সিভিতে যেসব দক্ষতা থাকলে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়

ছবি: কবির হোসেন

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, সিভিতে শুধু যোগাযোগের দক্ষতা, নেতৃত্ব বা টিমওয়ার্কের মতো সফট স্কিল উল্লেখ করাই আর যথেষ্ট নয়। ৯ হাজার ৭০০টি সিভি বিশ্লেষণে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, টেকনিক্যাল দক্ষতা উল্লেখ করা প্রার্থীদের চাকরি পাওয়ার হার সফট স্কিল উল্লেখকারীদের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি।

চাকরির বাজারে কারিগরি দক্ষতা এগিয়ে

চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিভিতে কোন দক্ষতা উল্লেখ করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সফট স্কিলের তুলনায় কারিগরি দক্ষতা (টেকনিক্যাল স্কিল) উল্লেখ করা প্রার্থীদের চাকরি পাওয়ার হার বেশি।

ক্যারিয়ার ওয়ার্কফোর্স সলিউশন প্রতিষ্ঠান কেয়ারমাইন্ডস ৯ হাজার ৭০০টি জীবনবৃত্তান্ত বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, সিভিতে কারিগরি দক্ষতা উল্লেখ করা চাকরিপ্রার্থীদের ২০ শতাংশ নতুন চাকরি পেয়েছেন।

আরও পড়ুন

ট্যাবলু, ডেটা অ্যানালাইসিস, পাইথন ও এসকিউএল এগিয়ে

গবেষণায় সবচেয়ে বেশি কার্যকর হিসেবে উঠে এসেছে ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন সফটওয়্যার ট্যাবলু ব্যবহারের দক্ষতা। সিভিতে ট্যাবলুতে দক্ষতার কথা উল্লেখ করা প্রার্থীদের ২৫ শতাংশের বেশি চাকরি পেয়েছেন।

এ ছাড়া ডেটা অ্যানালাইসিস, পাইথন ও এসকিউএল দক্ষতাও নিয়োগদাতাদের কাছে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।

শুধু ‘কমিউনিকেশন স্কিল’ লিখলেই হচ্ছে না

চাকরিপ্রার্থীদের সিভিতে সফট স্কিলের উপস্থিতি বেশি হলেও সেগুলোর সঙ্গে চাকরি পাওয়ার হার তুলনামূলক কম ছিল। যেমন: ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ সিভিতে যোগাযোগ দক্ষতার কথা উল্লেখ ছিল। এসব প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার হার ছিল ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ। টিমওয়ার্ক, নেতৃত্ব ও কাস্টমার সার্ভিসের মতো দক্ষতাও তুলনামূলক কম কার্যকর ছিল।

কেয়ারমাইন্ডসের ক্যারিয়ার বিশেষজ্ঞ ও ক্যারিয়ার কোচ আমান্ডা অগাস্টিন বলেন, যে কেউ নিজেকে ভালো যোগাযোগকারী, কার্যকর নেতা কিংবা কোনো প্রযুক্তিতে দক্ষ বলে দাবি করতে পারেন। তবে সেই দক্ষতা কোথায় ও কীভাবে কাজে লাগানো হয়েছে, তা দেখাতে পারলেই দাবিটি বিশ্বাসযোগ্য হয়।

আরও পড়ুন

এআই দক্ষতাও বাড়াচ্ছে চাকরির সম্ভাবনা

গবেষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই–সংক্রান্ত দক্ষতার গুরুত্বও উঠে এসেছে। মাত্র ৩ শতাংশ সিভিতে এআই টুল ব্যবহারের দক্ষতার উল্লেখ ছিল। তবে যেসব সিভিতে এআই–সংক্রান্ত দক্ষতা ছিল, তাঁদের নতুন চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল অন্যদের তুলনায় ১ দশমিক ৪ গুণ বেশি।

অগাস্টিন বলেন, এআই বিষয়ে সুবিধা পেতে কাউকে এআই ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না। কর্মক্ষেত্রে এআই টুলের ব্যবহার বাড়তে থাকায় চাকরিপ্রার্থীদের নিজেদের ক্ষেত্রের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এআই টুল ও দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া ও সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি করা উচিত।

আরও পড়ুন

দক্ষতার তালিকার চেয়ে বাস্তব প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণাটি বলছে, শুধু দক্ষতার তালিকা সিভিতে যোগ করাই যথেষ্ট নয়; বরং বাস্তব কাজ, প্রকল্প বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেই দক্ষতা কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা তুলে ধরতে পারলে চাকরিপ্রার্থীর সিভি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।