default-image

কপোতাক্ষ নদ

মূলভাব: স্মৃতিকাতরতার আবরণে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে এ কবিতায়।

অন্যান্য যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে:

১. স্মৃতিকাতরতা

২. গভীর দেশপ্রেম

৩. অপরাধবোধ বা আত্মোপলব্ধি

৪. বাংলা ও বাঙালির সঙ্গে মিলনের বাসনা

স্মৃতিকাতরতা

আলোচ্য ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবি তাঁর স্মৃতিকাতরতার আবরণে দেশপ্রেম প্রকাশ করেছেন। ইংরেজি সাহিত্য ও ইংরেজদের জীবনাচরণের প্রতি প্রবল আকর্ষণের কারণে মধুসূদন দত্ত স্বদেশ, স্বজাতি, স্বধর্ম, স্বভাষা ত্যাগ করে বিদেশ পাড়ি জমান। কিন্তু কিছুদিন পরই তাঁর স্বপ্নভঙ্গ হয়। তিনি আত্মোপলব্ধি করতে থাকেন—কত বড় ভুলই তিনি করেছেন। ‘ভ্রান্তির ছলনে’ অর্থাৎ ভুলের ছলনায় পড়ে তিনি কত বড় ভুল করেছেন। তখন তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি মনে পড়তে থাকে। সুদূর ফ্রান্সের সিন নদীর তীরে বসে কবি তাঁর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের কথা মনে করে আবেগতাড়িত হন। অর্থাৎ কবি স্মৃতিকাতর হয়ে বলেন, ‘সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে/সতত, তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।’ অর্থাৎ বিদেশের সেই নিরিবিলি পরিবেশে কবির কাছে মনে পড়ে শৈশবের সেই কপোতাক্ষকে। অন্ধকার গভীর রাতে লোকজন যেমন ঘুমের ঘোরে বিভিন্ন মায়ামন্ত্র ধ্বনি শোনে, কবিও তেমনি বিভিন্ন আওয়াজের মধ্যে কানে সারাক্ষণ কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনিই শুনতে পান।

বিজ্ঞাপন

অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কবির অত্যুজ্জ্বল (অতি+উজ্জ্বল) দেশপ্রেম বা গভীর দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। কপোতাক্ষ নদের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে কবি তাঁর এ দেশপ্রেম প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ শৈশবের কপোতাক্ষ নদের জলের ধারাকে কবি মায়ের বুকের দুধের ধারার সঙ্গে তুলনা করেছেন। মাতৃস্তন পান করে আমরা যেমন পরিপুষ্টি লাভ করি, আমাদের বয়োবৃদ্ধি হয়, তেমনি কবি কপোতাক্ষের জল পান করে, অর্থাৎ এ দেশের প্রকৃতি, আলো-বাতাস, মানুষ এদের পরম স্নেহ-ভালোবাসার মাধ্যমে মাইকেল মধুসূদন দত্তের আজকের এই বয়োবৃদ্ধি। তাই কবি এ দেশ, এ দেশের মানুষ ইত্যাদির প্রতি যারপরনাই কৃতজ্ঞ। কবির ভাষায়, ‘বহুদেশ দেখিয়াছি বহু নদ-দলে, কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে,’ অর্থাৎ পৃথিবীর বহু দেশের বহু নদ-নদী কবি দেখেছেন কিন্তু কোনো দেশের নদীর জল তাঁর স্নেহের তৃষ্ণা মেটাতে পারেনি।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন