বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. আধুনিক ইতিহাসের জনক জার্মান ঐতিহাসিক লিওপোল্ড ফন র‍্যাংকে।

খ. অতীতের অভ্যাস, শিক্ষা, ভাষা, শিল্প, সাহিত্য–সংস্কৃতিই হলো ঐতিহ্য, যা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষিত থাকে। এই ঐতিহ্যকে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের নিকট পৌঁছে দেয় ইতিহাস। মূলত বর্তমানের সব বিষয়ই অতীতের ক্রমবির্বতন ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

গ. ইতিহাস জানতে নিতু ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সহায়তা নিয়েছে।

ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বিদেশিদের বিবরণী, দলিলপত্র ইত্যাদি। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সাহিত্যকর্মেও তখনকার সময়ের কিছু তথ্য পাওয়া যায়। ‘বেদ’, কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’, কলহনের ‘রাজতরঙ্গিনী’, আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরি’—এ গ্রন্থগুলো এর অন্যতম।

এ ছাড়া বাংলায় আগত চীনের পরিব্রাজক ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং ও ইৎসিংর বর্ণনাও ইতিহাসের লিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তী সময়ে আফ্রিকান পরিব্রাজক ইবনে বতুতাসহ অন্যদের লেখাতেও এ অঞ্চল সম্পর্কে নানা বিবরণ পাওয়া যায়। তাই বলা যায় নিতু এক্ষেত্রে লিখিত উপাদানের সহায়তা নিয়েছে।

ঘ. না, নিতুর বাবার মতামতকে আমি সমর্থন করি না। মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্যনির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস, যে কারণে জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষ অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে ও ভবিষ্যৎ অনুমান করতে পারে।

ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের পক্ষে নিজের ও নিজ দেশ সম্পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। অতীতের সত্যনিষ্ঠ বর্ণনা মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশের, তাহলে জাতির সংগ্রাম, গৌরবময় ঐতিহ্য ইত্যাদি মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।

এ ছাড়া ইতিহাস–জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানত পারলে মানুষ ভালো-মন্দের পার্থক্যটা সহজে বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা এতই বেশি যে নিতুর বাবার ইতিহাসের গ্রন্থ পাঠবিষয়ক নেতিবাচক ধারণাকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।

মিজান চৌধুরী, শিক্ষক, লালমাটিয়া উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকা

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন