পিএসসি সূত্র জানায়, পরীক্ষা চলাকালে দেখাদেখি ও এক প্রার্থী আরেক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক সময় প্রার্থীরা পরীক্ষার সময় যে দেখাদেখি ও কথা বলাবলি করে তা বন্ধ করতে চায় পিএসসি। এ জন্য আজ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এগুলো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএসসি। পিএসসির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, পরীক্ষা চলাকালে কথা বললে বা দেখাদেখি করলে প্রার্থীদের খাতা তাৎক্ষণিক নিয়ে নেওয়া হবে। তাঁকে আর পরীক্ষা দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে। এ ছাড়া ওই প্রার্থীর অভিযোগ গুরুতর হলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। ২৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা থেকেই বিষয়টি প্রয়োগ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, আমরা একটি আদর্শ ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি। যেখানে পরীক্ষার হলে কোনো প্রার্থী কথা বলবে না বা দেখাদেখি করবে না। এটি করলে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আমরা কড়া ব্যবস্থা নেব। হয়তো একবারে এটি বন্ধ হবে না হবে আমাদের চেষ্টা ও উদ্যোগ আছে এটি আমরা পুরোপুরি বন্ধ করতে চাই। এখন থেকে পিএসসি যত পরীক্ষা নেবে সবগুলোতেই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। আমরা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে চাই।

সভা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায় আজকের সভায় ২৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকার ৮ টি কেন্দ্র ও ঢাকার বাইরের বিভাগীয় শহরের ৭ টি মোট ১৫টি কেন্দ্রে ৪৩তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় পিএসসি চেয়ারম্যান ছাড়াও সদস্য, যেসব কেন্দ্রে পরীক্ষা হবে সেখানের প্রতিষ্ঠান প্রধান, পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫ হাজার ২২৯ প্রার্থী। গত বছরের ২৯ অক্টোবর ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়।

৪৩তম বিসিএসে আবেদন জমা পড়েছিল ৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০টি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইনাল পরীক্ষা শেষ না হওয়ার কারণে তিন দফায় ৪৩তম বিসিএসের আবেদনের সময় বাড়িয়েছিল পিএসসি।

এ বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ জন কর্মকর্তা নেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১০০, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫, শিক্ষা ক্যাডারে ৮৪৩, অডিটে ৩৫, তথ্যে ২২, ট্যাক্সে ১৯, কাস্টমসে ১৪ ও সমবায়ে ১৯ জন নিয়োগ দেওয়া হবে।

চাকরি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন