বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সকাল নয়টায় বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, মিলনায়তনজুড়ে পিনপতন নীরবতা। প্রতিটি আসনে বসে আছে শিক্ষার্থীরা। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসানের ডান হাতে মার্কার, বাঁ হাতে মাইক্রোফোন। বোর্ডে মার্কার দিয়ে তিনি চিত্র এঁকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছিলেন। মুগ্ধ হয়ে তাঁর ক্লাস আয়ত্তে নেয় খুদে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন।

default-image

ক্লাসের শেষ দিকে মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করি। এরপর বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে জীববিজ্ঞানের শিক্ষকতা শুরু করি। সেখানে দুই বছর শিক্ষকতা করার পর ২০০৩ সালের ২১ মে আবার বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিই। শিক্ষকতা আমার মগজে ঢুকে আছে। আমি ক্লাসকে বড় বেশি ভালোবাসি। তাই ক্লাস করতে চলে এলাম।’

মোহাম্মদ কামরুল হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘হৃদয় দিয়ে পড়তে হবে। প্রচণ্ড মন খারাপ হলে বই পড়বে। পারতপক্ষে কাউকে কষ্ট দেবে না। কখনো হতাশ হবা না। আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। যেটা ভালো লাগে না, সেটা করবা না। তোমরা চাইলেই দেশটা পরিবর্তন করে দিতে পারো। তাই পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার ছেলেদের পড়াই না, স্বপ্ন দেখাই। চড়াই–উতরাই ও সংগ্রাম ছাড়া জীবন সুন্দর হয় না।’ টানা সাত দিনে জীববিজ্ঞান পড়ে শেষ করার কৌশলও বাতলে দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মজিদ, ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম ও বিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের শিক্ষকেরা।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন