default-image

অধ্যায় ৩

প্রশ্ন: সোনারগাঁ কোথায় অবস্থিত? কত সালে এবং কার সময়ে সোনারগাঁয়ের পরিবর্তে ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করা হয়? এই প্রাচীন সভ্যতা সম্পর্কে যা জানো লেখো।

উত্তর: সোনারগাঁ ঢাকার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। ১৬১০ সালে এক যুদ্ধে ঈশা খাঁর পুত্র মুসা খাঁ পরাজিত হওয়ার পর সোনারগাঁয়ের পরিবর্তে ঢাকায় রাজধানী স্থাপন করা হয়।

সোনারগাঁয়ের বর্ণনা–

১. সোনারগাঁ প্রাচীন বাংলার মুসলমান সুলতানদের রাজধানী ছিল।

২. এখনো সেখানে সুলতানি আমলের অনেক সমাধি রয়েছে, যার একটি গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের মাজার।

৩. উনিশ শতকে হিন্দু বণিকদের সুতা বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে এখানে পানাম নগর গড়ে ওঠে।

৪. সোনারগাঁয়ের গৌরব ধরে রাখার জন্য শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯৭৫ সালে এখানে একটি লোকশিল্প জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রশ্ন: লালবাগ কেল্লা কত খ্রিষ্টাব্দে এবং কোথায় নির্মাণ করা হয়? এ নিদর্শনটি সম্পর্কে চারটি বাক্য লেখো।

উত্তর: ১৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে লালবাগ কেল্লা নির্মাণ করা হয়। ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিমে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এই দুর্গটি অবস্থিত।

আওরঙ্গজেবের পুত্র শাহজাদা মোহাম্মদ আযমশাহ এই দুর্গটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও শেষ করতে পারেননি। দুর্গটি সম্পূর্ণ ইটের তৈরি। দুর্গের মাঝখানে খোলা জায়গায় মুঘল শাসকেরা তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করতেন। দুর্গের দক্ষিণে গোপন প্রবেশপথ এবং একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ রয়েছে। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: জমিদার শেখ এনায়েতউল্লাহ কোন প্রাসাদ তৈরি করেন? কোন শতকে এটি নির্মাণ করেন? এ প্রাসাদ সম্পর্কে যা জান লেখো।

উত্তর: মুঘল আমলে বরিশালের জামালপুর পরগনার জমিদার শেখ এনায়েতউল্লাহ ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে আহসান মঞ্জিল প্রাসাদটি তৈরি করেন। আঠারো শতকে তাঁর পুত্র শেখ মতিউল্লাহ প্রাসাদটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেন।

১৮৩০ সালে খাজা আলিমুল্লাহ ফরাসিদের কাছ থেকে প্রাসাদটি ক্রয় করে আবার প্রাসাদে পরিণত করেন। এই প্রাসাদের উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে লম্বা বারান্দা। এ ছাড়া রয়েছে জলসা ঘর, দরবার হল ও রংমহল। আহসান মঞ্জিল বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নিদর্শন। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার প্রাসাদটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রাচীন ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

প্রশ্ন: মহাস্থানগড় কোথায় অবস্থিত? মহাস্থানগড়ের প্রাচীন নাম কী?

উত্তর: খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে ১৫০০ শতক বছরের বাংলার ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে মহাস্থানগড়। মহাস্থান গড়ের প্রাচীন নাম পুণ্ড্রনগর। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে মহাস্থানগড় অবস্থিত। এখানে প্রাপ্ত নিদর্শনগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. চওড়া খাদবিশিষ্ট প্রাচীন দুর্গ।

২. প্রাচীন ব্রাহ্মী শিলালিপি

৩. মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় ভগ্নাবশেষ

৪. পোড়ামাটির ফলক, ভাস্কর্য, ধাতব মুদ্রা, পঁুতি

৫. ৩ দশমিক ৩৫ মিটার লম্বা ‘খোদাই পাথর’।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন