default-image

অধ্যায় ২

প্রশ্ন: সিপাহি বিদ্রোহ কবে হয়েছিল? কার

নেতৃত্বে এ বিদ্রোহী শুরু হয়? এ বিদ্রোহের কারণ লেখো।

উত্তর: ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহ হয়েছিল।

পশ্চিম বাংলার ব্যারাকপুরে মঙ্গল পাণ্ডের

নেতৃত্বে এ বিদ্রোহ শুরু হয়ে সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।

সিপাহি বিদ্রোহের কারণ:

১. সেনাবাহিনীতে সিপাহি পদে ভারতীয়দের সংখ্যা বেশি ছিল। সেখানে ৫০ হাজার ব্রিটিশ এবং ৩ লাখ ভারতীয় সিপাহি ছিল।

২. ১৮৫৬ সালের পর ভারতের বাইরেও সৈন্যদের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

৩. কামান ও বন্দুকের কার্তুজ পিচ্ছিল করার জন্য গরু ও শূকরের চর্বি ব্যবহারের গুজব নিয়ে ধর্মীয় অশান্তি তৈরি করা হয়েছিল।

৪. সৈন্যদের আন্দোলনকে সমর্থন

জানানোর জন্য সাধারণ মানুষ প্রস্তুত

ছিলেন। এই আন্দোলন দ্রুতই সৈন্যদের থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রিটিশ সরকার কঠোর হাতে এ বিদ্রোহ দমন করে। এ বিদ্রোহে প্রায় এক লাখ ভারতীয় মারা যায়।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: বিশ শতকে কেন দেশপ্রেমের চেতনা

বিস্তার লাভ করে? ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস

দল কবে গঠিত হয়? বঙ্গভঙ্গ সম্পর্কে যা জান লেখো।

উত্তর: শিক্ষার প্রসার ও নবজাগরণের ফলে বিশ শতকে দেশপ্রেমের চেতনা বিস্তার লাভ করে।

১৮৮৫ সালে ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’ নামে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।

ব্রিটিশরা ভারতীয় জাতীয় চেতনার প্রসারে ভীত হয়ে পড়ে এবং ১৯০৫ সালে বাংলা প্রদেশকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়, একে বঙ্গভঙ্গ বলে। আসামকে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ববাংলা অঞ্চল গঠিত হয়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হলে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়, অর্থাৎ দুই বাংলাকে একত্র করে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন: ‘ভারতীয় মুসলিম লীগ’ কবে গঠিত হয়? ভারতের কয়েকটি বড় আন্দোলনের নাম লেখো। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন তাদের সম্পর্কে লেখো।

উত্তর: ১৯০৬ সালে ‘ভারতীয় মুসলিম লীগ’ নামে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়। ভারতের বড় আন্দোলনগুলোর মধ্যে ছিল স্বরাজ আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন এবং সশস্ত্র যুব বিদ্রোহ।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ক্ষুদিরাম বসু,

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা চিরস্মরণীয়। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতের অনেক সাহসী তরুণ ব্রিটিশদের পক্ষে অংশগ্রহণ করেন।

কিন্তু তাই বলে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেমে থাকেনি স্বাধীনতার জন্য ভারতীয়দের আন্দোলন চলতে থাকে।

প্রশ্ন: সাহিত্যিকেরা রাজনৈতিক আন্দোলনে কী ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারেন?

উত্তর: বিশ শতকে রাজনৈতিক আন্দোলনের তৃতীয় ধাপে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন সাহিত্যিক তাঁদের লেখার মাধ্যমে। শিক্ষার প্রসার ও নবজাগরণের ফলে দেশপ্রেমের চেতনা বিস্তার লাভ করে। এ সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ লেখকের কবিতা, গান ও লেখার মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধিকার চেতনা আরও বেগবান হয়।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন