সিলেবাসে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে বেশি নম্বর বরাদ্দ দুটি ফোকাস রাইটিং লেখার জন্য। দুটি ফোকাস রাইটিং লিখতে ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট সময় নেওয়া যাবে। লেখার জন্য জায়গা নির্দিষ্ট, তাই অনেক বেশি লেখার সুযোগ নেই। এখানে কোয়ান্টিটির পাশাপাশি কোয়ালিটির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

ঢালাওভাবে লেখার চেয়ে আপনার নিজস্ব সৃজনশীলতা ও সংক্ষেপে তথ্য উপস্থাপনের ধরন আপনাকে এগিয়ে রাখতে পারে। সময়ও বাঁচাতে সাহায্য করবে। ফোকাস রাইটিংয়ের প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ার বিকল্প নেই। একটি বিষয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ শব্দের মধ্যে সবকিছু কীভাবে উপস্থাপন করা যায়, তা বুঝতে বিভিন্ন কলামিস্টদের কলাম লেখার ধরন অনুসরণ করতে পারেন।

বিশেষ করে, অর্থ ও বাণিজ্য, জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাংকিং খাতের আলোচিত ঘটনা, বিভিন্ন প্রকার ব্যাংকিং ও প্রান্তিক পর্যায়ে তার সুফল, বিভিন্ন প্রকার বন্ড, যোগাযোগব্যবস্থা, খাদ্যনিরাপত্তা, রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক ঋণ—এসব বিষয়ে ভালোভাবে নজর রাখতে হবে।

এ জন্য সংবাদগুলো একসঙ্গে গুগল ড্রাইভে, মুঠোফোনে বা কম্পিউটারে ফোল্ডার করে রাখতে পারেন। আলাদা কোনো বই পড়ার দরকার নেই। ফোকাস রাইটিংয়ে কমন না পড়ার সম্ভাবনাই বেশি, তাই যেকোনো বিষয়ে ফ্রি হ্যান্ড রাইটিংয়ের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

ইংরেজি প্যাসেজ থেকে ৩০ নম্বর থাকবে। আগের পরীক্ষাগুলোয় ২০ নম্বরের জন্য চার থেকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়েছে। এবার তার সঙ্গে নতুন কিছু থাকতে পারে। প্যাসেজ পড়া এবং সব কটি উত্তর করতে ১৮ থেকে ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখতে হবে।

লিখিত পরীক্ষার অন্যান্য অংশ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে এই অংশেও ভালো করবেন। আলাদা প্রস্তুতির দরকার নেই। প্যাসেজ পড়া আর সেখান থেকে উত্তর করাতে সময় যেহেতু কম, তাই প্যাসেজ পড়ার আগে প্রশ্নগুলো পড়ে নিতে পারেন। এতে উত্তর খুঁজে পেতে সহজ হবে। এখানে কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না পেলেও ছেড়ে আসবেন না, এখানে অনেক নম্বর তোলা সম্ভব।

লিখিত পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের একটি আর্গুমেন্ট থাকবে। আর্গুমেন্ট লেখার আগে একাধিকবার বিষয়টি ভালো করে পড়বেন। এর পক্ষে বা বিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

দুটি ফোকাস রাইটিংয়ের পর একটি আর্গুমেন্ট লেখতে গেলে হাতে খুব বেশি সময় পাওয়া যাবে না, বড়জোর ১৬ থেকে ১৮ মিনিট বরাদ্দ রাখা যাবে। এখানে সঠিক বা ভুল কিছু নেই, আপনি যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও উদাহরণ টেনে আপনার মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। সুন্দরভাবে সংক্ষেপে আর্গুমেন্ট লিখতে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতগুলো পড়তে পারেন।

এবারে অনুবাদে বরাদ্দ নম্বর ১০। এই অংশে ভালো করলে আপনি হয়তো ৮ থেকে ৯ নম্বরও তুলতে পারবেন। খেয়াল রাখতে হবে অনুবাদে পাঁচ থেকে ছয় মিনিটের বেশি সময় যাতে না লাগে। প্রতিদিন ফোকাস রাইটিংয়ের প্রস্তুতির সঙ্গে সঙ্গেই অনুবাদের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব, আলাদা করে সময় দেওয়ার দরকার নেই।

লিখিত পরীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গণিত। গত বছরের সহকারী পরিচালক পদে পরীক্ষায় ৩৫ নম্বরের জন্য ৫টি সমস্যার সমাধান চাওয়া হয়েছিল। এবার বরাদ্দ করা নম্বর ৩০। ফলে তিন থেকে ছয়টি সমস্যার সমাধান করতে হতে পারে। যতগুলো সমাধানই চাওয়া হোক না কেন, মাথা ঠান্ডা রেখে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারলে আপনি এখান থেকে পুরো নম্বরটাই পেতে পারেন। গণিতে ভালো করতে আগের বছরের ব্যাংক জবের প্রশ্নগুলো দেখতে পারেন।

এবারের পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞান থেকে ৩০ নম্বরের প্রশ্ন হবে। এ জন্য ১০ থেকে ৩০টি প্রশ্নের উত্তর করতে হতে পারে। এতে ভালো করতে হলে গত কয়েক মাসের ঘটনাবলি জানা দরকার। এগুলো অনেকটা প্রিলিমিনারির পরীক্ষার মতো। শুধু পার্থক্য এখানে কোনো অপশন থাকে না। গতবার অনেকেই প্রস্তুতির অভাবে এই অংশে পিছিয়ে পড়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন দেশের নতুন সরকারপ্রধান, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, খেলাধুলা, নোবেল পুরস্কার, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও ব্যাংকিং খাতের আলোচিত বিষয় ইত্যাদি বেশি বেশি দেখা প্রয়োজন। এখানে প্রচুর সময় বাঁচানো সম্ভব। আপনি যেসব উত্তর জানেন, তা মাত্র ৮ থেকে ৯ মিনিটেই করে ফেলবেন। সবাই সব কটি উত্তর জানবেন না, যেটি পারবেন না, সেটি নিয়ে খুব বেশি সময় নষ্ট না করে অন্যগুলো ভালোভাবে লেখার চেষ্টা করবেন।

পরীক্ষার প্রস্তুতি যত ভালো থাকুক না কেন, পরীক্ষার কক্ষে যেকোনো প্রতিকূলতা মোকাবিলা করার জন্য মানসিকভাবে তৈরি থাকতে হবে। এবার একটি বড় সুবিধা হলো বিভিন্ন অংশের নম্বর বণ্টন আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কখনোই শেষ হবে না, আপনি স্বল্প সময়ে যে প্রস্তুতি নিতে পারবেন, সেটিকে পুঁজি করেই পরীক্ষার হলে যেতে হবে।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটি এখানে আলোচনা না করলেই নয়। পরীক্ষার্থীদের মাঝে প্রায়ই কাটমার্ক নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা দেখা যায়। লিখিত পরীক্ষায় কাটমার্ক নিয়ে ভাবার কোনো দরকার নেই।

আপনার লক্ষ্য থাকবে দুই ঘণ্টায় সব কটি প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে দিয়ে আসা। সব সময় নিজেকে নিয়ে ইতিবাচক থাকবেন, নিজের সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে লিখিত পরীক্ষাটি হয়তো আপনার জীবনের সবচেয়ে ফলপ্রসূ দুই ঘণ্টা হতে পারে। সবার জন্য শুভকামনা।