বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কালোতালিকাভুক্ত যেসব প্রতিষ্ঠান

১৭টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৫১ দিনের বেশি সময় পর বই দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৩) থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর এনসিটিবির বই ছাপার দরপত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্য থাকবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ঢাকার অক্ষর বিন্যাস প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস, সেডনা প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস, প্লাসিড প্রিন্টার্স অ্যান্ড প্যাকেজেস, মনির প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস, আবুল প্রিন্টিং, মেসার্স টাঙ্গাইল প্রিন্টার্স, হক প্রিন্টার্স, মেসার্স নাজমুন নাহার প্রেস, বনফুল আর্ট প্রেস, পিবিএস প্রিন্টার্স, ওয়াল্টার রোডের শিক্ষা সেবা প্রিন্টার্স, আমাজান প্রিন্টিং, উজ্জ্বল প্রিন্টিং প্রেস, বুলবুল আর্ট প্রেস, প্রেস লাইন, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরের এইচআর প্রিন্টার্স অ্যান্ড পেপার সেলার ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মহানগর অফসেট প্রিন্টিং প্রেস।

ঢাকার ইউসুফ প্রিন্টার্স ও বগুড়ার শরীফা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনসকে তিন বছরের জন্য কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দুই বছরের জন্য কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে ঢাকার জিতু অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, ন্যাশনাল প্রিন্টার্স এবং আর এম দাস রোডের ওয়েব টেক প্রিন্টার্সকে। এক বছরের জন্য কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে ঢাকার বাকো অফসেট প্রেস, দিগন্ত অফসেট প্রেস, এ বি কালার প্রেস ও মেসার্স প্রিন্ট প্লাসকে।

অঙ্গীকারনামা (৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে) দিয়ে ছাড় পেয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান। সেগুলো হলো ঢাকার সোমা প্রিন্টিং প্রেস, রাব্বিল প্রিন্টিং প্রেস, মেরাজ প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস, লেটার এন কালার লি., সমতা প্রেস ও কাশেম অ্যান্ড রহমান প্রিন্টিং প্রেস।

বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা কেবল দেরি করে বই দিয়েছে, তাদের কালোতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের বই দেওয়ার অভিযোগ আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই এ বিষয়ে তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে সরেজমিনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই এনে যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘এখানে এনসিটিবিরও দায় আছে। সক্ষমতা যাচাই করে কাজ দেওয়ার কথা। কিন্তু এটি সঠিকভাবে না হওয়ায় অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠানও কাজে পেয়ে যায়।’

‘দরকার এনসিটিবির নিজস্ব মুদ্রণ’

গত বছরও পাঠ্যবই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সময়ের মধ্যে সরবরাহ না করাসহ নানা ধরনের অনিয়মে ১৪ প্রতিষ্ঠানকে কালোতালিকাভুক্ত করা হয়। এ কারণে সেবারও খুদে শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো নতুন পাঠ্যবই তুলে দিতে বেগ পেতে হয়েছিল। এনসিটিবি বলছে, নির্ধারিত সময়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া একটি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার।

প্রতিবছরই পাঠ্যপুস্তক ছাপা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ওঠে। এখান থেকে বেরোনোর উপায় কী—এমন প্রশ্নে এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র পাল গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, এনসিটিবির যেহেতু নিজস্ব মুদ্রণব্যবস্থা নেই, তাই বই ছাপতে মুদ্রণকারীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই তারা এনসিটিবিকে নানাভাবে চাপে ফেলে। কখনো কখনো কালোতালিকাভুক্ত করে আবার ভুলেও যাওয়া হয়। তাই এখান থেকে বের হওয়ার একটাই উপায় এনসিটিবির নিজস্ব উদ্যোগে মুদ্রণের ব্যবস্থা করা।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন