default-image

সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির তেজগাঁও ক্যাম্পাসের বিশাল করিডর। কখনো পিনপতন নীরবতা, আবার কখনো হইহুল্লোড়ে সরব। পায়ে-পায়ে এগোলে কখনো কানে আসে ‘ফ্রিকোয়েন্সি সিনথেসাইজার’–এর মতো খটমটে শব্দ, আবার আরেকটু সামনে গেলেই শোনা যায় কারা যেন গাইছেন, ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে...’। গানের শব্দ অনুসরণ করে আমরা পা বাড়াই। চোখে পড়ে ছোট্ট একটা জটলা। গিটারের টুংটাংয়ের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান ধরেছেন টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ, অপু, শাহরিয়াররা। শুভ বললেন, ‘সামনেই পিকনিক, সেখানে গান তো থাকবেই। সকালে ক্লাস শেষ করে আমরা প্র্যাকটিস শুরু করে দিয়েছি।’ পাশ থেকে অপু যোগ করলেন, ‘সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে রেওয়াজ। একটু পর শুরু হবে র‍্যাম্প মডেলিং। বার্ষিক বনভোজনের প্রস্তুতি হিসেবে গান, নাচ আর ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ত আমরা।’

পড়াশোনার কী খবর? জিজ্ঞেস করতেই অপু আঙুল উঁচু করে সামনের একটা ক্লাস দেখিয়ে দিলেন। ক্লাসের জানালায় উঁকি দিয়ে দেখলাম, ভেতরে বেঞ্চ নেই। বেশ কয়েকটা ড্রয়িং টেবিল ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন ছাত্রছাত্রীরা। ক্লাস শেষে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের ছাত্র রিজভী আহমেদ বললেন, ‘আমাদের এই ক্লাসে প্রকৌশলের বিভিন্ন আঁকাআঁকি শেখানো হয়। কখনো ল্যাবে, কখনো ক্লাসে, আবার কখনো কারখানায়ও আমাদের ক্লাস হয়।’

রিজভীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা পা বাড়াই। ঘুরে দেখি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ল্যাব আর ডিজাইন স্টুডিও। ক্লাসরুমে পড়াশোনা, ক্যাফেটেরিয়ায় গ্রুপ স্টাডি, করিডরে হইচই, আড্ডা, ছোটাছুটি, মাঠে খেলাধুলা, ছবি আঁকা, ছবি তোলা...পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে আছে নানা রং। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস জীবনের নানা ঘটনা উঠে আসে তাঁদের কথায়, গল্পে।

default-image

 ‘স্থাপত্যের পড়াশোনায় শিল্প আর বিজ্ঞান—দুটোই গুরুত্ব পায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে আমাদের ক্লাস। এই ক্লাস আবার অন্য বিভাগের ক্লাসের মতো নয়। ক্লাস প্রজেক্টের অংশ হিসেবে আমরা চলে যাই হাতিরঝিল কিংবা সংসদ ভবনে...’ বলছিলেন স্থাপত্যের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াফি আহমেদ। ইয়াফির সহপাঠী সাবরিনা সুলতানা ও নাজিফা ইসলামের কথায় জানা গেল, গত মাসে তাঁরা ভারত ঘুরে এসেছেন। ঘুরে ঘুরে দেখেছেন বিভিন্ন স্থাপনা। বইয়ে মুখ ডুবিয়ে থাকার চেয়ে হাতে-কলমে শেখাটাই তাঁদের কাছে প্রাধান্য পায়। তবে শুরুতে ইয়াফি যে শিল্প আর বিজ্ঞানের কথা বলছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া গেল ক্লাসরুমের দেয়ালে। দেয়ালজুড়ে আঁকা ক্যালিগ্রাফি আর গ্রাফিতি জানান দিল, এই শিক্ষার্থীদের দলে ভালো আঁকিয়েরাও আছেন। ‘শুধু আঁকিয়ে না, আমাদের ক্লাসের শতকরা ৩০ ভাগই সম্ভবত গিটার বাজাতে পারে।’ রীতিমতো পরিসংখ্যান বলে দিলেন ইয়াফি আহমেদ।

default-image

একেক বিভাগের পড়াশোনার একেক ধরন। বিবিএর শিক্ষার্থী ফজলে এলাহী ও নাজনীন ফারহা জানালেন, পড়াশোনার অংশ হিসেবে তাঁদের বিভিন্ন সভা, সেমিনারে অংশ নিতে হয়। কখনো কখনো শিল্পকারখানা বা করপোরেট অফিসগুলোতেও ঢুঁ মারেন তাঁরা। ছাত্রছাত্রীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিভিন্ন কর্মশালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যর্থনাকক্ষে পাওয়া গেল বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের কবিতা সংকলন। পাশে বসা ফারহানা রহমান বললেন, ‘হাতে গোনা যে কয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা পড়ানো হয়, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় তার মধ্যে একটি। কথাসাহিত্যিক, লেখকেরা ক্লাসে আসেন। সেমিনারে অংশ নেন।’ বাংলা ভাষার ওপর নিয়মিত গবেষণা সাময়িকী প্রকাশ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং চালু আছে। এর অধীনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাঁচটি গবেষণা সাময়িকীতে নিজেদের গবেষণা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।

default-image

টেক্সটাইলের শিক্ষার্থী জিতু দিলেন ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ক্লাবের খবর। ‘এক ডজনের বেশি ক্লাব আছে আমাদের এখানে। বিতর্ক ক্লাব আর সাংস্কৃতিক ক্লাব সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো অনুষ্ঠান থাকবেই।’ শিক্ষার্থীদের মনন বিকাশের নানা আয়োজন চোখে পড়বে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বড় বড় ছবি দেখা গেল ক্যাম্পাসজুড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানাল, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে শিক্ষা অনুদান ও বৃত্তির সুযোগ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এন এম মেশকাত উদ্‌দীন বললেন, ‘সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে আমরা আধুনিক ও সময়োপযোগী কারিকুলামের মাধ্যমে সামগ্রিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করেছি। শিক্ষকদের দক্ষতা বিকাশের জন্যও নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে। গবেষণা, সৃজনশীল কাজ, নেতৃত্বের বিকাশ...এই দিকগুলো আমরা সব সময় উৎসাহিত করি।’

ক্যাম্পাস ঘুরতে ঘুরতে দেখা হলো আবু মুসলিম ও আহমেদ আলীর সঙ্গে। সোমালিয়ার এই দুই অধিবাসী সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে স্নাতকোত্তর করছেন। আবু বললেন, ‘এখানে এসে আমার অনেক বন্ধু হয়েছে।’ বোঝা গেল, স্বজনদের রেখে এত দূর পড়তে এসে তাঁর সময়টা মন্দ কাটছে না। আলাপের শেষে সোমালি ভাষায় যা বললেন তার বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘ধন্যবাদ বাংলাদেশ।’

একনজরে

প্রতিষ্ঠাকাল: ২০০২ সাল

শিক্ষার্থীর সংখ্যা: প্রায় ১২ হাজার

শিক্ষকের সংখ্যা: প্রায় ৪০০ জন

মোট বিষয়: ১৩টি

শিক্ষার্থীদের সংগঠন: ১৫টি

ক্যাম্পাস: ঢাকার বনানীতে প্রধান ক্যাম্পাস, তেজগাঁওয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস

>


default-image

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাক

শিক্ষার আলো সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে আমরা একুশ শতকের দক্ষ নেতা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখছি। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। দেশে বসেই যেন বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ পায়। 

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন