default-image

অধ্যায় ১২

দৃশ্যকল্প-১: গত শতাব্দীর ৫০–এর দশকের
প্রথম দিকে আমাদের দেশে অন্যতম একটি শিল্পের অভিযাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে উক্ত শিল্পের ৭৬টি কারখানা রয়েছে।

দৃশকল্প-২: একটি খনিজ সম্পদের ওপর
নির্ভর করে সিলেট অঞ্চলে যে শিল্পের যাত্রা, তা কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

প্রশ্ন:

ক. মানুষের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা কীভাবে
গড়ে ওঠে?

খ. জীববৈচিত্র্য রক্ষায় করণীয় ব্যাখ্যা করো।

গ. দৃশ্যকল্প ১–এ কোন ধরনের শিল্পের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. দৃশ্যকল্প-২–এর শিল্প কি দৃশ্যকল্প-১–এর শিল্পকে প্রভাবিত করে? তোমার মতামত দাও।

উত্তর

ক. খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদন, বণ্টন ও ভোগকে কেন্দ্র করেই মানুষের আর্থসামাজিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

খ. জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসংখ্যা কমানো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

প্রকৃতির মধ্যে সব রকমের জীব যে নিয়মে বেঁচে থাকে, তাকেই সংক্ষেপে জীববৈচিত্র্য বলে। মানুষের নানা রকম কর্মকাণ্ডের কারণে পরিবেশদূষণসহ জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। তাই জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত রাখা আবশ্যক। জনসংখ্যা কম থাকলে যেমন কৃষিজমি কম নষ্ট হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশদূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ও কম হবে। বেশি মানুষের জন্য ভাসমান হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, রাস্তাঘাট প্রভৃতি নির্মাণ করে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। তাই জনসংখ্যা কমিয়ে রেখে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা যায়।

বিজ্ঞাপন

গ. দৃশ্যকল্প-১–এ যে ধরনের শিল্পের কথা বলা হয়েছে তা হলো পাটশিল্প।

পাটশিল্প বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শিল্প। ১৯৫১ সালে প্রথম নারায়ণগঞ্জ জেলায় আদমজী জুট মিল নামক পাটশিল্প কারখানা স্থাপিত হয়। আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হলো পাট। পাট বিক্রি করে কৃষক তার চাহিদা পূরণ করত।
পাট বিদেশে রপ্তানি করে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও আয় করতাম। বাংলাদেশের পাটকলের সংখ্যা ৭৬টি। এ কারখানাগুলোতে পাট ব্যবহার করে বস্তা, রশি, সুতাসহ
অনেক জিনিস উৎপাদন করা হয়। বর্তমানে পাটশিল্পে আরও নতুন নতুন পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০০৯-১০ অর্থবছরে পাটজাত সামগ্রী বিক্রি করে ৩২ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ।

উদ্দীপকে দেওয়া তথ্য অনুসারে গত শতাব্দীর ৫০–এর দশকের শুরুতে যাত্রা করা শিল্প বলতে ১৯৫১ সালে শুরু করা পাটশিল্পকে ইঙ্গিত করে। আবার বর্তমানে ৭৬টি পাটকল
থাকার তথ্য থেকেও আমরা বুঝতে পারি উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১–এর শিল্পটি পাটশিল্পকেই বোঝায়।

ঘ. হ্যাঁ, দৃশ্যকল্প-২–এর সারশিল্প দৃশ্যকল্প-১–এর পাটশিল্পকে প্রভাবিত করে।

পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। আর পাটের উৎপাদন বৃদ্ধিতে, কৃষিজমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সারশিল্প ভূমিকা রাখে।

দৃশ্যকল্প-২–এর শিল্পটি সারশিল্প।

১৯৬১ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভর করে এই শিল্প যাত্রা করে। দেশে বর্তমানে ৬টি ইউরিয়া ও ১টি টিএসপি সারকারখানা রয়েছে। বাংলাদেশের সারের চাহিদার তুলনায় সার উৎপাদন কম। তাই প্রতিবছর বিদেশ থেকে সার আমদানি করতে হয়। গত ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১০৪৭.২১ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদন করেছে।

বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য জমির বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করা জরুরি। আর তখনই রাসায়নিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়।

এদিক থেকে দৃশ্যকল্প-১–এর পাটশিল্পের
মূল কাঁচামাল হলো পাট। আর পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সার প্রয়োগ প্রয়োজন হয়। এ জন্যই বলা হয় যে দৃশ্যকল্প-২–এর সারশিল্প দৃশ্যকল্প-১–এর পাটশিল্পকে প্রভাবিত করে।

বাকি অংশ ছাপা হবে আগামীকাল

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন