বরিশাল ও যশোরে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

বরিশাল ও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় এ বছর পাসের হার কমেছে। কমেছে জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও। এর কারণ হিসেবে কেউ কেউ এ বছর গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হওয়াকে দায়ী করেছেন।
বরিশাল বোর্ডের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ৫৬২ জন। এ বছর পাসের হার ৮৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১৭১ জন।
একইভাবে যশোর শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৮৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৯২ দশমিক ১৯ শতাংশে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর পেয়েছিল ১০ হাজার ৯৪৪ জন।
বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ শাহ আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে বুঝতে পারেনি, যার প্রভাব পড়েছে পরীক্ষায়। এ ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ ছিল। এতে শিক্ষার্থীরা ভয় ও শঙ্কার মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ফলাফলে।
বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা বিভাগ জানায়, গণিতে গত বছর উত্তীর্ণ হয়েছিল ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী। এ বছর গণিতে সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হওয়ার পর উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের চেয়ে এবার ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে। এ ছাড়া বাংলায় গত বছরের চেয়ে শূন্য দশমিক ৮৮ এবং ইংরেজিতে দশমিক ৮৭ ভাগ শিক্ষার্থী কম পাস করেছে।
বরিশাল জিলা স্কুলের গণিতের শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘সৃজনশীল পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের পাস করার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। এই পদ্ধতির কারণে পাসের হার কমবে এটা সঠিক নয়। তবে বেশি নম্বর পেতে হলে বেশি বেশি অনুশীলন প্রয়োজন। এখানে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।’
জানতে চাইলে যশোর বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধবচন্দ্র রুদ্র বলেন, ’প্রথমবারের মতো সাধারণ গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে পরীক্ষার্থীরা ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেনি। যে কারণে এই বোর্ডে অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে গণিতে পাসের হার কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক পাসের হারে। আর ইংরেজি, বাংলাসহ অন্য বিষয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা কমে যাওয়ায় গড় জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও কমেছে।
কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গণিতে খারাপ হওয়ার কারণে হয়তো আমার প্রতিষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমে গেছে। এ বছর ১১৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর ১৪৪ জনের মধ্যে ৪৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।’ নির্বাচনী পরীক্ষায় ৩০ জন গণিতে অকৃতকার্য হয়েছিল বলেও তিনি জানান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ৯৮ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পাস করেছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৭৫ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৯৮ জন সব বিষয়ে পাস করেছে।