default-image

আমার পরিচয়

হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীস্টান

অবান্তর আজ এ প্রশ্ন

আমরা সবাই বাঙালি

বাংলা মায়ের সন্তান

এ কথাই অগ্রগণ্য।

আমাদের পরিচয় ধর্মে নয়

কর্মে পরিচয় পাই—

আমরা সবাই মানুষ

এটাই আমাদের শেষ পরিচয়।

ক. বাংলাদেশে শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ কে?

খ. ‘আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকটি ‘আমার পরিচয়’ কবিতার কোন দিকটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘আমরা সবাই মানুষ এটাই আমাদের শেষ পরিচয়।’—পঙ্‌িক্তটি ‘আমার পরিচয়’ কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ক. বাংলাদেশে শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।

খ. ‘আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে’ বলতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণকে বোঝানো হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি জাতি যখন শক্তিশালী পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছে তখন তারা ‘জয়বাংলা’ ধ্বনিতে সারা বাংলাদেশ প্রকম্পিত করেছিল। সারা দেশের মানুষ এই ধ্বনিতে সাহস ও শক্তি সঞ্চয় করে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

গ. উদ্দীপকটি ‘আমার পরিচয়’ কবিতার বাঙালির অসাম্প্রদায়িক ঐক্যচেতনার দিকটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

বিজ্ঞাপন

ধর্ম-বর্ণের সব পরিচয় ভুলে বাঙালিরা চিরকাল একটি পরিচয় ধারণ করে এসেছে—তারা সবাই বাঙালি। এই ‘বাঙালি’ পরিচয়টিকে কেন্দ্র করে চিরকাল বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলেছে। ‘আমার পরিচয়’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, বাঙালির নানা রকম ঐতিহ্যগত পরিচয়। বাঙালি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ঐক্যচেতনাকে ধারণ করে আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। হিন্দু-মুসলিম বা ধর্মের পরিচয় এখানে কখনো বড় হয়ে উঠতে পারেনি। সবাই বাঙালি। আর এই চেতনায় কেন্দ্রীভূত থেকেছে সমগ্র জাতি। বাঙালি হিসেবেই তাদের দীর্ঘ পথ পরিক্রমা ও সাফল্য। বাঙালি চিরকাল মানুষকে সবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। মানবতাই তাদের প্রধান মন্ত্র। এই মানবতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েই বাঙালি আজীবন সমতা বজায় রেখে সহাবস্থান করেছে। উদ্দীপকেও দেখা যায়, বাঙালি জাত-ধর্মের বিভেদ তুচ্ছ করে এক বাঙালি পরিচয়েই বেঁচে আছে। উদ্দীপক ও আমার পরিচয় কবিতায় তাই অসাম্প্রদায়িক ঐক্যচেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে।

ঘ. এখানে মানবতার জয়গান করা হয়েছে। ‘মানুষ’ পরিচয়টি সবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হয়েছে। বাঙালি জাতির বীজমন্ত্র হচ্ছে—‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’ এই পরিচয়টিকে বাঙালির সবচেয়ে বড় পরিচয় এবং জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র পরিচয় এখানে কোনো দিন প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেনি।

উদ্দীপকের পঙ্‌িক্ততে মানুষকে একমাত্র মানুষ পরিচয়েই মূল্যায়িত করা হয়েছে। ধর্ম বা গোত্র কোনো স্থান লাভ করেনি। ‘আমার পরিচয়’ কবিতায়ও লক্ষ করি ঐতিহ্য ও গৌরবের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির হাজার বছরের সফল পথচলার মূল প্রেরণা মানুষ পরিচয়ে সবার ঐক্যবদ্ধতা। আর কোনো পরিচয় এখানে স্থান দখল করতে পারেনি। মানুষকেই সবার ঊর্ধ্বে বিবেচনা করা হয়েছে। মানুষ পরিচয়ে সব বাঙালি চিরদিন একসঙ্গে ছিল, একসঙ্গে আছে এবং একসঙ্গে থাকবে। এই পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে বাঙালি সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সহাবস্থান বজায় রাখবে। তাই কবি বলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’—মানবতার এই মন্ত্রেই বাঙালি চিরকাল ঐক্যবদ্ধ থেকেছে এবং থাকবে।

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন