default-image

বঙ্গবাণী

ঘ. ‘তোর সাথে কথা বলে সুখ নাই’—রফিকের মায়ের এ উক্তি কবি আবদুল হাকিমের মানসিকতাকেই সমর্থন করে। আর এ উক্তির মাধ্যমে নিজ ভাষার প্রতি রফিকের মায়ের গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে।

বস্তুত মাতৃভাষা আমাদের অনুভূতি প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। আমাদের মনের বহু বর্ণিল অনুভূতি নিঃসীম আকাশে পাখা মেলতে পারে মাতৃভাষার মাধ্যমেই। সে অনুভূতিগুলো অনায়াসে অন্যের কাছে বাঙ্‌ময় হয় মাতৃভাষাতেই। কিন্তু অন্য ভাষায় সহজাত সে বোধ ও বিশ্বাস প্রকাশ দুরূহ এবং অন্যের কাছেও তা দুর্বোধ্য। দেশের সাধারণ মানুষের মতো রফিকের মা-ও বিদেশি ভাষা বোঝেন না। তাই তাঁর ছেলে তাঁর সঙ্গে বাংলা ভাষাতেই কথা বলুক, তিনি তা-ই আশা করেন।

রফিক কথাবার্তায়, চালচলনে এবং আচার-আচরণে সম্পূর্ণভাবে ইংরেজির প্রতি মোহাচ্ছন্ন এবং মাতৃভাষার প্রতি উন্নাসিক। মায়ের সঙ্গেও সে ইংরেজিতে কথা বলতে চায়। কিন্তু মা তা বুঝতে পারেন না। তাই রফিকের এ আচরণে মা মারাত্মকভাবে হতাশ হয়ে বলেছেন, ‘তোর সাথে কথা বলে সুখ নাই।’ আসলে এ উক্তির মাধ্যমে রফিকের মায়ের মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং মাতৃভাষা বিদ্বেষীদের প্রতি শ্লেষাত্মক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘বঙ্গবাণী’ কবিতায় আবদুল হাকিম বলেছেন, দেশি ভাষা তথা মাতৃভাষা সবার বোধগম্য। সাধারণ কথোপকথন হোক, আর কাব্যসাধনা হোক, মাতৃভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করলে তা অনায়াসে প্রকাশ করা যায় এবং অন্যের কাছে তা সহজবোধ্যও হয়। কবির মতে, স্রষ্টা সর্বজ্ঞ এবং সর্বজ্ঞাত। তাঁকে ডাকার জন্য বিশেষ কোনো ভাষার দরকার নেই। তিনি সব ভাষাই বোঝেন। আর প্রত্যেক ভাষাই স্ব স্ব ভাষাভাষীদের কাছে পবিত্র আমানত। তাই তো কবি আরবি-ফারসির প্রতি কোনো রাগ বা বিদ্বেষ পোষণ করেননি। তবে মাতৃভাষা অবজ্ঞাকারীদের প্রতি প্রবল ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। তাদের জন্মপরিচয় সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছেন। আর এ মানসিকতাতেই আবদুল হাকিমের স্বদেশ ও স্বভাষার প্রতি পরম মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে। উপর্যুক্ত আলোচনায় আমরা রফিকের মায়ের উক্তিতেও একই মানসিকতার প্রতিফলন দেখতে পাই।

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন