default-image

অধ্যায় ৪

প্রশ্ন: সমাস কাকে বলে? সমাসের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: সমাসের সংজ্ঞা: পরস্পর অর্থসংগতি বিশিষ্ট দুই বা ততোধিক পদের একপদে পরিণত হওয়াকে সমাস বলে।

সমাসের প্রয়োজনীয়তা: সমাসের বহুবিধ প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নিচে পর্যায়ক্রমে তা দেওয়া হলো:

১. ভাষা সংক্ষিপ্তকরণ: সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপকরণ। অর্থাৎ সমাস বাক্যের সংক্ষেপ সাধন করে। যেমন ‘যাদের অন্ন নেই, তারাই দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়’—এ বৃহৎ বাক্যটিকে সমাস সাধিত পদ ব্যবহার করে আমরা বলতে পারি, নিরন্নরা প্রতিদ্বারে ঘুরে বেড়ায়। অনুরূপ— ‘মাস্টার সাহেবের ঘরে আশ্রিত জামাই বাষ্প দ্বারা চালিত যানে ঢাকা গেলেন’; না বলে সংক্ষিপ্তাকারে আমরা বলতে পারি, মাস্টার সাহেবের ঘরজামাই বাষ্পযানে ঢাকা গেলেন।

২. নতুন শব্দ গঠন: সমাস নতুন শব্দ গঠনের একটি অভিনব পদ্ধতি। যেমন—জায়া ও পতি দুটো শব্দের মিলনে সমাসসাধিত নতুন শব্দ দম্পতি।

৩. ভাষার শ্রুতিমধুরতা বৃদ্ধি: সমাস ভাষাকে শ্রুতিমধুর, প্রাঞ্জল ও ছন্দোময় করে তোলে। যেমন—‘রাজা সিংহ চিহ্নিত আসনে বসে আছেন’ না বলে, ‘রাজা সিংহাসনে বসে আছেন’ বললে বাক্যটি সুন্দর শোনায়।

বিজ্ঞাপন

৪. বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ গঠন: বহুব্রীহি
সমাস নিষ্পন্ন পদ সর্বদা বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ক) পীত অম্বর যাহার= পীতাম্বর (কৃষ্ণ) বিশেষণ। খ) ন অতি দীর্ঘ=নাতিদীর্ঘ (বিশেষণ)। গ) হাতে পরার ঘড়ি=হাতঘড়ি (বিশেষ্য)।

৫. তুলনাকরণ: দুই পদের মধ্যে তুলনা বোঝাতেও সমাস ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যেমন:

বিষাদ রূপ সিন্ধু=বিষাদসিন্ধু।

প্রেম রূপ দরিয়া=প্রেমদরিয়া।

৬. সহচর শব্দ গঠন: সমাসের মাধ্যমে সহচর শব্দ গঠিত হয়। যেমন: সোনা ও রুপা=সোনারূপা।

প্রশ্ন: প্রত্যয় কাকে বলে? প্রত্যয় কত প্রকার কী কী?

উত্তর: প্রত্যয়: প্রকৃতির শেষে যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাদের প্রত্যয় বলে। যেমন: চল + অন্ত = চলন্ত,
ঢাকা + আই = ঢাকাই।

প্রত্যয় দুই প্রকার।

যথা: ১. কৃৎ প্রত্যয় ও ২. তদ্ধিত প্রত্যয়

কৃৎ প্রত্যয়: ক্রিয়া প্রকৃতি বা ধাতুর শেষে যে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন: নাচ্ + অন = নাচন।

তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দ বা নামপ্রকৃতির শেষে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে নতুন শব্দ গঠন করে, তাকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। যেমন: ঢাকা+আই= ঢাকাই।

বাকি অংশ ছাপা হবে আগামীকাল

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন