চাকরিচ্যুত বিএনপিপন্থী শিক্ষক মোর্শেদকে বাসা ছাড়ার নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ফাইল ছবি

সংবাদপত্রে নিবন্ধ লিখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটূক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত বিএনপিপন্থী শিক্ষক মো. মোর্শেদ হাসান খানকে ক্যাম্পাসের বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মোর্শেদ হাসান খানের ক্যানসার-আক্রান্ত স্ত্রী ও কন্যাশিশুকে নিয়ে বাসা ছাড়ার নোটিশটি অমানবিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল৷

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানকে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে সাদা দলের নেতারা এই দাবি জানিয়েছেন৷

উপাচার্য স্মারকলিপি গ্রহণ করলেও সাদা দলের নেতাদের স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মোর্শেদ হাসানকে চাকরিচ্যুত করেছিল। বর্তমানে তিনি সারা দেশের বিএনপিপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) মহাসচিবের দায়িত্বে আছেন। ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে তিনি ওই নিবন্ধ লিখেছিলেন। পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে ওই নিবন্ধ তুলে নেন।

আজ দুপুরে সাদা দলের আহ্বায়ক মো. লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ও কয়েকজন সিনেট সদস্য উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়, মোর্শেদ হাসানকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে মোর্শেদ হাসান খান তাঁকে চাকরিতে পুনর্বহাল করার জন্য ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন।

উচ্চ আদালতে মোর্শেদ হাসান খানের চাকরিচ্যুতির বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই তাঁকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়ায় সাদা দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয় স্মারকলিপিতে। এতে আরও বলা হয়, মোর্শেদ হাসান খানের ক্যানসার-আক্রান্ত স্ত্রী ও কন্যাশিশুকে নিয়ে বাসা ত্যাগের নোটিশের বিষয়টি অমানবিক।

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় সাদা দলের আহ্বায়ক লুৎফর রহমানের সঙ্গে সংগঠনের সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, সিনেট সদস্য মামুন আহমেদ এবং শিক্ষক মো. আবুল কালাম সরকার ও দেবাশীষ পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করলেও দাবির বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি (উপাচার্য) বলেছেন, “ঠিক আছে, দেখছি।”

মোর্শেদ হাসান খানকে গত ২৯ জুন ক্যাম্পাসের বাসা ছাড়ার নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে তিনি এই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন। ৫ জুলাই আদালত ওই রিট খারিজ করে দেন। এর ফলে মোর্শেদ হাসানকে ক্যাম্পাসের বাসা ছাড়তে হবে বলে সাংবাদিকদের জানান রিটের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ।