উত্তর

ক. যে পরিশোষণ প্রক্রিয়ায় বিপাকীয় শক্তির প্রত্যক্ষ প্রয়োজন হয়, তাকে সক্রিয় পরিশোষণ বলে।

খ. যে প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ কতগুলো ধারাবাহিক রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দুই অণু পাইরুভিক অ্যাসিডে পরিণত হয়, তাকে গ্লাইকোলাইসিস বলে। সব জীবিত কোষের সাইটোপ্লাজমে গ্লাইকোলাইসিস সংঘটিত হয়। এ কারণেই গ্লাইকোলাইসিসকে সাইটোপ্লাজমিক শ্বসন বলা হয়।

গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রক্রিয়াটি হলো গ্লাইকোলাইসিস। নিচে এর প্রথম তিনটি ধাপ বর্ণনা করা হলো:

১. প্রথম ধাপে গ্লুকোজ, ATP থেকে একটি ফসফেট গ্রহণ করে গ্লুকোজ ৬ ফসফেটে পরিণত হয়। এ বিক্রিয়ায় হেক্সোকাইনেজ এনজাইম ক্রিয়াশীল হয় এবং একটি ADP সৃষ্টি হয়। বিক্রিয়াটি একমুখী।

২. দ্বিতীয় ধাপে গ্লুকোজ ৬ ফসফেট, ফ্রুক্টোজ ৬ ফসফেটে রূপান্তরিত হয়। এ বিক্রিয়ায় ফসফোগ্লুকো–আইসোমারেজ এনজাইম ক্রিয়াশীল হয়। বিক্রিয়াটি দ্বিমুখী।

৩. তৃতীয় ধাপে ফ্রুক্টোজ ৬ ফসফেট, ATP থেকে একটি ফসফেট গ্রহণ করে ফ্রুক্টোজ ১.৬ বিসফসফেটে পরিণত হয়। এ বিক্রিয়ায় ফসফোফ্রুক্টোকাইনেজ এনজাইম ক্রিয়াশীল হয় এবং ADP তৈরি হয়। বিক্রিয়াটি একমুখী।

নিচে রেখাচিত্রের মাধ্যমে তিনটি ধাপ দেখানো হলো:

চিত্র: গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ার প্রথম তিনটি ধাপ

ঘ. Q দ্রব্যটি হলো পাইরুভিক অ্যাসিড। পাইরুভিক অ্যাসিড অসম্পূর্ণরূপে জারিত হলে ফার্মেন্টেশন ঘটে, যা অবাত শ্বসনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। নিচে শিল্পক্ষেত্রে Q দ্রব্যটির অসম্পূর্ণ জারণের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:

১. পাউরুটিশিল্পে: ময়দা-চিনির সঙ্গে ইস্ট যোগ করে পাউরুটি তৈরি করা হয়। ময়দা, চিনি ইত্যাদি উপকরণের সঙ্গে মিশ্রিত ইস্টের অবাত শ্বসনের ফলে সৃষ্টি হয় CO2 এবং ইথাইল অ্যালকোহল। CO2 গ্যাসের চাপে পাউরুটি ফুলে ফাঁপা হয় এবং তাপে অ্যালকোহল বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।

২. মদ্যশিল্পে: ইস্টের অবাত শ্বসন তথা ফার্মেন্টেশনকে কাজে লাগিয়ে মদ তৈরি করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় আঙুরের রস থেকে ওয়াইন এবং আপেলের রস থেকে সিডার তৈরি করা হয়।

৩. অ্যালকোহল প্রস্তুতিতে: শর্করার সঙ্গে ইস্টের ফার্মেন্টেশন বিক্রিয়ায় ইথাইল অ্যালকোহল তৈরি হয়।

৪. দুগ্ধশিল্পে: দুধের সঙ্গে Lactobacillus helveticus, Streptococcus lactis ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া মিশিয়ে ৩-৫ ঘণ্টার মধ্যে ৩৭-৩৮০ সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দই তৈরি করা হয়। এটিও ব্যাকটেরিয়ার অবাত শ্বসনের ফল।

৫. আয়ুর্বেদিক ওষুধশিল্পে: অনেক আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে বিভিন্ন ড্রাগের মিশ্রণের সঙ্গে চিটাগুড় দিয়ে পাত্র ঢেকে দেওয়া হয়। এতে চিটাগুড় থেকে অ্যালকোহল তৈরি হয়, যাতে বিভিন্ন ড্রাগের ঔষধি গুণ অ্যালকোহল কর্তৃক শোষিত হয়।

৬. চা ও কফি প্রক্রিয়াজাতকরণে: চা প্রক্রিয়াজাতকরণে ফার্মেন্টেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কফিশিল্পেও এর প্রয়োগ রয়েছে।

৭. মাংসওমাছশিল্পে:বিভিন্নইস্ট, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়ারফার্মেন্টেশনপ্রক্রিয়াকেকাজেলাগিয়েউৎপাদিতহয়মাংসজাতদ্রব্য।

৮. ভিটামিন তৈরিতে: থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন নামক ভিটামিন B ও B2 এই প্রক্রিয়ায় ইস্টের সাহায্যে তৈরি করা হয়।

৯. ভিনেগার উৎপাদন: গুড়ের মধ্যে ইস্ট মিশিয়ে ইথাইল অ্যালকোহল উৎপাদন করা হয়। এতে ব্যাকটেরিয়া দিয়ে জারণ ক্রিয়ার মাধ্যমে ভিনেগার উৎপাদন করা হয়।

১০. কোমল পানীয় শিল্পে: বিভিন্ন প্রকার কোমল পানীয়ের প্রধান উপাদান সাইট্রিক অ্যাসিড ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত হয়।

মোহাম্মদ আক্তার উজ জামান, প্রভাষক, রূপনগর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

এই অধ্যায়ের প্রকাশিত পূর্বের সৃজনশীল প্রশ্ন

অধ্যায় ১০ -এর সৃজনশীল প্রশ্ন