৪৩তম বিসিএসের আবেদন ফরম পূরণ যেভাবে করবেন

গত বছরের ৩০ নভেম্বর ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। বিসিএসের স্বপ্নপূরণের এ অভিযাত্রায় প্রথম পদক্ষেপ আবেদনপ্রক্রিয়া। তাই নিয়ে দুই পর্বের লেখা বিসিএসপ্রত্যাশীদের জন্য
৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ভালো করার জন্য প্রস্তুতি অনেকেই শুরু করেছেন
ছবি: প্রথম আলো
দেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত চাকরিগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস বা বিসিএস। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন গত বছরের ৩০ নভেম্বর ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ৩০ ডিসেম্বর অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে এ মাসের ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। বিসিএসের স্বপ্নপূরণের এ অভিযাত্রায় প্রথম পদক্ষেপ হলো, সঠিকভাবে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। সে জন্যই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে আপনাদের জন্য এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

১.
আবেদনের আদ্যোপান্ত
প্রথমেই আবেদনসংক্রান্ত ওয়েবসাইটে (http://bpsc.teletalk.com.bd/) গিয়ে ৪৩তম বিসিএসের অনলাইন আবেদন লেখাটাতে ক্লিক করুন। আপনার সামনে জেনারেল ক্যাডার, টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডার এবং বোথ ক্যাডার রেডিও বাটন–সংবলিত তিনটি অপশন দৃশ্যমান হবে। আপনি যোগ্যতা ও পছন্দ অনুসারে যেকোনো একটি রেডিও বাটন সিলেক্ট করে অ্যাপ্লাই বাটনে ক্লিক করুন। এরপরই বিপিএসসি-১ ফরম ওপেন হবে, যা তিনটি পার্টে বিভক্ত। পার্ট-১ ব্যক্তিগত তথ্য, পার্ট-২ শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পর্কিত তথ্য এবং পার্ট-৩ ক্যাডার চয়েস–সংবলিত তথ্য। এবার ফরম পূরণ করা শুরু করুন।

আবেদনকারীরর নাম: এসএসসি সার্টিফিকেটে আপনার নাম যেভাবে আছে, সেভাবে ক্যাপিটাল লেটারে নিজের নাম লিখুন।
মাতার নাম: এসএসসি সার্টিফিকেটে আপনার মাতার নাম যেভাবে দেওয়া আছে, সেভাবে ক্যাপিটাল লেটারে মাতার নাম লিখুন।

পিতার নাম: এসএসসি সার্টিফিকেটে আপনার পিতার নাম যেভাবে দেওয়া আছে, সেভাবে ক্যাপিটাল লেটারে পিতার নাম লিখুন।
জন্ম তারিখ: এসএসসি সার্টিফিকেটে আপনার জন্মতারিখ যেটা উল্লেখ আছে, সেটাই লিখুন। জন্মতারিখ লিখতে ভুল করলে আপনার প্রার্থিতা বাতিল হবে।
লিঙ্গ: পুরুষ হলে Male, নারী হলে Female, তৃতীয় লিঙ্গের হলে Third Gender রেডিও বাটন চাপুন।

চাকরির তথ্য
যাঁর ক্ষেত্রে যেটা প্রযোজ্য, সেটা সিলেক্ট করুন। উদাহরণস্বরূপ, বেকার হলে Not Employed, রাজস্ব খাতের সরকারি চাকরি হলে Regular Basis under Revenue Budget, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে হলে Autonomous or Semi-autonomous Organization, বেসরকারি হলে Private Organization সিলেক্ট করুন। চাকরিতে আছেন উল্লেখ করলে পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে Non Objection Certificate (NOC) নিয়ে, সেটা পিএসসিতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় জমা দেওয়া লাগবে না।
উপজাতীয়/সংখ্যালঘু
উপজাতি হলে Yes রেডিও বাটন চাপুন। অন্যথায় No বাটন চাপুন।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হলে Child of Freedom Fighter, নাতি বা নাতনি হলে Grand Child of Freedom Fighter, মুক্তিযোদ্ধা কোটা না থাকলে Non Freedom Fighter সিলেক্ট করুন। যতটুকু জানি, বর্তমানে কোটা সুবিধা নেই। এ অপশন রাখা হয়েছে শুধু বয়সের জন্য। স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রার্থীরাও এ সুবিধা ভোগ করেন।

বৈবাহিক অবস্থা
বিবাহিত হলে Married রেডিও বাটন চাপুন। তারপর স্বামী বা স্ত্রীর নাম লিখুন। বিবাহিত ছাড়া অন্য যা–ই কিছু হোন না কেন, Single বাটন চাপুন।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষা যদি ইংরেজি মাধ্যমে দিতে চান, তাহলে এই ঘরে ক্লিক করুন। অন্যথায় ক্লিক করবেন না। কারণ, পরবর্তী সময়ে ভার্সন পরিবর্তন করতে পারবেন না।
ওপরের সব তথ্য সঠিক দিয়েছেন মর্মে প্রত্যয়ন দিয়ে Next বাটন চাপুন

জাতীয়তা
বাংলাদেশি। তবে এ অপশন সিলেক্ট করাই থাকবে।
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে Yes রেডিও বাটন চাপুন এবং পরিচয়পত্র নম্বর দিন। পরিচয়পত্র না থাকলে No রেডিও বাটন চাপুন। পরবর্তী সময়ে পরিচয়পত্র পেলে আবেদন করে পিএসসিতে জমা দেবেন।
প্রতিবন্ধী
প্রতিবন্ধী না হলে None বাটন চাপুন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলে Visually Disabled বাটন চাপুন। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলে Physically Disabled বাটন চাপুন।
উচ্চতা
উচ্চতা সেন্টিমিটার (cm) এককে লিখুন। আপনার উচ্চতা সেন্টিমিটারে জানা না থাকলে ইঞ্চিতে জানা উচ্চতাকে ২.৫৪ দ্বারা গুণ করলে সেন্টিমিটারে পরিণত হবে।
ওজন
যেকোনো ওজন মেশিনে ওজন মেপে ওজন কিলোগ্রামে (Kg) লিখুন।
বুকের মাপ
সাধারণ অবস্থায় বুকের মাপ সেন্টিমিটার (cm) এককে লিখুন।
বর্তমান ঠিকানা
আপনি বর্তমানে যে ঠিকানায় অবস্থান করছেন এবং চিঠিপত্র পেতে চান, সেই ঠিকানার প্রযত্নে, গ্রাম, জেলা, উপজেলা, ডাকঘর ও ডাকঘরের কোড ক্যাপিটাল লেটারে লিখুন। চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পর বর্তমান ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে।

অনেকেরই স্বপ্ন থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। স্বপ্ন পূরণে করতে হয় কঠোন পরিশ্রম
প্রথম আলো ফাইল ছবি

স্থায়ী ঠিকানা
স্থায়ী ঠিকানার প্রযত্নে, গ্রাম, জেলা, উপজেলা, ডাকঘর ও ডাকঘরের কোড ক্যাপিটাল লেটারে লিখুন। চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পর স্থায়ী ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে।

যেহেতু বর্তমান ও স্থায়ী উভয় ঠিকানায়ই ভেরিফিকেশন হয়, তাই বর্তমান ঠিকানা আর স্থায়ী ঠিকানা এক দেওয়া ভালো। তাতে ঝামেলা কম হবে। নারীরা নিজের সুবিধামতো বাবার বাড়ি বা স্বামীর বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করতে পারেন।

যোগাযোগের নম্বর
যে মোবাইল নম্বরে পরীক্ষাসংক্রান্ত এসএমএস পেতে চান, সেই মোবাইল নম্বর লিখুন। কোনো সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষ যাতে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, সে জন্য নিজের নম্বর ব্যবহার করাই ভালো।
Re-type Mobile: আবার একই মোবাইল নম্বর দিন।

পরীক্ষাকেন্দ্র
আপনি যে কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে চান, সেই কেন্দ্র সিলেক্ট করুন। এখন এক্সাম সেন্টার যেটা দেবেন, সেই সেন্টারেই প্রিলিমিনারি ও রিটেন পরীক্ষা দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।

প্রশ্নপত্রের ধরন
প্রিলিমিনারি পরীক্ষা যদি ইংরেজি মাধ্যমে দিতে চান, তাহলে এই ঘরে ক্লিক করুন। অন্যথায় ক্লিক করবেন না। কারণ, পরবর্তী সময়ে ভার্সন পরিবর্তন করতে পারবেন না।
ওপরের সব তথ্য সঠিক দিয়েছেন মর্মে প্রত্যয়ন দিয়ে Next বাটন চাপুন। আপনার

সামনে পার্ট-২: শিক্ষাগত যোগ্যতা–সংবলিত একটা পেজ ওপেন হবে। আবার পূরণ করা শুরু করুন।

এসএসসি ও সমমান: সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, বোর্ড, রোল, রেজাল্ট, গ্রুপ ও পাসের সাল লিখুন।
এইচএসসি ও সমমান: সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, বোর্ড, রোল, রেজাল্ট, গ্রুপ ও পাসের সাল লিখুন।

মনে রাখতে হবে, এসএসসি ও এইচএসসির ক্ষেত্রে বোর্ড ও গ্রুপের ঘরে যদি কেউ Others অপশন পূরণ করে, তাহলে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে (ক্যাডার) লিখিতভাবে জানাতে হবে।

স্নাতক: সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, বিষয়, রেজাল্ট, পাসের সাল এবং কত বছর মেয়াদি কোর্স, সেটা লিখুন। যাঁরা অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে আবেদন করছেন, তাঁরা পরীক্ষা শুরু ও শেষের তারিখ লিখুন। মনে রাখবেন, ২০১৫ সালের পরীক্ষা সেশনজটের কারণে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত হলেও আপনার পাসের সাল ২০১৫।

স্নাতকোত্তর: প্রযোজ্য হলে টিক চিহ্ন দিন। তারপর সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, বিষয়, রেজাল্ট, পাসের সাল এবং কত বছর মেয়াদি কোর্স, সেটা লিখুন।
মনে রাখবেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রে বিষয়ের ঘরে যদি কেউ Others পূরণ করেন, তাহলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে (ক্যাডার) লিখিতভাবে জানাতে হবে।

Additional Qualification for Teachers Training College: প্রযোজ্য হলে টিক চিহ্ন দিন। এরপর সার্টিফিকেট অনুসারে পরীক্ষার নাম, প্রতিষ্ঠানের নাম, রেজাল্ট ও পাসের সাল লিখুন।

Post Related Subjects: শুধু টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ও বোথ ক্যাডারদের জন্য এ অপশন প্রযোজ্য, জেনারেলদের জন্য নয়। আপনার সাবজেক্ট সিলেক্ট করুন।

ওপরের সব তথ্য সঠিক দিয়েছেন মর্মে প্রত্যয়ন দিয়ে Next বাটন চাপুন। আপনার সামনে পার্ট-৩: Cadre Option সংবলিত একটি পেজ ওপেন হবে।

লেখক: মো. আরিফুর রহমান, ৩৮তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত, মেধাক্রম-৭