বাংলা ২য় পত্র

ভাব-সম্প্রসারণ 
প্রিয় শিক্ষার্থী, ভাবসম্প্রসারণ তিন প্যারা করে লেখাই ভালো। ভাবসম্প্রসারণগুলো মূল বইকে অনুসরণ করে লেখা হয়েছে।
৫।
জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে
চিরস্থির কবে নীর হায়রে জীবন নদে?
মানুষ মরণশীল। মানুষ অমর নয়। মৃত্যুই জীবনের অনিবার্য পরিণতি। যত সাধু, সন্ন্যাসী, মহাপুরুষই হোক না কেন, মরণের এই অনিবার্যতাকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না।
একদিন সবাইকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মৃৃত্যুই জীবনের অনিবার্য পরিণতি। মৃত্যুকে ঠেকানোর ক্ষমতা কোনো মানুষের নেই। মানবজীবন নদীর জলের মতো প্রবহমান। নদীর জোয়ার-ভাটার মতো মানুষের জীবনেও দুখ-দুঃখ, উত্থান-পতন আছে। জাগতিক নিয়মেই জীবন চলে। এটাই প্রকৃতির বিধান। তাই মৃত্যুকে অযথা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং এই সত্যকে মেনে নিয়ে মানবজীবনকে সার্থক করে তুলতে হবে। কর্মগুণে সমাজ-সভ্যতায় নিজের কীর্তির চিহ্ন রেখে যেতে হবে। নিষ্ফল জীবনের অধিকারী মানুষকে কেউ মনে রাখে না। কিন্তু কৃতি লোকের গৌরব জীবনের সীমা অতিক্রম করে অমরতা ঘোষণা করে। মানুষের শরীরের মৃত্যু হয়। কিন্তু তার জীবনের পুণ্যকর্ম পৃথিবীতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে। নশ্বর মৃত্যুও তখন অবিনশ্বর হয়ে ওঠে।
শারীরিক মৃত্যুতে মানুষ মূলত হারিয়ে যায়, কিন্তু মহাকীর্তির মাধ্যমে মানুষ অনন্তকাল মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারে।
৬।
বাঙালির ইতিহাস এ দেশের মানুষের রক্ত দিয়ে
রজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।
রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ইতিহাস বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের ইতিহাস । বাঙালি জাতি কারও অধীনতা কোনো দিন মেনে নেয়নি। অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির অবস্থান ছিল চিরকালই বজ্র কঠিন।
বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের ইতিহাস অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ইতিহাস। বাঙালি জাতি কারও অধীনতা কোনো দিন মেনে নেয়নি। অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির অবস্থান চিরকালই ছিল বজ্রকঠিন। তাই এখানে বারবার বিদ্রোহের আগুন জ্বলেছে। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের জাঁতাকলে প্রায় ২০০ বছর ধরে নিষ্পেষিত হয়েছে এ জাতি। ১৯৪৭-এ সেই জাঁতাকল থেকে এ উপমহাদেশের মানুষ মুক্তি পেলেও বাঙালির মুক্তি মেলেনি। এ বন্ধন বাঙালি মেনেও নেয়নি। ১৯৫২ সালের রক্তঝরা ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় মুক্তিসংগ্রামের দিকে। ১৯৫৮ ও ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানি সামরিক শাসক বাংলার দামাল ছেলেদের ওপর গুলি চালায়। গুলি করে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানেও। বারবার বাঙালি বুকের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। তবুও তাদের স্বাধীনতার দাবিকে ঠেকাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তানি জান্তা-বাহিনী। তাই তারা ১৯৭১ সালে বাঙালির ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানে। তখন বাংলার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তি-সংগ্রামে। লাখ লাখ মানুষের বুকের রক্তে বাংলার মাটি লাল হয়। অবশেষে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
বাংলার মানুষ চিরদিনই মুক্তিপাগল তাই দেশের সংকটে তারা বুকের রক্ত দিতেও কার্পণ্য করেনি। রাজপথ রঞ্জিত করে তারা অর্জন করেছে তাদের প্রিয় স্বাধীনতা।
# পরবর্তী অংশ ছাপা হবে আগামীকাল
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা