default-image

অধ্যায় ১৩

কোভিড–১৯ বা করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্ব যখন থমকে যায়, তখন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা আপ্রাণ চেষ্টা করছে তা মোকাবিলা করার জন্য। অন্যদিকে আরেকটি সংস্থা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাদ্য সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ ও সাহায্য

করে থাকে।

প্রশ্ন

ক. ইউনিসেফ কোন লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল?

খ. বাংলাদেশ UNDP-র কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের প্রথমাংশে কোন সংস্থার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা দাও।

ঘ. উদ্দীপকের শেষ বাক্যে যে সংস্থার কথা বোঝানো হয়েছে তা কি বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের ত্রাণ সাহায৵ প্রদানের লক্ষ্যেই ইউনিসেফ গঠিত হয়েছিল।

খ. UNDP ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও জাতিসংঘের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও তদারকি করে থাকে। বাংলাদেশেও এর কার্যক্রম বিস্তৃত।

১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ UNDP-র সহায়তা পেয়ে আসছে। UNDP-র কাজের ক্ষেত্র ৬টি, তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ, সংকট মোকাবিলা, পরিবেশ উন্নয়ন, গ্রামাঞ্চলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, নারী উন্নয়ন, সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সাহায৵ ও সহযোগিতা করে আসছে।

গ. উদ্দীপকের প্রথমাংশে করোনাভাইরাসের প্রভাব মেকাবিলায় যে সংস্থা কাজ করছে তা হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO–এর পূর্ণ রূপ হলো The world Health organization.

১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল গঠিত হয় WHO। এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে। মূলত বিশ্বের সব অংশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও এর ব্যাপক কার্যক্রম বিস্তৃত। বিশেষ করে শিশুদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করে ৬টি মারাত্মক রোগের হাত থেকে রক্ষা করছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যপী সংক্রমণরোধে উক্ত সংস্থা ভূমিকা রাখছে।

উদ্দীপকে আমরা দেখি কোভিড–১৯ বা করোনাভাইরাস একটি সংক্রামক ব্যাধি। এ ধরনের রোগ একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমণ বাড়াতে থাকে। WHO এ ধরনের সংক্রমণ মোকাবিলার জন্য কাজ করে থাকে। বিশ্বব্যাপী জনগণের স্বাস্থ্য ঝঁুকি মোকাবিলার জন্য WHO সতর্ক করাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থাও করে থাকে। তাই উদ্দীপকের প্রথমাংশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO কে বোঝানো হয়েছে।

ঘ. উদ্দীপকের শেষ বাক্যে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা FAO এর কার্যক্রম শুধু বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিয়ে করে, বিষয়টি যথার্থ নয়।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থা বা FAO এর পূর্ণরূপ Food and Agriculture Organization. সংস্থাটি সারা বিশ্বে ক্ষুধার বিরুদ্ধে কাজ করছে। তাই পৃথিবীর যেকোনো স্থানের ক্ষুধা অপুষ্টি দূর করে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ সংস্থার অন্যতম কাজ।

বাংলাদেশ FAO এর সদস্যরাষ্ট্র। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এ সংস্থার সদস্য সংখ্যা ১৯৪টি দেশ। এর সদর দপ্তর ইতালির রাজধানী রোমে। স্বাধীনতার পর থেকেই উক্ত সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগের নানাবিধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ফলে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য FAO প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সাহায্য দেয়। এ ছাড়া FAO খাদ্যদ্রব্য সরবরাহে সহায়তা ও কৃষির উন্নয়নে পরামর্শ দিয়ে থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেয় উক্ত সংস্থা।

এ ধরনের কার্যক্রম FAO শুধু বাংলাদেশের জন্যই করে থাকে না। বিশ্বব্যাপী যেখানেই এ ধরনের সমস্যা হয়, সেখানেই উক্ত সংস্থা পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে থাকে। FAO কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নেও কাজ করে থাকে। তাই FAO আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় FAO বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন