default-image

কপোতাক্ষ নদ

সনেট হিসেবে কপোতাক্ষ নদের সার্থকতা:

প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচকদের মতে, সনেট হচ্ছে বিশেষ রীতি ও পদ্ধতির গীতি কবিতা। যেখানে একটিমাত্র চিন্তা, একটিমাত্র ভাব, কিংবা একমাত্র কবি কল্পিত ঘটনা বা বিষয়বস্তু বিশেষ ছন্দরীতির মাধ্যমে ১৪ চরণে পদবন্ধ হয়ে পাঠকচিত্তে এক স্বপ্নিল অনুরণন জাগায় তাকে ‘সনেট’ বলে। ‘কপোতাক্ষ নদ’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের অত্যন্ত শিল্প-সফল একটি সনেট বা চতুর্দশপদী কবিতা। যেখানে নদীর স্বরূপের চেয়ে একটি ভাব-রূপই স্পষ্ট। পাশ্চাত্য সাহিত্য ও জীবনাচরণের প্রতি দুর্লঙ্ঘ প্রলুব্ধতায় স্বদেশ, স্বভাষা ও স্বজাতি পরিত্যাগ করে মধুসূদন দত্ত যে ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছিলেন, তারই নির্মোহ উপলব্ধি বাঙ্‌ময় হয়েছে আলোচ্য কবিতায়। ফলে বিষয়গত দিক থেকে সনেটটি অত্যন্ত গভীর ভাবের দ্যোতনাসম্পন্ন। অর্থাৎ এখানে ১৪ চরণের মাধ্যমে কবি তাঁর সুগভীর দেশপ্রেম প্রকাশ করেছেন। প্রাকরণিক দিক বা গঠনগত দিক বা আঙ্গিকগত দিক থেকে এটি ১৪ চরণ বিশিষ্ট এবং ‘সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে’ থেকে ‘দুগ্ধ স্রোতরূপী তুমি জন্মভূমি স্তনে’ পর্যন্ত অষ্টক এবং ‘আর কি হে হবে দেখা? যত দিন যাবে’ থেকে ‘লইছে যে তব নাম বঙ্গের সঙ্গীতে’ পর্যন্ত ষষ্ঠকে বিভাজিত। অষ্টকে কবি স্মৃতিকাতরতা মাধ্যমে তাঁর প্রবাসজীবনের বিরহ-বেদনার কথা প্রকাশ করেছেন এবং দেশমাতৃকার সৌন্দর্যের কথা বর্ণনা করেছেন। আবার আমরা জানি ষষ্ঠকে সাধারণত কবির ঐকান্তিক কোনো কামনা-বাসনা প্রকাশ পায় অর্থাৎ কবির একান্ত চাওয়া-পাওয়ার প্রকাশ ঘটে ষষ্ঠকে। আলোচ্য ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতাতেও ঠিক তাই ঘটেছে। কবি মধুসূদন তাঁর কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। তিনি আবার এ দেশে ফিরতে চান। কিন্তু তাঁর মনে দ্বিধা-সংশয়, দেশবাসী তাঁকে আবার আগের মতো গ্রহণ করবে কি না। তাই তিনি কপোতাক্ষের কাছে মিনতির মাধ্যমে বাংলা ও বাঙালির সঙ্গে মিলনের বাসনা প্রকাশ করেছেন। আমরা জানি সনেটে বিশেষ ছন্দরীতি ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ অষ্টকে সাধারণত কখকখ কখকখ বা কখখক কখখক এবং ষষ্ঠকে গঘগ গঘগ বা গঘঙ গঘঙ। আলোচ্য কবিতায় ছন্দমিল হলো—কখকখ কখখক গগগ ঘগঘ। সামগ্রিক বিবেচনায় কপোতাক্ষ নদ দেশপ্রেমমূলক অত্যন্ত সার্থক এক সনেট। ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের আত্মোপলব্ধিজনিত প্রগাঢ় স্বদেশপ্রেম যুগ-যুগান্তরের সীমানা পেরিয়ে বাঙালি হৃদয়ে জাগরূক থাকবে।

বিজ্ঞাপন

এবার এই কবিতার ভাবের আলোকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নের উদ্দীপক লক্ষ করো এবং তার যথার্থ উত্তর অনুশীলন করবে।

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে

সাধিতে মনের সাধ ঘটে যদি পরমাদ,

মধুহীন করো না গো তব মন: কোকোনদে।

প্রশ্ন:

ক. ‘কপোতাক্ষ নদ’ কোন জাতীয়
কবিতা?

খ. মাইকেল মধুসূদন দত্ত কেন ভ্রান্তির ছলনায় তাঁর কান জুড়ান?

গ.‘রেখো, মা, দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে’—এ পঙ্‌ক্তিতে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার যে ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে, তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ভাবগত সাদৃশ্য থাকলেও প্রকরণগত দিক থেকে উদ্দীপকটি ‘কপোতাক্ষ নদ’ থেকে ভিন্নতর—ওই মন্তব্যের সঙ্গে তুমি কি একমত? এর পক্ষে যুক্তি দাও।

বাকি অংশ ছাপা হবে আগামীকাল

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন