প্রশ্ন

ক. ব্যবসায় কী?

খ. সামাজিক ব্যবসায়ের ধারণাটি ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ইসলাম অ্যান্ড কোংয়ের কাজটি ব্যবসায়ের কোন শাখার অন্তর্গত? বর্ণনা করো।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী বলে তুমি মনে করো? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

ক. মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে বৈধভাবে পরিচালিত যাবতীয় অর্থনৈতিক কাজকে (যেমন: উৎপাদন , ক্রয়, বিক্রয় ইত্যাদি) ব্যবসা বলে।

খ. সামাজিক ব্যবসায় হচ্ছে এমন একধরনের ব্যতিক্রম ব্যবসায়, যেখানে উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী সামাজিক কোনো সমস্যা সমাধানকল্পে বা সামাজিক লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ করেন।

এ ধরনের ব্যবসায়ে বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ের অর্জিত মুনাফা ভোগ করতে পারেন না এবং অর্জিত মুনাফা ব্যবসায়ের সম্প্রসারণে পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী কেবল বিনিয়োগ করা মূলধন একটি নির্দিষ্ট সময় পর ফেরত নিতে পারেন। সব স্তরের মানুষ স্বার্থহীন সামাজিক ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করে মানসিক সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন। এ ব্যবসায়ের নীতি হলো No loss, No dividend. অর্থাৎ লোকসান নয়, লভ্যাংশও নয়। সামাজিক ব্যবসায়ের উল্লেখযোগ্য খাত হলো পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্রদের জন্য গৃহায়ণ, টিকাদান কর্মসূচি ইত্যাদি। সামাজিক ব্যবসায়ের কিছু উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হলো গ্রামীণ– ডানোন ইত্যাদি।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ইসলাম অ্যান্ড কোংয়ের কাজটি ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ সেবার অন্তর্গত।

ভোক্তা বা ক্রেতার প্রয়োজন পূরণের জন্য কোনো কাজ, সুবিধা বা সেবা যা বিভিন্ন পেশাজীবী তাঁদের বিশেষায়িত জ্ঞান দিয়ে অর্থের বিনিময়ে প্রদান করে থাকেন, তাকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে। যেমন: আইন ব্যবসায়, হিসাব বৃত্তি, প্রকৌশল ফার্ম ইত্যাদি। এদের কাজ সাধারণভাবে ব্যবসায়ের আওতাধীন হলেও প্রকৃতপক্ষে তা পেশা বা বৃত্তি হিসেবে গণ্য হয়। বর্তমান বিশ্ব সভ্যতায় এটি ব্যাপক আওতাবিশিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমষ্টি।

উদ্দীপকে বর্ণিত ইয়াসিন ইসলাম চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি পাস করে কারও অধীনে চাকরি না করে ইসলাম অ্যান্ড কোং নামে একটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হিসাবের নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করেন যা প্রত্যক্ষ সেবার আওতাভুক্ত। প্রতিষ্ঠানটিকে সাধারণভাবে মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি প্রত্যক্ষ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি যে সুবিধা প্রদান করছে তা অস্পর্শনীয়, মালিকানা হস্তান্তরযোগ্য নয়, মজুতযোগ্য নয় এবং মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশায় সেবাকর্ম সম্পাদন করে। সুতরাং জনাব ইয়াসিন ইসলামের প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়ের প্রত্যক্ষ সেবার অন্তর্গত।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হলো বিজ্ঞাপন ও প্রচারের মাধ্যমে প্রসার ঘটানো।

অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে স্বাধীন পেশায় নিয়োজিত উকিল, ডাক্তার, প্রকৌশলী ইত্যাদি পেশাজীবী অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সেবা প্রদান করে থাকেন। এসব সেবাকর্ম বা বৃত্তি প্রত্যক্ষ সেবা হিসেবে পরিচিত। যেমন: আইন চেম্বার, অডিট ফার্ম ইত্যাদি। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে অধিক অর্থ উপার্জন করতে হলে প্রয়োজন বিজ্ঞাপন ও প্রচারের মাধ্যমে এর প্রসারমূলক কার্যক্রম।

উদ্দীপকে জনাব ইয়াসিন ইসলাম ‘ইসলাম অ্যান্ড কোং’ নামে একটি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি নতুন হওয়ায় এর গ্রাহক সংখ্যা কম। অল্প দিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হিসাবের সঠিকতা যাচাই করে অর্থাৎ নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করে গ্রাহকদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হলেও তাঁর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। এর ফলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে তিনি সমস্যার সম্মুখীন হন।

তাঁর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে গ্রাহকদের অবগত করতে পারলে তিনি এ সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নিতে পারেন। বিজ্ঞাপন হচ্ছে একধরনের প্রসারমূলক কার্যক্রম। এর মাধ্যমে পণ্য ও সেবা সম্পর্কে ক্রেতাসাধারণকে অবহিত করা হয়, যাতে তারা ওই পণ্য বা সেবা ক্রয়ে আগ্রহী হয়। আজকের দিনে পণ্যের বা সেবা উৎপাদনের চেয়ে পণ্য বা সেবার প্রচার এবং তা ক্রয়ে ক্রেতাদের উদ্বুদ্ধ করার কাজ অনেক কঠিন। এ জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রেডিও, টেলিভিশন, দৈনিক পত্রিকা ইত্যাদির মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিজ্ঞাপন প্রচার করে। তাই ইসলাম অ্যান্ড কোংয়ের প্রচার বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাইনবোর্ড লাগানো, লিফলেট বিতরণ, ভিজিটিং কার্ড বিতরণ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ ও গণসংযোগের মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটতে পারে।

শেষে বলা যায়, ইয়াসিন ইসলাম তাঁর ফার্মের গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে তাঁর প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রচার ঘটাতে পারেন। তাহলেই তিনি উল্লিখিত সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবেন বলে আমি মনে করি।

মো. মাজেদুল হক খান, সহকারী অধ্যাপক, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

এই বিষয়ের একই অধ্যায়ের পূর্বের দিনের পড়া

পড়াশোনা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন