বাংলা
জলপরী ও কাঠুরের গল্পপ্রিয় শিক্ষার্থীরা, গতকালের পর আজ বাংলা বিষয়ের ‘জলপরী ও কাঠুরের গল্প’ গল্পটি থেকে নমুনা প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব। প্রশ্ন: কাঠুরিয়ার দিন কীভাবে চলত?উত্তর: গল্পের রাজা ঈশপ রচিত ‘জলপরী ও কাঠুরের গল্প’টিতে একজন কাঠুরিয়ার জীবনকাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে। কাঠুরিয়া এক বনে রোজ কাঠ কাটতে যেত। দৈনিক কাঠ বিক্রি করে যা রোজগার করত, তা-ই দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পরে কাঠুরিয়ার দিন চলত।প্রশ্ন: জলপরী কাঠুরিয়াকে কী বলল?উত্তর: একদিন কাঠুরিয়া নদীর ধারে কাঠ কাটতে গেল। সেখানে গিয়ে কুড়াল দিয়ে গাছে ঘা মারার সঙ্গে সঙ্গে হাত ফসকে তার কুড়ালটি কুমিরে ভরা খরস্রোতা নদীতে পড়ে গেল। নিরুপায় হয়ে কাঠুরিয়া সেই গাছের গোড়ায় বসে কাঁদতে লাগল। সে এতই গরিব ছিল যে তার আবার একটা কুড়াল কেনার মতো সংগতি ছিল না। তাই কী উপায় করবে গাছের গোড়ায় বসে বসে সে ভাবতে লাগল। যত ভাবে ততই তার চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এমনি করে কিছুক্ষণ কেটে যাওয়ার পর হঠাৎ এক জলপরী নদীর মধ্য থেকে উঠে দাঁড়িয়ে কাঠুরিয়ার কাছে তার কান্নার কারণ জানতে চাইল। কাঠুরিয়া জলপরীকে জানাল, সে বড় গরিব, তার কুড়ালটা পানিতে পড়ে গেছে। তাই সে কাঁদছে। সব শুনে জলপরী কাঠুরিয়াকে বলল, আচ্ছা তোমার কুড়াল এনে দিচ্ছি, তুমি কেঁদো না।প্রশ্ন: কাঠুরিয়ার সততা দেখে জলপরী কী করল?উত্তর: গল্পে বর্ণিত কাঠুরিয়া তার রোজগারের একমাত্র সম্বল কুড়ালটি নদীর গভীর পানিতে হারিয়ে গাছের গোড়ায় বসে কাঁদছিল। কাঠুরিয়ার কান্না দেখে জলপরী তাকে তার কুড়ালটি এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নদীতে ডুব দেয়। জলপরী একে একে একটি সোনার কুড়াল ও একটি রুপার কুড়াল পানির মধ্য থেকে এনে কাঠুরিয়াকে দেখাল। কাঠুরিয়া বিশেষভাবে পরীক্ষা করে জলপরীকে জানায়, এই সোনার কুড়াল, রুপার কুড়াল কোনোটিই তার নয়। তারপর জলপরী আবার পানিতে ডুব দিয়ে একটা লোহার কুড়াল এনে তাকে দেখাল। কাঠুরিয়া এতক্ষণ পর নিজের কুড়ালটি চিনতে পেরে সানন্দে স্বীকার করল, এই লোহার কুড়ালটিই তার হারিয়ে যাওয়া কুড়াল। জলপরী কাঠুরিয়ার এই সততা দেখে মুগ্ধ হলো। সে কাঠুরিয়াকে তার নিজের কুড়ালটি তো ফিরিয়ে দিলই, উপরন্তু সোনা ও রুপার কুড়াল দুটিও উপহার দিল। তারপর জলপরী পানির মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।প্রশ্ন: লোভী কাঠুরিয়া কেন হায় হায় করতে লাগল?উত্তর: সৎ কাঠুরিয়ার কাছে তার সুখ ও স্বচ্ছন্দ জীবনের গল্প শোনার পর আরেকজন কাঠুরিয়ার মনে বড় লোভ জন্মাল। লোভী কাঠুরিয়া একদিন চুপি চুপি সেই নদীর ধারে গাছ কাটতে গিয়ে ইচ্ছে করে তার কুড়ালটা পানির মধ্যে ফেলে দিয়ে সেখানে বসে অভিনয় করে কাঁদতে লাগল। তার কান্না শুনে আবার সেই জলপরী সেখানে আবির্ভূত হলো। আগের মতো এবারও জলপরী প্রথমে একটি সোনার কুড়াল তুলে লোভী কাঠুরিয়াকে জিজ্ঞেস করল এটি তার কি না। লোভী কাঠুরিয়া সঙ্গে সঙ্গে ওই সোনার কুড়াল তার বলে দাবি করল। এ রকম মিথ্যাবাদিতায় জলপরীর মন খারাপ হয়ে গেল। সে তৎক্ষণাৎ ডুব দিয়ে চলে গেল পানির গভীরে। আর উঠল না। লোভী কাঠুরিয়া নিজের কপালে নিজে চড় মারতে লাগল। মিথ্যে বলার কারণে তার এই শাস্তি হলো। সোনা ও রুপার কুড়াল পাওয়া তো দূরের কথা, নিজের কুড়ালটিও সে হারাল। তাই লোভী কাঠুরিয়া হায় হায় করতে লাগল।প্রশ্ন: লোভী কাঠুরিয়া কী করল?উত্তর: সৎ কাঠুরিয়ার মুখ থেকে তার অবস্থার পরিবর্তনের গল্প শুনে আরেকজন কাঠুরিয়ার মনে বড় লোভ জন্মাল। লোভী কাঠুরিয়া একদিন চুপি চুপি সেই নদীর ধারে গাছ কাটতে গিয়ে ইচ্ছে করেই তার কুড়ালটা নদীর পানির মধ্যে ফেলে দিল। তারপর সেখানে বসে অভিনয় করে কাঁদতে লাগল।# পরবর্তী অংশ ছাপা হবে আগামীকাল