default-image

অধ্যায় ৬

জাতীয় সংসদে তিনজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য যেমন ছিল:

প্রথম বক্তা: বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় বাড়াতে হবে।

দ্বিতীয় বক্তা: মামলার রায় প্রদানকারীদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে হবে।

তৃতীয় বক্তা: সেনাবাহিনীর জন্য নতুন অস্ত্র ক্রয় করতে হবে।

প্রশ্ন

ক. আইন কী?

খ. তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকে দ্বিতীয় বক্তার বক্তব্যে সরকারের কোন বিভাগের চিত্র ফুটে ওঠে? ব্যাখ্যা দাও।

ঘ. প্রথম ও তৃতীয় বক্তার বক্তব্যের মধ্যে কার বক্তব্য দেশকে কল্যাণকামী রাষ্ট্রে পরিণত করতে বেশি ভূমিকা রাখবে? তোমার মতামত দাও।

বিজ্ঞাপন

উত্তর

ক. আইন হলো সামাজিকভাবে স্বীকৃত লিখিত ও অলিখিত বিধিবিধান ও রীতিনীতি।

খ. তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব বলে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

তথ্য অধিকার আইনে তথ্য বলতে কোনো কর্তৃপক্ষের গঠন, কাঠামো, দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড–সংক্রান্ত স্মারকসহ নানা তথ্যবহ বস্তুকে বোঝানো হয়েছে। আইন অনুসারে, প্রত্যেক নাগরিকের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে দরিদ্র, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিটি সংস্থার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে, জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে, গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হবে। সর্বোপরি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দারিদ্র্য বিমোচনেও এর প্রভাব পড়বে।

গ. উদ্দীপকে দ্বিতীয় বক্তার বক্তব্যে সরকারের বিচার বিভাগের চিত্র ফুটে উঠেছে।

সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সরকারের যে বিভাগ আইন অনুসারে বিচারকার্য পরিচালনা করে, তাকে বিচার বিভাগ বলে। আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি প্রদান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার রক্ষা বহুলাংশে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্রের সব আদালত ও বিচারক নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত হয়।

উদ্দীপকের দ্বিতীয় বক্তার বক্তব্যে মামলার রায় প্রদানকারীদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। মামলার রায় প্রদানকারীরা হলেন বিভিন্ন অধস্তন ও উচ্চ আদালতের বিচারক। তাঁদের সমন্বয়েই সরকারের বিচার বিভাগ গড়ে ওঠে, যাঁরা প্রচলিত আইন অনুসারে অপরাধীকে শাস্তি প্রদান, আইনের ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রয়োগ, জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, সংবিধান রক্ষা, বিরোধের নিষ্পত্তি, শাসন বিভাগকে পরামর্শ প্রদানসহ বিবিধ কার্যাবলি পরিচালনা করে থাকেন। আর উদ্দীপকে দ্বিতীয় বক্তার বক্তব্যে মামলার রায় প্রদানকারী বিচার বিভাগকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা জনগণের স্বাধীনতার রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে।

ঘ. উদ্দীপকের প্রথম বক্তার বক্তব্যে রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলি এবং তৃতীয় বক্তার বক্তব্যে অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলিকে বোঝানো হয়েছে। তার মধ্যে দেশকে কল্যাণকামী রাষ্ট্রে পরিণত করতে প্রথম বক্তার ঐচ্ছিক কার্যাবলি অধিকতর ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক রাষ্ট্রের কার্যাবলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা—অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলি এবং কল্যাণমূলক বা ঐচ্ছিক কার্যাবলি। রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রে বসবাসরত জনগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য রাষ্ট্র যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেগুলোকে অপরিহার্য বা মুখ্য কাজ বলে। পক্ষান্তরে, রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নতির জন্য রাষ্ট্র নাগরিকদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক জীবনের পরিপূর্ণ বিকাশে যেসব কল্যাণকর কাজ করে থাকে, তাকে ঐচ্ছিক কার্যাবলি বলে। রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নতিতে উভয় কার্যাবলির গুরুত্ব থাকলেও রাষ্ট্রকে কল্যাণকামী রাষ্ট্রে পরিণত করতে ঐচ্ছিক কার্যাবলির বিকল্প নেই। রাষ্ট্রের অপরিহার্য বা মুখ্য কার্যাবলির মধ্যে জাতীয় উন্নতি, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বৈদেশিক আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা, বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, বিভিন্ন চুক্তি সম্পাদনসহ নানা কাজ অন্তর্ভুক্ত।

উদ্দীপকে তৃতীয় বক্তার প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত দাবিটিও একই কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। তবে উদ্দীপকের প্রথম বক্তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্য ব্যয়ের আবেদন করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। ঐচ্ছিক কার্যাবলির অপর নাম কল্যাণমূলক কার্যাবলি। জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলা, প্রাথমিক ও নারী শিক্ষা প্রবর্তন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিল্প ও কৃষি খাত পরিচালনা, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ, নাগরিক সুবিধা প্রদান ইত্যাদি ঐচ্ছিক বা কল্যাণমূলক কার্যের অন্তর্ভুক্ত, যা দেশের সামগ্রিক কল্যাণের সিঁড়ি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় মুখ্য কার্যাবলি মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকলেও রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক উন্নয়নের প্রথম সোপান কল্যাণমূলক কার্যাবলি। কেননা এই কার্যাবলির ফলে শিক্ষার আলো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীকালে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই উদ্দীপকের প্রথম বক্তার বক্তব্যই দেশকে কল্যাণকামী করতে মুখ্য ভূমিকা রাখে।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন