সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপের মৌখিক পরীক্ষা চলবে আগামী আগস্ট পর্যন্ত। প্রথম ধাপে ২২ জেলায় ১২ জুন থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। একেকটি উপজেলায় প্রতিদিন ৪০ থেকে ৭০ জনের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মো. আল-মামুন ঢাকার কোতোয়ালি থানার নবরায় লেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে প্রাথমিকের মৌখিক পরীক্ষা দেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০২০ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার্থে তাঁর মৌখিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হলো।
অনুমতি নিয়ে মৌখিক পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করে ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের সালাম দেন মো. আল-মামুন।
পরীক্ষক: বসুন। (শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ একনজর দেখেন )। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়ে প্রাথমিকে কেন আসতে চাচ্ছেন?
মো. আল-মামুন: স্যার, আমরা জানি শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মেরুদণ্ড। একজন প্রাথমিকের স্কুলের শিক্ষকই এই জায়গায় মূল ভূমিকা পালন করেন। তা ছাড়া শিক্ষকতা একটি মহান পেশা, যেখানে রয়েছে সামাজিক সম্মান। তাই আমি এই পেশায় আসতে চাচ্ছি।
পরীক্ষক: (পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজি বই থেকে একটি প্যাসেজ পড়তে বলেন)
মো. আল-মামুন: (স্পষ্ট উচ্চারণে সুন্দরভাবে পড়লাম)
পরীক্ষক: এই চাকরিতে থাকাকালীন অন্যত্র চাকরি হলে চলে যাবেন কি না?
মো. আল-মামুন: সময় উপযোগী সার্বিক দিক বিবেচনা করে ভালো সিদ্ধান্ত নেব তখন। বিসিএস দিচ্ছি, হয়নি এখনো।
পরীক্ষক: বিসিএস দিয়েছেন কি না?
মো. আল-মামুন: বিসিএস দিচ্ছি, হয়নি এখনো।
পরীক্ষক: বঙ্গবন্ধুর কোনো বই পড়েছেন কি?
মো. আল-মামুন: পড়েছি।
পরীক্ষক: কোন বই?
মো. আল-মামুন: অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
পরীক্ষক: এই বই প্রকাশের সময় ও প্রকাশক কে বলেন।
মো. আল-মামুন: (সঠিক উত্তর দিলাম)
পরীক্ষক-২ (ম্যাডাম): টেল মি সামথিং অ্যাবাউট ইয়োর এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটস।
মো. আল-মামুন: (ইংরেজিতেই একটু এলোমেলোভাবে উত্তর দিলাম)
পরীক্ষক-২: মুক্তিযুদ্ধের ২ জন সেক্টর কমান্ডার এবং তাঁরা কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন, বলুন।
মো. আল-মামুন: (সঠিকভাবে ১ ও ২ নম্বর সেক্টর কমান্ডারের নাম বললাম)
পরীক্ষক-২: ধন্যবাদ ও বেস্ট অব লাক। এবার আপনি আসুন।
মো. আল-মামুন: আমিও ধন্যবাদ ও সালাম দিয়ে ভাইভা বোর্ড থেকে বের হলাম।