সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলা ১ম পত্রের ‘জন্মভূমি’ কবিতা থেকে একটি সৃজনশীল নমুনা প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব।

# নিচের অনুচ্ছেদটুকু পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
আমাদের দেশ ধন-সম্পদ ও ফুল-ফসলে পরিপূর্ণ। এ দেশ যেন স্বপ্ন দিয়ে তৈরি ও স্মৃতির দেয়াল দিয়ে ঘেরা। এমন সুন্দর দেশ পৃথিবীর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। জন্মভূমির ঐশ্বর্যে আমরা মুগ্ধ। জন্মভূমির ছায়ায় সবাই শীতল হয়। এই জন্মভূমিতে জন্মগ্রহণ করে আমরা পরিতৃপ্ত এবং শেষ আশা এখানেই আমরা চোখ বুঝি।
প্রশ্ন:
ক. ‘জন্মভূমি’ কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
খ. কবি জন্মভূমির ছায়ায় অঙ্গ জুড়াতে চান কেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে জন্মভূমি কবিতার কোন দিকটির মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘এই জন্মভূমিতে জন্মগ্রহণ করে আমরা পরিতৃপ্ত’—উক্তিটি জন্মভূমি কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর-ক.
জন্মভূমি কবিতার লেখক নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
উত্তর-খ.
কবি তাঁর মাকে যেমন ভালোবাসেন, তেমনি এ দেশকেও গভীরভাবে ভালোবাসেন। মাতৃভূমির স্নেহছায়ায় তিনি যে সুখ অনুভব করেছেন তা অতুলনীয়। জন্মভূমির প্রতিটি জিনিসই কবিকে আকুল করে তোলে। এই দেশের মাটিতে জন্মগ্রহণ করে এর সূর্যালোকে ও বাতাসে দেহমন কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে। তাই কবি এই জন্মভূমির ছায়ায় অঙ্গ জুড়াতে চান।
উত্তর-গ.
উদ্দীপকে জন্মভূমির প্রতি যে আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে, তার একই রূপ আমরা জন্মভূমি কবিতায় দেখতে পাই। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মভূমির প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ পেয়েছে জন্মভূমি কবিতায়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জন্মভূমির ঐশ্বর্যে আমরা মুগ্ধ। জন্মভূমি কবিতায়ও কবি জন্মভূমির মনোহর সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যে মুগ্ধ। জন্মভূমির সূর্যের আলোই প্রথম তাঁর চোখ জুড়িয়েছে। কবি এ দেশের সূর্যের আলো চোখে নিয়ে এ দেশের মাটিতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হতে চান। এ দেশে রয়েছে একটির পর আরেকটি ঘন বন। ঘন বনের এ দৃশ্য কবিকে মুগ্ধ করে। বনের ফুলের গন্ধ কবিকে আকুল করে তোলে। রাতের আকাশে চাঁদের জোছনা কবিকে বিমোহিত করে। কবি এ মাতৃভূমির স্নেহছায়ায় যে সুখ ও শান্তি পান, তা অতুলনীয়। অনুচ্ছেদে যেভাবে জন্মভূমির স্নেহছায়ায় শীতল হওয়ার কথা ব্যক্ত হয়েছে, তেমনি জন্মভূমি কবিতায়ও কবি সে রকম ইচ্ছার কথা বলেছেন। সবশেষে অনুচ্ছেদের শেষ বক্তব্য এবং কবির অন্তিম ইচ্ছা একই।
উত্তর-ঘ.
জন্মভূমি আমাদের মায়ের মতো। জন্মভূমি আমাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। আমরা জন্মভূমিকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি। এ ভালোবাসায় কোনো কৃত্রিমতা নেই। প্রচুর ধনরত্ন না থাকলেও জন্মভূমি ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ। এ দেশের প্রকৃতি বিচিত্র রূপ ও বৈচিত্রে্যর ভান্ডার। এর বিশাল আকাশ হৃদয়ে দেয় উদারতা, বাগানের ফুল সুগন্ধে আকুল করে তোলে।
‘জন্মভূমি’ কবিতায় দেশের প্রতি কবির গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এ দেশে জন্মগ্রহণ করে কবির জীবন সার্থক হয়েছে। সুখ, শান্তি ও স্নেহছায়ার ডোরে কবির সঙ্গে এ দেশের আত্মার ব®ন গড়ে উঠেছে। প্রিয় জন্মভূমির বিচিত্র সৌন্দর্যের উৎস হচ্ছে ভোরের সূর্য, রাতের আকাশে চাঁদের আলো, বাগানের ফুল। এ দেশটি যেন স্বপ্ন দিয়ে তৈরি। এমন সুন্দর দেশ পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই কবি এ দেশের মাটিতেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান। কারণ, জন্মভূমিকে তিনি পবিত্র স্বর্গ মনে করেন।
শেষে বলা যায়, আমরাও এ দেশে জন্মগ্রহণ করে নিজেদের জীবনকে সার্থক মনে করি। আমাদের শেষ আশা মৃত্যুর পর এ দেশের সূর্যের আলো চোখে নিয়ে এ দেশের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়া।
সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন