default-image

অধ্যায় ৪

প্রশ্ন: উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গ কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণ দাও।

উত্তর: উপসর্গের সংজ্ঞা: যেসব বর্ণ বা বর্ণের সমষ্টি ধাতু এবং শব্দের আগে বসে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ কিংবা সংকোচন ঘটায়, তাদের বলা হয় উপসর্গ। যেমন: প্র, পরা, পরি, নির ইত্যাদি।

উপসর্গের শ্রেণিবিভাগ: বাংলা ভাষায় উপসর্গ তিন প্রকার। যথা:

১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ

২. সংস্কৃত উপসর্গ ও

৩. বিদেশি উপসর্গ।

১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ: খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি। যথা: অ, অনা, অজ, অঘা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, উন, কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

প্রয়োগ: অ—অবহেলা, অকাজ।

কু—কুকথা, কুকাজ।

২. সংস্কৃত উপসর্গ: সংস্কৃত উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অব, অনু, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

প্রয়োগ: প্র—প্রচার, প্রসার।

উপ—উপদেশ, উপকার।

৩. বিদেশি উপসর্গ: বাংলা ভাষায় বহু বিদেশি উপসর্গ রয়েছে। যেমন: বে, বর, বদ, ফি, গর, নিম, দর, কাম ইত্যাদি।

প্রয়োগ: বে—বেয়াদব, বেসামাল।

বদ—বদলোক, বদনাম।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: উপসর্গ কাকে বলে? উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।

উত্তর: উপসর্গ: যেসব সুনির্দিষ্ট বর্ণ বা বর্ণের সমষ্টি ধাতু ও শব্দের আগে বসে সাধিত শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ কিংবা সংকোচন ঘটায়, তাদের বলা হয় উপসর্গ। যেমন: প্র, পরা, পরি, নির ইত্যাদি।

উপসর্গের প্রয়োজনীয়তা

শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়: উপসর্গের মাধ্যমে যেহেতু নতুন নতুন শব্দ সৃষ্টি হয়, ফলে ভাষার শব্দসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ভাষার শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়।

ব্যঞ্জনা বাড়ে: উপসর্গের ব্যবহারে শব্দের ভাব-ব্যঞ্জনা অনেক গুণ বেড়ে যায়। যেমন: ‘জয়’ বললে শব্দটির যতটা ভাব প্রকাশিত হয়, পক্ষান্তরে ‘বিজয়’ বললে শব্দটির আবেদন অনেকটাই বেড়ে যায়।

প্রকাশক্ষমতা বাড়ে: উপসর্গের ব্যবহারে ভাষার প্রকাশ ক্ষমতা বেড়ে যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্ভবত এ কারণেই উপসর্গের তুলনা করেছেন মাছের পাখনার সঙ্গে। কারণ, পাখনার সাহায্যে মাছ যেমন ডান-বাঁয়ে বা সামনে-পেছনে চলার জন্য বিশেষ গতি লাভ করে, ঠিক তেমনি উপসর্গের মাধ্যমে শব্দ তার ব্যবহারিক ক্ষেত্রের বিস্তৃতি ঘটিয়ে থাকে।

অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে: নির্দিষ্ট কোনো শব্দের আগে উপসর্গ যোগ করলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট শব্দটির অর্থের সম্প্রসারণ ঘটে। ফলে শব্দটির প্রচলিত অর্থের আবেদনে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা। যেমন: ‘তাপ’ থেকে হয় ‘প্রতাপ’ কিংবা পরিতাপ ইত্যাদি।

পরিভাষা সৃষ্টিতে: অনেক সময় উপসর্গের মাধ্যমে পরিভাষা ও প্রণয়ন করা হয়। যেমন: Conductor-পরিবাহী, Requisition-অধিগ্রহণ ইত্যাদি উপসর্গের উপযুক্ত গুণাবলি বিবেচনা করে অনেক বৈয়াকরণিক মনে করেন, ‘উপসর্গ কেবল প্রয়োজনীয় নয়, ভাষার পক্ষে পরিহার্য।’

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন