিজিউমি দিন দিন আরও জনপ্রিয় হচ্ছেমডেল: নওশিন, ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

হাজার হাজার সিভির স্তূপ। নিয়োগদাতার হাতে সময় কম। স্বল্প সময়ে নিজেকে আলাদাভাবে চেনাবেন কীভাবে? শুধু কাগজের লেখায় এখন আর মন ভরছে না নিয়োগকর্তাদের। তাঁরা এখন প্রার্থীর কথা বলার ধরন আর আত্মবিশ্বাস সরাসরি দেখতে চান। ঠিক এই জায়গাতেই বাজিমাত করতে পারে একটি ছোট ভিডিও সিভি। সাদাকালো সিভির যুগে এটি বর্তমানে নতুন ধারা। এটি আপনার অভিজ্ঞতা আর সৃজনশীলতাকে সরাসরি প্রকাশ করে।

ভিডিও সিভি কি সবার জন্য প্রয়োজনীয়?

ভিডিও সিভি তৈরির আগে একটু ভাবুন। এটি আপনার চাকরির জন্য কতটা দরকার? মার্কেটিং, সেলস বা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো পেশায় এটি দারুণ কার্যকর। কিন্তু পর্দার আড়ালে কাজ বা খুব প্রযুক্তিগত পদের জন্য এর প্রয়োজন কম। মনে রাখবেন, যেখানে মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা উপস্থাপনা জরুরি, সেখানেই ভিডিও সিভি বেশি কাজে দেয়। ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ যেখানে বেশি, ভিডিও সিভি সেখানেই তুরুপের তাস।

আরও পড়ুন

কথা বলুন মেপে মেপে

ভিডিওটি দীর্ঘ করবেন না। সর্বোচ্চ দুই মিনিটের মধ্যেই কথা শেষ করুন। ভিডিও দীর্ঘ হলে নিয়োগদাতা মনোযোগ হারাতে পারেন। কথা বলার আগে একটি খসড়া তৈরি করে নিন। তবে রোবটের মতো মুখস্থ বলবেন না। আপনার বাচনভঙ্গি হতে হবে সাবলীল। অতিরিক্ত কথা বা অহেতুক তথ্য বাদ দিন। সংক্ষিপ্ত কিন্তু কার্যকর ভিডিও একজন নিয়োগদাতাকে বেশি টানে।

চাকরির জন্য সিভি তৈরি করুন নিজের যোগ্যতা
প্রথম আলো ফাইল ছ

সিভির কথার পুনরাবৃত্তি করবেন না

কাগজের সিভিতে যা লেখা আছে, ভিডিওতে ঠিক তাই বলা সময়ের অপচয়। কাগজের সিভি আপনার কাজের ইতিহাস বলে। আর ভিডিও সিভি বলে আপনার ব্যক্তিত্বের কথা। সিভির না বলা কথাগুলো এখানে বলুন। কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতা নিয়ে এখানে আলোচনা করতে পারেন। নিয়োগদাতাকে এমন কিছু বলুন যা আপনার প্রথাগত কাগজের সিভিতে নেই।

আরও পড়ুন

পরিবেশ ও পোশাকের দিকে নজর দিন

ভিডিওর সৌন্দর্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দামি ক্যামেরা না থাকলেও চলবে। তবে আপনার চারপাশ যেন পরিষ্কার আর গোছানো থাকে। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দিনের আলোতে ভিডিও করা সবচেয়ে ভালো। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে রিং লাইট ব্যবহার করতে পারেন। ইন্টারভিউতে যেমন পোশাক পরতেন, ভিডিওর ক্ষেত্রেও তেমন মার্জিত পোশাক পরুন। পেছনের দৃশ্য যেন হিজিবিজি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

সবকিছুর মূলে হলো আপনার প্রাণশক্তি

নিয়োগদাতারা সবসময় আগ্রহী ও উৎসাহী মানুষ খোঁজেন। দুজন প্রার্থীর যোগ্যতা সমান হলে যার ভঙ্গি প্রাণবন্ত, তিনিই জয়ী হন। ভিডিও রেকর্ড করার আগে নিজেকে একবার যাচাই করে নিন। আপনার কণ্ঠস্বরে যেন আত্মবিশ্বাস আর কাজের প্রতি ভালোবাসা ফুটে ওঠে। স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি উৎসাহ নিয়ে কথা বলুন। নিজেকে উপস্থাপনের এ সুযোগটি হেলায় হারাবেন না।

একের পর এক সিভি পাঠিয়েও অনেকে চাকরি পাচ্ছেন না
ছবি: সুমন ইউসুফ
আরও পড়ুন

ভিডিও সিভি জমা দিবেন কীভাবে

ভিডিওটি সরাসরি ই-মেইলে অ্যাটাচ করবেন না। এটি প্রথমে ইউটিউব বা ভিমিওতে আপলোড করুন। প্রাইভেসি সেটিং ‘আনলিস্টেড’ করে দিন যেন শুধু লিংক থাকলেই দেখা যায়। এরপর ভিডিওর লিংকটি সিভির শুরুতে বা কভার লেটারে যোগ করুন। চাইলে সিভিতে একটি কিউআর কোডও দিতে পারেন। এটি স্ক্যান করলেই সরাসরি ভিডিওটি চালু হবে।

ভিডিও সিভি নিয়োগকর্তাকে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব বুঝতে দারুণ সাহায্য করে। এটি আপনার যোগাযোগ ও উপস্থাপনার দক্ষতা সরাসরি প্রমাণ করে। মনে রাখবেন, ভিডিও সিভি কখনোই প্রথাগত সিভির বিকল্প নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী সহায়ক অংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের অনেক স্টার্টআপ ও বড় কোম্পানি প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস যাচাই করতে ভিডিও সিভি বেশ পছন্দ করছে।

আরও পড়ুন