সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের বাংলা ১ম পত্রের ‘ছবির রং’ গল্প থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব।

# শিমু প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে দাদার বাড়িতে বেড়াতে যায়। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবছর এখানে মেলা বসে। এবার মেলা থেকে শিমু আমাদের লোক শিল্পের ঐতিহ্য বহনকারী হাতপাখা, মাটির পুতুল ও কতগুলো শখের হাঁড়ি কিনেছিল। তার দাদার বাড়িতে ফলের বাগানে অনেক আম, জাম ও লিচুগাছ রয়েছে। সে বাড়ির অন্য ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সারা দিন ঘুরে বেড়ায় এবং মজা করে।
প্রশ্ন:
ক. বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস কোন ঋতু?
খ. বাংলাদেশকে ষড়্ঋতুর দেশ বলা হয় কেন?
গ. শিমু দাদার বাড়িতে যখন বেড়াতে গিয়েছিল, তখনকার প্রকৃতির বর্ণনা দাও।
ঘ. ‘উদ্দীপকের লোক শিল্প আমাদের ঐতিহ্য’—উদ্দীপক ও ‘ছবির রং’ গল্পের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর-ক:
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস গ্রীষ্ম ঋতু।
উত্তর-খ:
ষড়্ শব্দের অর্থ ছয়। আমাদের দেশের প্রাকৃতিক রূপবৈচিত্র্য বছরে ছয়বার নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিবর্তন হওয়ার জন্য এ দেশকে ষড়্ঋতুর দেশ অর্থাৎ, ছয় ঋতুর দেশ বলা হয়। প্রতিবার এই পরিবর্তনের ধাপকে আলাদা নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবছর নিয়মিত ছয়বার পরিবর্তনের এই সময়কে বিবেচনা করায় বাংলাদেশকে ষড়্ঋতুর দেশ বলা হয়।
উত্তর-গ:
শিমু তার দাদার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল পয়লা বৈশাখে। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ এই দুই মাস গ্রীষ্মকাল, অর্থাৎ সে তার দাদার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল গ্রীষ্মকালে। বাংলাদেশের ছয় ঋতুর মধ্যে গ্রীষ্ম একটি আলাদা বৈশিষ্ট্যধারী ঋতু।
প্রচণ্ড রোদের জন্য গ্রীষ্মকালে গাছের সবুজ রং বিবর্ণ হয়ে যায়। তখন আবহাওয়া সাধারণত শুষ্ক ও গরম থাকে। বৃষ্টিপাতও তুলনামূলক কম হয়। সূর্যের প্রচণ্ড তাপে আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে যায়। আকাশে কালো মেঘের ছোটাছুটি চলে। বজ্রপাতে আলোর ঝলকানি আর লাল, কমলা, হলুদ ইত্যাদি বাহারি রঙের ফল এই ঋতুকে বর্ণবৈচিত্রে্য ভরিয়ে তোলে। বাহারি রঙের ফলগুলো স্বাদেও খুব মিষ্টি হয়। এ ঋতুতে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। এ সময় কালবৈশাখীও হয়। এই ঝড়ের ভয়াবহ থাবায় বিবর্ণ ও অস্থিতিশীল হয়ে যায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
উত্তর-ঘ:
উদ্দীপকে যেমন বাংলাদেশের লোকশিল্পের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি চিত্রশিল্পী হাশেম খান রচিত ‘ছবির রং’ গল্পে গ্রাম্য লোকশিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মের প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে।
গ্রামীণ সমাজে লোকশিল্পীরা নানা রকম জিনিস তৈরি করেন। মাটির পুতুল, কাঠের পুতুল, তুলোর পুতুল, সোনার পুতুল, লক্ষ্মী সরা, শখের হাঁড়ি, নকশিকাঁথাসহ নানা জিনিস তৈরি করেন। এসব জিনিসে উজ্জ্বল ও সতেজ রঙের ব্যবহার শিল্পকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
উদ্দীপকে শিমুর দাদার বাড়িতে বৈশাখী মেলায়ও পাওয়া যায় গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের দ্রব্যাদি। মেলায় যেসব জিনিস পাওয়া যায়, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পুতুল, শীতল পাটি, নকশিকাঁথা, হাতপাখা ইত্যাদি।
এগুলো আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের গর্ব। এ দেশের মানুষের মন যে শিল্পীর মন, এগুলো তার পরিচয় বহন করে। উদ্দীপক ও ‘ছবির রং’ রচনায় বিষয়টি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
সহকারী শিক্ষক
ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক কলেজ, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন