default-image

অধ্যায় ১১

ইরিনা একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। তারা পটুয়াখালীতে বাস করে। কিছুদিন আগে বগুড়া বেড়াতে গিয়ে সেখানকার এক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য ‘লরেন’–এর সাথে দেখা হয়। পরিচ্ছন্ন মাটির দেয়ালের ঘর দেখে ইরিনা মুগ্ধ হয়।

প্রশ্ন

ক. বিজু কী?

খ. ‘সাংগ্রাই কী?

গ. লরেনদের সামাজিক জীবনের ব্যাখ্যা দাও।

ঘ. ইরিনাদের সাংস্কৃতিক জীবন অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা। তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

ক. চাকমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহৎ উৎসব হলো ‘বিজু’।

খ. নববর্ষ উপলক্ষে মারমা ও রাখাইন নৃগোষ্ঠীরা যে উৎসব পালন করে তাকে বলা হয় সাংগ্রাই।

মারমারা পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করার জন্য সাংগ্রাই উৎসব পালন করে। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ সময় তারা পানি খেলা ও জলোৎসবে মেতে ওঠে। এ উৎসবে পানি খেলার নির্দিষ্ট স্থানে নৌকা বা বড় পাত্রে পানি রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

গ. নৃগোষ্ঠীগত বিবেচনায় লরেন সাঁওতাল। সাঁওতালরা অস্ট্রালয়েড নৃগোষ্ঠীভুক্ত লোক।

বাংলাদেশের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় সাঁওতালদের বসবাস। এই জেলাগুলো হলো রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলা। তারা সাধারণত মাটির ঘরে বাস করে। ঘরবাড়ি খুব পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন থাকে। তাদের সামাজিক জীবন হলো: তারা পিতৃসূত্রীয়। পিতার সূত্র ধরে সন্তানের দল ও গোত্র পরিচয় নির্ণয় করা হয়। তাদের সমাজের মূল ভিত্তি হলো গ্রাম-পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত পরিচালনার জন্য সাধারণত ৫ জন প্রতিনিধি থাকে।

তারা হলো: মাঞ্জহি হারাম, জগমাঞ্জাহি, জগপরানিক, গোডেৎ ও নায়কি। নায়কিকে তারা পঞ্চায়েত সদস্য নয় বরং ধর্মগুরু হিসেবে মনে করে। ইরিনা বগুড়া বেড়াতে যায় এবং সেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য ‘লরেনের’ সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। লরেনের বসবাসকৃত জেলা এবং লরেনদের ঘরবাড়ির বর্ণনা থেকে সহজেই বুঝতে পারি যে তারা সাঁওতাল নৃগোষ্ঠীর এবং তাদের সামাজিক জীবন অন্যদের থেকে আলাদা।

ঘ. ইরিনাদের সাংস্কৃতিক জীবন অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা অর্থাৎ রাখাইনদের সাংস্কৃতিক জীবন সত্যিকার অর্থেই অনেক ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র।

রাখাইনরা পটুয়াখালী, বরগুনা ও কক্সবাজার জেলায় বাস করে। তারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক। তাদের আদিবাস মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে। তারা নিজেদের রাখাইন নামে পরিচয় দিতে ভালোবাসে।

তাদের সাংস্কৃতিক জীবন অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর তুলনায় অনেকটা স্বতন্ত্র। যেমন তারা সমুদ্র বা নদীতীরে সমতল অঞ্চলে বাস করে। তারা মাচা পেতে ঘর তৈরি। কারও ঘর টিনের আবার কারও ঘর গোলপাতার ছাউনি দিয়ে তৈরি। তারা বিভিন্ন পালা–পার্বণে অনুষ্ঠান পালন করে। এর মধ্যে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে গৌতম বুদ্ধের জন্মবার্ষিকী, বৈশাখী পূর্ণিমা ও বসন্ত উৎসব প্রধান। চৈত্রসংক্রান্তিতে তারা যে সাংগ্রাই উৎসব পালন করে, তা তাদের সবচেয়ে বৃহৎ ও সর্বজনীন আনন্দ উৎসব। তাদের পোশাকের ক্ষেত্রেও রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। পুরুষরা ফতুয়ার ওপর লুঙ্গি পরে। পাগড়ি তাদের ঐতিহ্যের প্রতীক।
রাখাইন মেয়েরাও লুঙ্গি পরে। তবে তারা লুঙ্গির সঙ্গে ব্লাউজও পরে। রাখাইনদের সাংস্কৃতিক জীবনের এসব বৈশিষ্ট্য থেকে সহজেই আমরা বুঝি যে রাখাইনরা কতটা স্বতন্ত্র বৈশিষ্টে৵র।

মো. আবুল হাছান, সিনিয়র শিক্ষক
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন