সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বিজ্ঞানের অধ্যায়-৩ থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

# আরিক বাজারে গিয়ে লক্ষ করল, বিক্রেতারা সবজিতে পানি ছিটাচ্ছেন। কিছু সবজি কিনে পলিথিন ব্যাগে বাসায় নিয়ে দেখল, পলিথিন ব্যাগের নিচে পানি জমে আছে। ব্যাপারগুলো তাকে কৌতূহলী করে তুলল।
প্রশ্ন:
ক. ইমবাইবিশন কী?
খ. অভিস্রবণ বলতে কী বোঝায়?
গ. আরিকের পর্যবেক্ষণকৃত প্রথম ঘটনাটির কারণ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আরিকের পর্যবেক্ষণকৃত দ্বিতীয় ঘটনাটির সঙ্গে উদ্ভিদের জীবনে সংশ্লিষ্ট শারীরবৃত্তীয় ভূমিকার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর-ক.
ইমবাইবিশন: কলয়েড জাতীয় শুকনা বা অর্ধ শুকনা পদার্থের তরল পদার্থ শোষণের বিশেষ প্রক্রিয়াকে ইমবাইবিশন বলা হয়।
উত্তর-খ.
একই দ্রাবক (পানি) বিশিষ্ট দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক থাকলে যে ভৌত প্রক্রিয়ায় দ্রাবক (পানি) কম ঘনত্বের (অধিক পানি) দ্রবণ থেকে অধিক ঘনত্বের (কম পানি) দ্রবণে ব্যাপিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। মাটি থেকে মূলরোমের সাহাযে্য উদ্ভিদ অভিস্রবণ-প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে।
উত্তর-গ.
আরিক সবজি বিক্রেতাকে সবজিতে পানি ছিটাতে দেখেছিল। অন্তঃঅভিস্রবণ-প্রক্রিয়ায় সবজির অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করে। যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লির মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। এখানে সবজির ভেতরের কোষগুলো বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লি হিসেবে কাজ করে থাকে। সবজির ভেতরে থাকে ঘন কোষ রস আর বিক্রেতা যে পানি ছিটান, সে পানির ঘনত্ব কম থাকে। তাই অভিস্রবণ-প্রক্রিয়ায় সবজির ভেতরে পানি প্রবেশ করে। ফলে সবজির সজীবতা অক্ষুণ² থাকে। এতে বিক্রেতা আর্থিকভাবে লাভবান হন। এ জন্য বিক্রেতা সবজিতে পানি ছিটান।
উত্তর-ঘ.
আরিকের পর্যবেক্ষণকৃত ২য় ঘটনাটি প্রস্বেদনের কারণে হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ থেকে বাষ্পাকারে পানি নির্গত করে, তাকে প্রস্বেদন বলে। প্রস্বেদন-প্রক্রিয়া উদ্ভিদের জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
১. পানি ও খাদ্যরস ওপরে ওঠানো: প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম টিস্যুর ভেসেল নালিকার পানি স্তম্ভে যে টান পড়ে, তার ফলেই মূল দিয়ে শোষিত পানি ও খাদ্যরস ওপরে উঠে আসে।
২. পাতায় পানি ও খনিজ লবণ পৌঁছানো: পাতায় সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় পানি, ক্লোরোফিল অণু গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় Mg পৌঁছানোর কাজটিও করে থাকে প্রস্বেদন-প্রক্রিয়া।
৩. পাতায় উপযুক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ ও শক্তি নির্গমন: পাতা সূর্য থেকে প্রতি মিনিটে প্রচুর শক্তি শোষণ করে। এর মাত্র শতকরা এক ভাগ বিভিন্ন বিক্রিয়ায় খরচ হয়। বাকি তাপশক্তি প্রস্বেদনের মাধ্যমে বের হয়ে যায়।
৪. কোষ বিভাজন ও দৈহিক বৃদ্ধি: প্রস্বেদন-প্রক্রিয়া পরোক্ষভাবে অভিস্রবণ-প্রক্রিয়া চালু রাখে এবং সব কোষকে স্ফীত করে রাখে। ফলে কোষ বিভাজন এবং অঙ্গের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।
৫. পাতায় ছত্রাক আক্রমণ রোধ: প্রস্বেদনের ফলে পাতার পৃষ্ঠে কিছু পানিগ্রাহী লবণ জমা হয়। ফলে পাতা বিভিন্ন ছত্রাক আক্রমণ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।
৬. সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় CO2 শোষণ: সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় CO2 পাতার স্পঞ্জি মেসোফিল কোষ ব্যাপনের মাধ্যমে বায়ুকুঠুরির বায়ু থেকে গ্রহণ করে। এ জন্য স্পঞ্জি মেসোফিল কোষের বহিঃপৃষ্ঠ সব সময় ভেজা থাকতে হয়। এখান থেকে পানি গ্রহণ করে বায়ুকুঠুরির বায়ু পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে বের হয়ে প্রস্বেদন ঘটায়।
সুতরাং আরিকের পর্যবেক্ষণকৃত দ্বিতীয় ঘটনাটি (প্রস্বেদন) উদ্ভিদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
প্রভাষক
রূপনগর মডেল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা

বিজ্ঞাপন
শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন