আইডিয়ালে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৭৫ শতাংশ
স্কুলের মূল ফটকের সামনে নেই অভিভাবকদের ভিড়। স্কুলের ভেতরেও নেই শিক্ষার্থীদের আনাগোনা, হইচই বা ভালো ফল করা নিয়ে উচ্ছ্বাস। অথচ প্রতিবছর ফল প্রকাশের দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ভিড় করতেন।
রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বেলা ১১টার দিকে দেখা গেল এমন চিত্র। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার পর এক-দুজন করে এসএসসি পরীক্ষার্থী আসতে শুরু করে। তাদের বেশির ভাগ অনলাইনে পরীক্ষার ফল জেনেছে। তবু স্কুলে এসেছে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে ভালো ফলের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
তেমনই একজন আবরার ফাইয়াজ। বাসায় বসে অনলাইনে দেখেছে, এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তবু মাকে নিয়ে স্কুলে এসেছে। আবরার বলে, ‘বাসা থেকে ফল জেনেই এসেছি।’ স্কুলে বন্ধু ও শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা হবে বলেই আসা। পড়াশোনা শেষে প্রকৌশলী হতে চায় আবরার।
পুরানা পল্টন থেকে আসা আশফিয়া রহমানের কথায় একই সূর। সেও জিপিএ-৫ পেয়েছে। আশফিয়া বলে, ‘স্কুল শেষ হয়ে গেল। আর তো স্কুলজীবন ফিরে পাব না। যদিও বাসায় বসে সবাই ফলাফল দেখেছি, তবু স্কুলে এসে ফলাফল পাওয়া একটা আলাদা ব্যাপার। একসঙ্গে উদ্যাপন করার একটা ব্যাপার তো আছেই।’
ভালো ফল করে কেমন লাগছে, এমন প্রশ্নে আশফিয়া বলে, ‘এবার এসএসসিতে আমরা সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারিনি। বেশ কিছু বিষয়ে আগের মূল্যায়ন অনুযায়ী এবারের ফলাফল হয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সঠিক মূল্যায়ন হয়নি। এবার কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়বে।’
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ২ হাজার ৬২৫ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৬০৮ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৯৬৫ জন। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৭৫ শতাংশ।
এবার এসএসসি পরীক্ষায় আইডিয়াল স্কুলে অকৃতকার্য হয়েছে ১৭ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ৮ জন বিজ্ঞান ও ৯ জন বাণিজ্য বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল।
কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম বলেন, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। শিক্ষার্থীরা সারা বছর পড়তে পারেনি। অনেকে ভেবেছে অটো পাস হয়ে যাবে। এবারের পরীক্ষায় কেউ হয়তো একটা পরীক্ষা দিয়েছে, আরেকটাতে অনুপস্থিত ছিল। এ কারণে এবার অনুপস্থিতি বেশি। এক–দুই মাস ক্লাস করে যে পরীক্ষা শিক্ষার্থীরা দিয়েছে, সে অনুযায়ী ভালো করেছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল অনলাইনে।
এবার পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রসঙ্গে শাহান আরা বেগম বলেন, তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে, বাকিগুলো আগের পরীক্ষার ফলের ওপর মূল্যায়ন করে হয়েছে। এ মূল্যায়ন খারাপ হয়নি।