default-image

করোনা মহামারির কারণে গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। পরে সিদ্ধান্ত হয় এসএসসি ও জেএসসির পরীক্ষার গড় ফলের ভিত্তিতে এইচএসসির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। অবশেষে আজ শনিবার ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শনিবার (আজ) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

বিজ্ঞাপন

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত বছরের এপ্রিলে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ শিক্ষার্থীর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এখন পরীক্ষা ছাড়াই ফল মূল্যায়ন করায় সবাই পাস করবেন। তবে সবার আগ্রহ, কে কত জিপিএ (গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ) পায়, তা নিয়ে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দুভাবে ফল জানা যাবে। প্রথমত যারা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী প্রাক্‌–নিবন্ধন করে রেখেছে, তাদের দেওয়া নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তায় ফল জানানো হবে। এ ছাড়া বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ফল জানতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা পেছাল

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা ছিল শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এ জন্য ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার মতো প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ২৪ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে শুধু দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে যারা এ বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে, তাদের নিয়মিত ক্লাস হবে। বাকি শ্রেণিগুলোর ক্লাস হবে সপ্তাহে এক দিন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

অবশ্য তখন বলা হয়েছিল, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত এবং করোনা মোকাবিলাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চূড়ান্ত তারিখ ঠিক করা হবে। তবে গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানাল, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (কওমি ছাড়া) চলমান ছুটি বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আগের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ শনিবার (৩০ জানুয়ারি) পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির ঘোষণা ছিল।
দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর করোনার সংক্রমণ রোধে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়, যা দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে সারা দেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ে প্রায় পৌনে দুই কোটি ছাত্রছাত্রী। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির কিছু বেশি। আর কলেজে মোট শিক্ষার্থী প্রায় অর্ধকোটি। বাকি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ে।
করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দেশের প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও শিক্ষাপঞ্জি ওলটপালট হয়ে গেছে। সংসদ টিভি, অনলাইন, রেডিও এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দূরশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলেও বাস্তবে ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই এই ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারেনি বলে বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দীর্ঘ এই বন্ধের ফলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলে আসছেন শিক্ষাবিদেরা। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

শিক্ষাবিদেরা বলছেন, এই চার কোটি শিক্ষার্থীর ক্ষতি পোষানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করে এগোনোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন