
খেজুর নিয়ে খেজুরে আলাপ করার কিছু নেই। দেশি খেজুরের যে অনেক গুণ, তা আমরা জানি না। এ সময়ে দেশি খেজুর পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। এই ফল বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। ছোট্ট এই ফলটায় কী কী গুণাগুণ আছে জানতে চাইলে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ শামছুন্নাহার নাহিদ বললেন, খেজুরের মধ্যে আছে ক্যালসিয়াাম, সালফার, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ফলিক অ্যাসিড, আমিষ, শর্করা। তাই খেজুর শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিকরও বটে৷ তবে যাঁদের রক্তে চিনির পরিমাণ বেশি শুধু তাঁদের বেলায় খেজুর খাওয়ায় খানিকটা বিধিনিষেধ আছে ।
হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়াতে: খেজুর হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। রক্তপ্রবাহে গতি সঞ্চার করে।
ক্যানসার প্রতিরোধে: খেজুর পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ। এক গবেষণায় দেখা যায় খেজুর পেটের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। আর যাঁরা নিয়মিত খেজুর খান তাদের ক্যানসারের ঝুঁকিটাও কম থাকে।
মায়ের বুকের দুধ: বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েদের জন্য খেজুর এক সমৃদ্ধ খাবার। এই খেজুর মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ আরও বাড়িয়ে দেয়। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।
মুটিয়ে যাওয়া রোধে: অল্প কয়েকটা খেজুর খেলে খিদার তীব্রতা কমে যায়। এই ফল পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যদিকে শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরণ করে দেয়। ফলে মুটিয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
হাড় গঠনে সহায়ক: ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। যা হাড়কে মজবুত করে।
অন্ত্রের গোলযোগ: অন্ত্রের কৃমি প্রতিরোধে খেজুর বড় ভূমিকা রাখে। খেজুর অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে হজমেও সহায়তা করে।
দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে: খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, সঙ্গে রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও খেজুর অত্যন্ত কার্যকর।
কোষ্ঠকাঠিন্য: খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
সংক্রমণ: যকৃতের সংক্রমণে খেজুর উপকারী। এ ছাড়া গলাব্যথা, বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি এবং ঠান্ডার বিরুদ্ধে লড়াই করার এক অসাধারণ ক্ষমতা আছে খেজুরে।
শিশুদের জন্য: শিশুদের জন্য খেজুর ভারি উপকারী। খেজুর শিশুদের মাড়ি শক্ত করে। দাঁত গঠনে রাখে বিশেষ ভূমিকা।
গ্রন্থনা: সিদ্ধার্থ মজুমদার