নতুন চাকরিতে প্রথম ৯০ দিন: কী করবেন, কী করবেন না

ছবি: এআই

নতুন চাকরিতে প্রথম দিনটি সাধারণত ব্যস্ততায় কাটে। নতুন ডেস্ক, নতুন সহকর্মী, নতুন নিয়ম। কে কী কাজ করেন, কোন ফাইল কোথায় থাকে—সবই নতুন। কিন্তু আসল পরীক্ষা প্রথম দিন নয়। প্রথম ৯০ দিন। এই তিন মাসই ঠিক করে দেয় আপনি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ মেয়াদে কতটা সফল হবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘গার্টনার’-এর ২০২৬ সালের গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন কর্মীর প্রথম ৯০ দিনের মূল্যায়ন নির্ভর করে কাজের ফল, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। তাই প্রথম তিন মাসকে শুধু ‘জানাবোঝার সময়’ ভাবলে চলবে না। এটিকে ভাবতে হবে নিজেকে প্রমাণ করার সেরা সুযোগ।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত গবেষণা সাময়িকী ‘জার্নাল অব ম্যানেজমেন্ট’-এর ২০২৫ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখায়। তালিয়া এন. বাওয়ার ও বেরিন এরদোগানসহ ছয় গবেষকের পরিচালিত এই পর্যালোচনায় ৩৩টি দেশের ২৫৬টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এশিয়ার উল্লেখযোগ্য অংশ এতে যুক্ত ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, কর্মস্থলে নতুনদের দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো—সক্রিয় হয়ে তথ্য খোঁজা, অভিজ্ঞ সহকর্মী বা পরামর্শদাতার সহায়তা নেওয়া, নিয়মিত ফিডব্যাক চাওয়া এবং দলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। গবেষকদের মতে, দলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া ও নিজের কাজ ভালোভাবে আয়ত্ত করাই পরবর্তী সময়ে কর্মদক্ষতা ও কাজের সন্তুষ্টি বাড়ায়।

আমাদের দেশে নতুন চাকরিতে ঢুকেই অনেকে দ্রুত কৃতিত্ব দেখাতে গিয়ে হুটহাট ভুল করে বসেন। অথচ কৌশল জানা থাকলে যেকোনো নতুন কর্মী অল্প সময়েই সবার প্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।

নতুন চাকরিতে শুনতে, শিখতে ও রিসোর্সফুল হতে উদগ্রীব থাকতে হয়। প্রথম ৩০ দিনে প্রতিষ্ঠান বোঝা, ৩০ থেকে ৬০ দিনে নিজ দক্ষতা প্রমাণ এবং ৬০ থেকে ৯০ দিনে স্বাধীনভাবে কাজ করা জরুরি।

প্রথম ৩০ দিন: আগে বুঝুন, তারপর কাজ দেখান

নতুন কর্মক্ষেত্রে ঢুকেই সবকিছু বদলে ফেলার চেষ্টা করা ঠিক নয়। প্রথম মাসের প্রধান কাজ হলো অফিসকে বোঝা। অফিসের পরিবেশ, সহকর্মীদের আচরণ ও বসের প্রত্যাশা বুঝুন। এই সময়ে বেশি শুনুন আর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নোট রাখুন। একই কথা বারবার না জিজ্ঞেস করে দ্রুত শেখার মানসিকতা দেখান। ‘সব জানি’ প্রমাণ করার চেয়ে ‘দ্রুত শিখছি’ বোঝানো বেশি জরুরি।

ছবি: এআই/প্রথম আলো

৩০ থেকে ৬০ দিন: এবার নিজের কাজের ছাপ রাখুন

এবার প্রতিষ্ঠানে নিজের দায়িত্বের জায়গাগুলো চিনে নিন। কোথায় ভুল কম করা যায় বা কীভাবে সময় বাঁচানো যায়, তা নিয়ে ভাবুন। তবে সহকর্মীদের কাজের সমালোচনা না করে নম্রভাবে পরিবর্তনের পরামর্শ দিন। ছোট কোনো দায়িত্ব নিজে থেকে নিন এবং সময়মতো কাজ শেষ করে ভালো ফল দেখান।

৬০ থেকে ৯০ দিন: নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করুন

এই ধাপে স্বাধীনভাবে কাজ শেষ করার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কাজ শেষে বসের কাছে শুধু ‘হয়ে গেছে’ বলবেন না। কাজের ফল কী এল এবং ভবিষ্যতে আরও কীভাবে উন্নতি করা যায়, তা চমৎকারভাবে তুলে ধরুন। নিজের যোগ্যতা সৃজনশীলভাবে প্রমাণ করুন।

আরও পড়ুন

বসের দৃষ্টিতে আলাদা হওয়ার ছয় স্মার্ট উপায়

কাজের উদ্দেশ্য বোঝা: শুধু কাজের সময়সীমা নয়, কাজটি কেন করছেন তা জানুন।

প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা: সমস্যায় পড়লে আগেই নিজের মতো কিছু সমাধান ভেবে নিয়ে বসের কাছে যান।

কম প্রতিশ্রুতি, বেশি কাজ: যা পারবেন না তা আগেই জানান। যতটুকু বলবেন, তার চেয়ে ভালো কাজ উপহার দিন।

ভুল স্বীকার করা: কাজে ভুল হলে লুকাবেন না। স্বীকার করুন। সম্ভব্য সমাধানের উপায় প্রস্তাব করুন।

ফিডব্যাক চাওয়া: ‘আমার কাজ কেমন হচ্ছে?’—এই প্রশ্ন করতে লজ্জা পাবেন না।

দলগতভাবে কাজ করতে শিখুন: শুধু বসের প্রিয় পাত্র না হয়ে পুরো টিমের আস্থার মানুষ হয়ে উঠুন।

আরও পড়ুন

যে ভুলগুলো ভুলেও করবেন না

প্রথম দিনেই অফিসের সব নিয়ম বা পরিবেশ নিয়ে কটু মন্তব্য করবেন না। কাজ না বুঝে মতামত দেওয়া বা তুচ্ছ সমস্যায় বসের কাছে ছুটে যাওয়া চরম ভুল। আবার সমস্যা লুকিয়ে রাখা বা ছোটখাটো ভুলের ভয়ে অলস বসে থাকাও মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রের বৈশ্বিক নির্দেশনাগুলো একটি কথাই বলে। নতুন চাকরিতে মূল উদ্দেশ্য বসকে কেবল খুশি করা নয়। আসল লক্ষ্য হলো এমন একজন কর্মী হওয়া, যাকে দেখলে বস মনে মনে বলতে পারেন—‘এই কাজটা ওকে দিয়ে নিশ্চিন্তে করানো যায়।’

আরও পড়ুন